মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৩ এম
নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বর্তমানে অনলাইনে টাকার বিনিময়ে প্রকাশ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইলের অবস্থান, কল রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, কর শনাক্তকরণ নম্বর এবং মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব—সবকিছুই নির্দিষ্ট দামে পাওয়া যাচ্ছে। কারও এনআইডি পেতে মাত্র ১৭ মিনিট, মোবাইলের অবস্থান পেতে ১৬ মিনিট এবং তিন মাসের কল রেকর্ড পেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে।
তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে এসেছে।
গত ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত একটি শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে ৬৭৫টি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। এসব পোস্টের সূত্র ধরে ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে বিভিন্ন তথ্যের নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা রয়েছে।
অনুসন্ধানে তিন বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা দিয়ে এনআইডি, অবস্থান ও কল রেকর্ড কেনা হয় ডিসমিসল্যাবের পক্ষ থেকে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বিক্রি করা তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি একজনের এনআইডিতে দুই মাস আগে সংশোধন করা মায়ের নামও হালনাগাদ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
১৭ মিনিটে এনআইডি, ১৬ মিনিটে অবস্থান
একজন ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বর ও ৫০০ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর মাত্র ১৭ মিনিটে এনআইডির কপি পায় ডিসমিসল্যাব। অন্য একটি পরীক্ষায় ১৫০ টাকা দিয়ে ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়ার পর পাওয়া যায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’।
আর একটি নম্বরের তিন মাসের কল রেকর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইল পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২০টি নম্বর, কলের সময় ও কলের ধরন প্রকৃত কল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে সবই মিলে যায়।
আরেক বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ১ হাজার ৫০০ টাকায় মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান, সংশ্লিষ্ট টাওয়ার, ঠিকানা ও মানচিত্রের অবস্থান দেওয়ার কথা ছিল। টাকা দেওয়ার ১৬ মিনিটের মধ্যে সেই তথ্যও সরবরাহ করা হয়।
তালিকায় আরও যা যা রয়েছে
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মূল্যতালিকায় ৫০ থেকে ২০০ টাকায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’, ২৫০ টাকায় মোবাইল নম্বর থেকে এনআইডি, ৯০০ টাকায় তিন মাসের কল তালিকা, ১ হাজার ৮০০ টাকায় ছয় মাসের কল তালিকা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইভ লোকেশন’ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৭ হাজার টাকায় নগদের হিসাব এবং ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিকাশ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার তালিকাও পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠা, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, এসএমএসের তালিকা ও মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বরের তথ্যও বিক্রির তালিকায় রয়েছে।
এই বাজারের কার্যক্রমও বেশ সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিক্রেতা ওয়েবসাইটে টাকা জমা দিয়ে তথ্যের অর্ডার করেন। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকে বেশি দামে তথ্য বিক্রি করা হয়।
এক মাসে ১১২ নম্বর, ৩৬ গ্রুপ
এক মাসের অনুসন্ধানে অন্তত ১১২টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তথ্য বিক্রির প্রচারণা পাওয়া গেছে। একটি গ্রামীণফোন নম্বর ৭৫টি পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৬টি সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপে বারবার ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে একটি ওয়েবসাইটের মালিকের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি মুঠোফোন মেরামতের কাজ করেন। তার দাবি, তিনি অন্য একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে সরকারি সার্ভারে ঢোকার পদ্ধতি বা এ দাবির কারিগরি সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কোনো ব্যক্তির হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততা অথবা তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তার কোনো দুর্বলতা কাজে লাগানোর আশঙ্কা থাকে।
তিন বছরেও বন্ধ হয়নি
ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। গত তিন-চার বছর ধরে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে এনআইডি ও ফোনের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৪ সালে সরকারি পর্যায়ের অনুসন্ধানে নাগরিকের এনআইডি ও কল রেকর্ড ২১টি হোয়াটসঅ্যাপ, ৪৮টি টেলিগ্রাম এবং ৭২০টি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। মোট ৭৮৯টি গ্রুপ ও পেজে এ ধরনের তথ্য কেনাবেচার সন্ধান মিলেছিল। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত লগইন তথ্যের অপব্যবহারের বিষয়ও সামনে আসে।
এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ২০২৬ সালে এসে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত বিজ্ঞাপন ও সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান মিলেছে।
বারবার ফাঁস হচ্ছে তথ্য
ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি শুধু অনলাইনে তথ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে সরকারি ডেটাবেজ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে।
২০২৩ সালে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের একটি সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে প্রায় ৫ কোটি নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি, ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি সরাসরি হ্যাকিং নয়; কারিগরি দুর্বলতার সুযোগে তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।
২০২৪ সালেও সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও তথ্য নিরাপত্তার ঘটনা ঘটে। নভেম্বরে তিতাস গ্যাসের ফায়ারওয়ালের ‘রুট অ্যাকসেস’ ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলার ঘটনা সামনে আসে। একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে র্যানসমওয়্যার হামলায় বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দাবিও ওঠে।
আর্থিক খাতও বাদ যায়নি। সিটি ব্যাংকের গ্রাহকদের কিছু আর্থিক বিবরণী অননুমোদিতভাবে দেখা ও পরে তা বিক্রির চেষ্টা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি সিস্টেম ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সীমিতসংখ্যক বিবরণীতে প্রবেশ করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের সাইবার অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার সতর্কতা জারি হয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডারেও অনুপ্রবেশ ও তথ্য চুরির ঘটনা সামনে আসে। ২০২৬ সালেও সরকারি ও প্রতিরক্ষা খাত লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এর মধ্যেই অনলাইনে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি একটি চাকরির ওয়েবসাইটের তথ্যভাণ্ডার থেকে নেওয়া। সিভিগুলোতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ সিভি পুরোনো; অনেকগুলো ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা। নমুনায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির ওয়েবসাইটে সিভি আপলোড করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তথ্য আছে, জবাবদিহি কোথায়
