০৩:২৬ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই: স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সিডনির লাকেম্বায় বাংলা কমিউনিটি হলে এ অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার অবদান ও আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ফেরদৌস অমিসহ অন্যরা।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
অনুষ্ঠানে আলোচনার বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শাহ জে. মিয়া। বিএনপি অস্ট্রেলিয়া ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক মোশিউর রহমান মুন্না ছিলেন এবং সদস্য সচিব ছিলেন শফিকুল আলম শফিক।
আলোচনায় বক্তারা বললেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রধান অতিথি আরিফুল হক চৌধুরী শহীদ ও আহতদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সবাইকে তাদের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ অতিথি নুরুল হক নুর প্রবাসীদের কল্যাণে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও আসন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রবাসীদের সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পাশাপাশি বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য পৃথক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এবং নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ স্থাপনসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথি রাশেদা বেগম হীরা দেশের ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের গুরুত্ব বলেন। তিনি বলেন, দেশের বাইরে অবস্থান করেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা মাতৃভূমির প্রতি যে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম লালন করেন, তা বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
আলোচনা শেষে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
এভাবেই বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, মানবিক, বৈষম্যহীন, স্বাধীন ও সার্বভৌম এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন