রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার পর ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অনুসন্ধানের সময় বিপ্লব কুমার সরকারের নামে এবং বেনামে ১ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে।
পরে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির জন্য সুপারিশ করেন। কমিশন সেই সুপারিশটি অনুমোদন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব) কর্তৃক পরিচালিত একটি অভিযানে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জে.আই. ইমপেক্স লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি প্রাথমিকভাবে উদঘাটিত হয়েছে।
আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা (পূর্ব) কমিশনারের নির্দেশে এবং যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রিভেন্টিভ দল ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারে অবস্থিত জে.আই. ইমপেক্স লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠান থেকে মূসক ১২.৩ এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক নথিপত্র, বিক্রয় সংক্রান্ত দলিল, টালি খাতা, রেজিস্টার, ট্রাক রেন্ট ডকুমেন্টস, মেমো ফাইল, কম্পিউটার প্রিন্টেড বিক্রয় দলিলাদি এবং একটি সিপিইউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথিতে কাঁচা চালান এবং বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিষ্ঠানটির ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার বিক্রয় তথ্যের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি শনাক্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূসক ফাঁকির মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পিবিআই কর্মকর্তাদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে।
‘অ্যাপ্লিকেশন অব ফরেনসিক সায়েন্স ইন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস : ফ্রম ক্রাইম সিন টু দ্য কোর্টরুম’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি (আইএফএসসিএস)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই প্রশিক্ষণে পিবিআইয়ের ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন।
আজ রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি।
পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনা, শারীরিক ও জৈবিক আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং, চেইন অব কাস্টডি, পরীক্ষাগারে আলামত পাঠানো ও ট্র্যাকিং, ফরেনসিক ডিএনএ, ফরেনসিক প্যাথলজি ও টক্সিকোলজি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য হলো অপরাধ তদন্তে নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ যথাযথভাবে শনাক্ত ও বিশ্লেষণ এবং তদন্ত থেকে আদালত পর্যন্ত এসব প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করাও এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পিবিআই, সিআইডি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
সাবেক সিনিয়র জেলা জজ আবু সায়েদ দিলজার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মতিয়ার রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএফএসসিএস-এর প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি জান্নাতুল হাসান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. উম্মে শারাবান তাহুরা, সিনিয়র সহকারী সচিব সাঈদ মো. সাফায়েত, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শিবলী নোমান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডা. নন্দিতা মালাকার, সিআইডির সাথী রানি শর্মা, ক্রাইম সিন ইউনিটের গাজী গোলাম দস্তগীর, সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের এ বি এম আতিকুর রহমান, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষক মো. আশরাফুল আলম এবং সিআইডির গোলাম আমবিয়া মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের স্কুল অব ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিসের ফরেনসিক স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার ড. হেলেন আরওয়াকার অনলাইনে ‘সিগনিফিকেন্স এন্ড ইমপ্যাক্ট অব ফরেনসিক ইভিডেন্স’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।
প্রশিক্ষণে ‘ফরেনসিক ফাইন্ডিং থেকে জুডিশিয়াল ফাইন্ডিং’, ‘অপরাধ তদন্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার’, ‘ফরেনসিক রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য’, ‘ফরেনসিক প্রমাণের সীমাবদ্ধতা’ এবং ‘পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও মানবাধিকার’সহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৪টি সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএফএসসিএস-এর প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ বিন কাশেম প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও আইএফএসসিএস-এর প্রভাষক খাতুনে জান্নাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশের ডিআইজি সুজায়েত ইসলাম, ডিআইজি আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি আলিমুজ্জামান, কোর্স পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিরা সুলতানা, কোর্স সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন এক্সপার্ট গৌতম বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী পিবিআই কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে নাসিরনগর কলেজ মাঠে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, প্রকল্প পরিচালক মুফাজ্জল হায়দার, প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ২০২৮ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার পাশাপাশি হবিগঞ্জ জেলা এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এছাড়া এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি এক দিকে, অন্য দিকে পাহাড়ের সবুজ দেয়াল। পাহাড়ের বুক চিরে ঝরনার স্বচ্ছ পানি নেমে আসছে, কোথাও শান্ত লেকের পাদদেশে, আবার কোথাও বিস্তীর্ণ বালিয়াড়িতে ঢেউয়ের ছন্দ। শতবর্ষী স্থাপনা, ধর্মীয় ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং চা বাগানের সবুজ গালিচা— প্রকৃতির রঙ বদলে দেয় শহরের ব্যস্ততা পেরোলেই।
এটি যেন একই ভূখণ্ডে প্রকৃতির নানারূপের এক বিশাল প্রদর্শনী। চট্টগ্রামের এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, এই বৈচিত্র্য পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পুরো চট্টগ্রামের লুকিয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে খুলতে পারে নতুন সমৃদ্ধির দুয়ার, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটি উদযাপিত হয়। এবারের মূল বার্তা হলো ‘প্রযুক্তির ব্যবহার’ এবং পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরের সম্ভাবনা কাজে লাগানো। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আজ থেকে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দিবসটি উদযাপনে আজ র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বন্দরনগরী হিসেবে চট্টগ্রামের পরিচিতি দেশের অর্থনীতিতে বহু পুরোনো। অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই জেলার সম্ভাবনা বিস্তৃত। সমুদ্র, পাহাড়, ঝরনা, বন, লেক, দ্বীপ, চা-বাগান, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য— সবমিলিয়ে এখানে পর্যটনের বৈচিত্র্য দেশের অন্যান্য গন্তব্যের তুলনায় আলাদা মাত্রা তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ফয়’স লেক, ভাটিয়ারী লেক, বাটালি হিল, বাঁশখালী ইকোপার্ক, মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ঝরনা, বাঁশবাড়িয়া, গুলিয়াখালী ও পারকি সৈকত ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় এনে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
ভ্রমণপিপাসুরা বলছেন, চট্টগ্রামের পর্যটনের সৌন্দর্য এটিকে করেছে অনন্য। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে একদিকে সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি, অন্যদিকে বন্দরনগরীর কর্মচাঞ্চল্য। সূর্যাস্তের সময় আকাশের রং বদলে যায়, সমুদ্রের ঢেউয়ে পড়ে তার প্রতিফলন। কাছেই কর্ণফুলীর মোহনা। জাহাজের চলাচল, নদী ও সাগরের মিলন এবং উন্মুক্ত আকাশ— সবমিলিয়ে পতেঙ্গা শুধু সৈকত নয়, নগরীর সঙ্গে প্রকৃতির সরাসরি সংযোগ। পতেঙ্গার বাইরেও চট্টগ্রামের উপকূলজুড়ে রয়েছে আরো অনেক সম্ভাবনাময় সৈকত। আনোয়ারার পারকি, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও গুলিয়াখালী, বাঁশখালী সৈকত, খেজুরতলা— প্রতিটিরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। পর্যটকরা যেদিকেই পা বাড়ান, দৃশ্যপট বদলে যায়, দেখা মেলে নতুন কিছুর। পাহাড়, বন, ঝরনা আর সমুদ্র— সবকিছু যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা হাজারো ঝরনা অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য একেকটি আলাদা অধ্যায়।
‘চলো চট্টগ্রাম দেখি’ নামক ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাজ্জাতুল ইসলাম তুহিন বাসস-কে জানান, ‘প্রকৃতি চট্টগ্রামকে আপন হাতে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে, এখানকার সৌন্দর্য অফুরান। স্বাভাবিক চিন্তাধারার বাইরেও এখানে পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন বাঁশখালী ও রাঙ্গুনিয়ার চা-বাগানগুলো শুধু চা উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; সঠিক ব্যবস্থাপনায় এগুলো হতে পারে কৃষি ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন গন্তব্য। উদ্যোগ নিলে চা-বাগানের সারি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে পর্যটনের সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাজারিখিল অভয়ারণ্য কিংবা বারৈয়াঢালা অঞ্চলের ট্রেইলগুলো চট্টগ্রামের প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের আরেকটি সম্ভাবনার কথা বলে। এখানে পর্যটনের সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এ ধরনের পর্যটনের গুরুত্ব এখন