ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা বেড়ে গেছে


দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা বেড়ে গেছে

খুলনার দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দখলকৃত জায়গায় বসত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অতীতে সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে জায়গা ছেড়ে যাওয়া দখলদাররা আবারও অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডার নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক দ্বীপের উপর দাড়িয়ে রয়েছে দাকোপ উপজেলা। চারপাশে নদী বেষ্টিত এই উপজেলাটি পাউবোর নির্মিত বেড়ীবাঁধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই বাঁধগুলোকে ঘিরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বটবুনিয়া, কালীনগর, মোজামনগর, নলিয়ান, জয়নাগর, বানীশান্তা, বুড়িরডাবুর, হোগলা বুনিয়া, পোদ্দারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় বাজার গড়ে উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পেরিফেরীভুক্ত জায়গাসহ অধিকাংশ বাজারগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে গড়ে উঠেছে। স্থায়ী বাজারের বাইরে, উপজেলায় যত্রতত্র বেড়ীবাঁধের দু’পাশ দখল করে বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময় পাউবোর ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তখন সেখানে থাকা দখলদারদের পুনর্বাসনে মোটা অংকের অর্থ ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষে রাস্তা হস্তান্তরের সাথে সাথে একই প্রক্রিয়ায় বেড়ীবাঁধের দু’পাশ ফের দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

অধিকাংশ বাজারে নির্মিত স্থাপনার বারান্দা তৈরিতে ফুটপথ দখল করা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটিও সংকুচিত হয়ে হাটা চলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই আবার সরকারি জায়গার পজেশন দখল করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিচালিত অভিযানে কিছু জায়গা দখলমুক্ত হয়। কিন্তু দলীয় সরকার আসার সাথে সাথে শুরু হয় অবৈধ দখলের মহাউৎসব। সম্প্রতি বাজুয়া ও লাউডোপ ইউনিয়নে দেখা যায় সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে বাজুয়া খুটাখালী লাউডোপ এলাকায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সরকারি জায়গা পজেশন হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় চলে এই দখল বাণিজ্য। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দখলদাররা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নির্বিকার। ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগে ভবিষ্যতে সরকারি জায়গা দখল করবেনা মর্মে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গিকারনামা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ফের সেই জায়গা দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার হয়না। তারা কেবল লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। অথচ সুযোগ ছিল ওই সকল বাজারের পেরিফেরীর জায়গা এবং সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সম্পত্তি একসঙ্গে বন্দোবস্ত বা লীজ প্রক্রিয়ার আওতায় এনে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়ের।

আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর দাকোপ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ সেবগাতুল্যাহ বলেন, আমি জানার পর কিছু স্থাপনা নির্মাণ সরিয়ে দিয়েছি। আর পাকা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারীদের দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়রার ২০ সরকারি বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


কয়রার ২০ সরকারি বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই

খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম শিক্ষক নেই। সুন্দরবন সংলগ্ন এই বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়টি অমুসলিম শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন। আরবি ভাষা, সূরা ও কেরাতের যথাযথ জ্ঞান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বইয়ের বাংলা অর্থ পড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করতে হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

বর্তমানে বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের সবাই মুসলিম। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, কিন্তু তারা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা অমুসলিম শিক্ষকদের দ্বারা পড়ানো হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে মোট শিক্ষার্থী ১৪৩ জন, এর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম। এখানে ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কেউই মুসলিম নয়। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও পুরোনো; স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৯ বছর ধরে এখানে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। এই তিনটি বিদ্যালয় ছাড়াও উপজেলার মোট ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র বিরাজমান।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই সেগুলো হলো হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা ডিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মহেশ্বরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালি সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভাগবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংটিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংরকি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়াঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হড্ডা পল্লী উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাতিয়ারডাঙ্গা পূর্বচক প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসব বিদ্যালয়ের বেশিরভাগে চার থেকে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও একজন মুসলিম শিক্ষকও নেই। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর দায়িত্ব অমুসলিম শিক্ষকদের ওপরই পড়ছে।

অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলমান থাকায় অনেকেই তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়ছে। গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোঃ সাহেব আলী সানা বলেন, "শিক্ষকরা সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোমলমতি শিশুদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।" গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন জানান, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পোস্টিং পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। তবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আশা করছেন দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার জানিয়েছেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় হিন্দু বা মুসলিম আলাদা করে পদায়নের নিয়ম নেই, যার ফলে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, "বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিধি মোতাবেক এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জে চাকরির ফাঁকে ৬ ভাইরাভাইয়ের ৬ বিঘার ফলের বাগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


কালীগঞ্জে চাকরির ফাঁকে ৬ ভাইরাভাইয়ের ৬ বিঘার ফলের বাগান

কালীগঞ্জ উপজেলার একজন শিক্ষক চাকরির পাশাপাশি অধিক অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলের চাষ শুরু করেছেন। ছয় বছর আগে, একটি পতিত জমি ছিল অনাবাদি। সেই জমিতে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন পাঁচ ভাইরাভাই। শুরু করেছিলেন মাত্র ২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ। বর্তমানে তাঁদের উদ্যোগের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ বিঘায়। ড্রাগনের পাশাপাশি বাগানে মাল্টা ও কমলার চাষও হচ্ছে। তিনি এসব ফলের আবাদ করছেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালবাড়িয়া গ্রামে। এই কৃষি উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এম এম গ্রিন ফিল্ড’। পাঁচ ভাইরাভাইয়ের সঙ্গে পরে যুক্ত হয়েছেন ষষ্ঠ ভাইরাভাই রাজিবুল ইসলাম রাজ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চাকরিজীবী, আর একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।