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া চিত্র বলছে, ব্যক্তিগত তথ্যের কেনাবেচা এখন আর বিচ্ছিন্ন কয়েকজনের কাজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মধ্যস্বত্বভোগী, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহের একটি কাঠামো।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন ও নীতিমালায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে নাগরিকের তথ্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কার তথ্য কোথা থেকে বের হচ্ছে, কারা তা সংগ্রহ করছে, কারা বিক্রি করছে এবং তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা ভেঙে পড়লে দায় নিচ্ছে কে—এখন এসব প্রশ্নের জবাবদিহিই সবচেয়ে জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য আলাদাভাবে ফাঁস হলেও একাধিক উৎসের তথ্য এক জায়গায় চলে এলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নাম, এনআইডি, ফোন নম্বর, ঠিকানা, অবস্থান ও পেশাগত তথ্য মিলিয়ে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংসহ নানা ধরনের অপরাধ করা সহজ হয়। এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়।
কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের বিচার হয়েছে—এমন নজির খুব কম। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তাই তথ্য ফাঁসের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোন উৎস থেকে তথ্য বের হচ্ছে এবং কীভাবে তা বাইরে যাচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে পুরো ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্বল পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের ৯ মাস পর সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কাতারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য মুসলিম দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সাংবাদিকদের বলেন, "সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ছেড়ে দিতে চায়। এজন্য কাতারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা সফল হলে কাতার ব্যাংকটির মালিকানায় যুক্ত হতে পারবে।"
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, "কাতারের পাশাপাশি অন্যান্য মুসলিম দেশও ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে তাদের সঙ্গেও আলোচনা করবে সরকার। লক্ষ্য হলো ব্যাংকটির মালিকানায় বেসরকারি ও বিদেশি অংশীদার যুক্ত করা।"
সরকার মালিকানা ছেড়ে দিলে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি থাকবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, "যারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেবেন, বিষয়টি তাদের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে সরকার আগাম কীভাবে জানবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।"
পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংক একীভূত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। একীভূত ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মতিপত্র (এলওআই) দেয় এবং ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়। শুরু থেকেই ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।
ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধনে যুক্ত হওয়ার কথা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের সঙ্গে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের কাঠামো, অংশীদারত্বের ধরন ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলো আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নবগঠিত ব্যাংকটির মোট কর্মী সংখ্যা ১৮ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৫ হাজার ৯৯৬, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৪ হাজার ৩৯, এক্সিম ব্যাংকে ৩ হাজার ৪৮৭, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২ হাজার ৪৮৬ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে ২ হাজার ৭৩ জন কর্মী রয়েছেন। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত নেটওয়ার্কে রয়েছে ৭৬১টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি।
সরকারের ধারণা, বিদেশি ও বেসরকারি অংশীদার যুক্ত হলে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তাই কাতারসহ আগ্রহী মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসন চারজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, একটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটু এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। অপর শিক্ষক হলেন সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিগ্রি না থাকায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে।
এছাড়াও, বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে ডাকসু ২০১৯ এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলের প্রধান গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল-চীন সীমান্তে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার সঙ্গে আসা ঘন কাদা অনেক স্থাপনা ও অবকাঠামোকে ঢেকে ফেলায় উদ্ধারকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৯৫৫ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৭১ জন।
নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। টানেল ও প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা কাদায় ঢেকে যাওয়ার কারণে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের ৯০০-এর বেশি শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, টানেলের ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে দেরি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কাদার ঘনত্ব ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, এই বিপর্যয় এতটাই মারাত্মক যে কর্তৃপক্ষ শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের গণকবর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এসব মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর এলাকায়ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা গেছে, সেখানে একটি পানির টাওয়ার ছাড়া প্রায় সব স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে।
এছাড়া নতুন করে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনের আবহাওয়াবিদরা গিরং এলাকায় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছেন। এতে কাছাকাছি একটি বাধা হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিখোঁজদের সন্ধান এবং জীবিতদের উদ্ধারে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম এলাকা ও কাদায় ঢেকে যাওয়া অবকাঠামো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে জনমনে আতঙ্ক, ভয়ভীতি সৃষ্টি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার পাবনা প্রেস ক্লাবে জেলা বিএনপি নেতারা পরাগের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে, পাবনা জেলা বিএনপির শীর্ষ সাত নেতা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পেশ করেন।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, মাহমুদুন্নবী স্বপন, মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম মুসা, সদস্য সচিব রেহানুল ইসলাম বুলালসহ জেলা বিএনপি ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ড এবং পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এর আগে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খালেদ হোসেন পরাগ নিজের পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, নিরীহ মানুষকে মামলা করার ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি সংস্থা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারি চাকরি এবং সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় (ঘুস গ্রহণ) এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ অভিযোগকারী নেতাদের কাছে রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আগে এই অভিযোগের ফটোকপি সাংবাদিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে খালেদ হোসেন পরাগ যুগান্তরকে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। স্বার্থান্বেষী মহলের ইঙ্গিতে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "সংবাদ সম্মেলনকারীরা আমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