আন্তর্জাতিকভাবেও নতুন করে সামনে আসছে। জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা টেকসই গ্রামীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে প্রকৃতি সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, অবকাঠামো ও সংযোগ, স্থানীয় পণ্য এবং পর্যটনকে স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সংযোগ পয়েন্টে অবস্থিত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগ্রাবাদস্থ নৃ-তাত্ত্বিক জাদুঘর, শতবর্ষ পুরোনো ব্রিটিশ নির্মাণশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন আগেকার সার্কিট হাউস ঘিরে গড়ে তোলা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, নতুন সার্কিট হাউস, কোর্ট হিলে অবস্থিত শতবর্ষী কোর্ট বিল্ডিং ও প্রশাসনিক ভবন, এক সময়কার আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেড কোয়ার্টার খ্যাত রেলওয়ে সিআরবি ভবন এবং চারপাশে সবুজের ছায়াঘেরা নান্দনিক পরিবেশের ফৌজদারহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সুদীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ—এসবের প্রতিটিই দেশি বিদেশি ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাস অন্বেষণকারীদের অন্যতম আকর্ষণ হওয়ার দাবি রাখে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগং (টোয়াক)-এর সভাপতি এবং গো-ট্রিপ-এর স্বত্বাধিকারী রাশিদুল হাসান ইমন বাসস-কে জানান, ‘দেশের মানুষের মধ্যে বেড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এক সময় মানুষ শুধু নির্দিষ্ট মৌসুমে বেড়াতে যেত। এখন সারা বছরই সময়-সুযোগে বেড়াতে বেরিয়ে পড়ছেন। সে কারণে পর্যটনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রামে আমাদের সংগঠনের অধীনে ১৮টি অপারেটর রয়েছে, তারা সবাই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পর্যটকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে একটা নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তারা শহরের কাছাকাছি এলাকায় ডে-লং (দিনব্যাপী) ট্যুর দিচ্ছে, কখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে কখনো বন্ধু-বান্ধব মিলে।’
তিনি আরো জানান, তার প্রতিষ্ঠান গো-ট্রিপ গত ৯ বছরে প্রায় ২ হাজার ট্রিপ দিয়েছে অভ্যন্তরীণ পর্যটন স্পটগুলোতে, যার বেশিরভাগই চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে।
পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বাসস-কে বলেন, ‘চট্টগ্রামে পর্যটনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো একই অঞ্চলে সমুদ্র, পাহাড়, ঝরনা, লেক ও ঐতিহাসিক স্থাপনার মতো বৈচিত্র্যময় গন্তব্য থাকা। কিন্তু কোনো একটি স্পটে গিয়ে আবার ফিরে আসার বদলে পর্যটক যেন একাধিক গন্তব্য ঘুরে দেখতে পারেন, সেই ধরনের পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা দরকার। এজন্য প্রত্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়কের মান, পর্যটকবান্ধব পরিবহন, নির্দেশনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আমরা আশাবাদী, সরকার এর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেবে।’
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরীর পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে শুধু সৌন্দর্যের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না; পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেই ধরনের অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে পর্যটকদের বসার স্থান, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, আলোকায়ন, পার্কিং ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধা প্রায়ই নিশ্চিত করা হয়েছে। একই ধরনের সুবিধা বা ব্যবস্থা সব পর্যটন স্পটে নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামের পর্যটন আকর্ষণ আরো বাড়বে। চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক, সবুজ, নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
একই প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাসস-কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম তার ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে অতুলনীয়। কিন্তু বিগত ১৭টি বছর ফ্যাসিবাদী সরকার এই চট্টগ্রামের সবকিছুকে অবহেলা করেছে, সে কারণে পর্যটন স্পটগুলো নানা ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়নি। এ অবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন না করে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশের প্রাকৃতিক সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে চান। কারণ, এই দেশের প্রকৃতি এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু আমাদের মূল সম্পদ। বর্তমান সরকার দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকেও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার আওতায় কাজে লাগানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