উদ্যোক্তারা জানান, শুরুতে ৫ জন মিলে প্রায় ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রত্যেকে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা করে বিনিয়োগের অর্থ ইতিমধ্যে তুলে নিয়েছেন। এর বাইরে প্রত্যেকের প্রায় ৬ লাখ টাকা করে লাভ হয়েছে। এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাগান থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে। মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁদের আশা। বাগানটি গড়ে উঠেছে তাঁদের শ্বশুরের পতিত জমিতে। শুরুতে ২ বিঘা জমিতে ড্রাগনের চারা লাগানো হলেও ধীরে ধীরে বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে আরও দুই বিঘা জমি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে অ্যাভোকাডো, মাল্টা ও কমলা চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাগানটি পরিচালনায় উদ্যোক্তারা পেশাদার ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করেছেন। বাগান দেখাশোনার জন্য একজন শিক্ষিত ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে মাসিক সম্মানজনক বেতন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সারা বছর চার থেকে ৫ জন শ্রমিক বাগানে কাজ করেন। যে ভাবনা থেকে শুরু হয়েছিল সে সম্পর্কে মেজো ভাইরাভাই শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই মূলত এই উদ্যোগের শুরু। তিনি কৃষি খামার পরিদর্শনে অন্য ভাইরাভাইদের নিয়ে যেতেন। বিভিন্ন ফলের বাগান ও কৃষি উদ্যোগ দেখে তাঁদের মধ্যেও কৃষি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই ছয় বছর আগে ২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। জমির পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং যুক্ত হতে থাকে নতুন নতুন ফলের জাত। বড় ভাইরাভাই ও শিক্ষক লিয়াকত বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ করেছিলাম। সেই টাকা ইতিমধ্যে তুলে নিয়েছি। এর বাইরে প্রত্যেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা করে লাভ পেয়েছি। চাকরির পাশাপাশি কৃষি থেকে বাড়তি আয় আমাদের জন্য বেশ উৎসাহের।’ চার নম্বর ভাইরাভাই শিপলু একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তাঁর কাছে বাগানটি শুধু বাড়তি আয়ের উৎস নয়, মানসিক প্রশান্তির জায়গা। শিপলু বলেন, ‘সপ্তাহের পাঁচ দিন ব্যাংকের কাজের চাপে থাকতে হয়। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাগানে আসার চেষ্টা করি। এখানে এলে মনটা ভালো হয়ে যায়। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে এই বাগান আমাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।’ ৩ নম্বর ভাইরাভাই রাহাত খানও বেসরকারি চাকরিজীবী। বিভিন্ন ছুটিতে বাড়িতে এলে তিনি বাগানে সময় কাটান। রাহাত খান বলেন, ‘আমি বেসরকারি চাকরি করি। বিভিন্ন ছুটিতে বাড়িতে এলে বাগানে আসি। ফলের গাছ, সবুজ পরিবেশ সবকিছুই ভালো লাগে। এর পাশাপাশি বাড়তি একটা আয় হচ্ছে, যা জীবনকে কিছুটা সহজ করে।’

উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা মূলত চাকরির পাশাপাশি কৃষিকে একটি বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু এখন এটি আমাদের কাছে শুধু ব্যবসা নয়, ভালো লাগারও জায়গা। পতিত জমিকে আমরা উৎপাদনশীল করতে পেরেছি। নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই কৃষি প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে বলে আমরা মনে করি। দেশে ফলের উৎপাদন বাড়লে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে অন্যদিকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।’ ৬ ভাইরাভাইয়ের এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি ফলের বাগান নয়, চাকরিজীবীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা গল্প। কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে পতিত জমিতে বিনিয়োগ করে তাঁরা দেখিয়েছেন পরিকল্পনা, শ্রম ও আগ্রহ থাকলে চাকরির পাশাপাশি কৃষিও হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি কার্যকর পথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশাশুনিতে আলোকিত আশাশুনির উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


আশাশুনিতে আলোকিত আশাশুনির উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ

আশাশুনির আলোকিত আশাশুনির উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে গাছের চারা বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চারা বিতরণ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু।

উপজেলার সকল মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, একাডেমীক সুপার ভাইজার হাসানুজ্জামান, আলোকিত আশাশুনির আহবায়ক জাকির হোসেন প্রিন্স, সদস্য সচিব জাকির হোসেন ভুট্ট, যুগ্ম আহবায়ক প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম মুকুল, অধ্যক্ষ আঃ রব, প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তুষার, এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশাশুনিতে ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ৭ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


আশাশুনিতে ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ৭ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আশাশুনি উপজেলায় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক স্তরে ৭ জন গুণী শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এই নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সম্মানিত করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের যৌথ সহযোগিতায় গুণী শিক্ষকবৃন্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসিব ইকবাল, আশাশুনি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রতন কুমার অধিকারী, গুনাকরকাটি খাইরিয়া আজিজীয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম এবং গোয়ালডাঙ্গা দরগাহপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।

প্রাথমিক স্তরের নির্বাচিত গুণী শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন, পূর্ব কামালকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাতিস চন্দ্র বিশ্বাস, বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামিনুর রহমান এবং কুল্যা বেনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা খাতুন।

শিক্ষা জীবনের সফলতা, চাকুরি ও সামাজিক জীবনে কর্ম দক্ষতার ভিত্তিতে তাঁদের উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত গুণী শিক্ষকবৃন্দকে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%