শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে, যা দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফিরে পায়। নির্বাচনের সময় আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা, হলের খাবারের মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এক বছর পর তার বাস্তবায়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ থাকলেও মৌলিক সমস্যাগুলোর অনেকগুলোর সমাধান হয়নি।
২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়ী হয় ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচনের আগে প্যানেলটি ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অন্যদিকে, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের ইশতেহারেও পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা, হলের ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন, আধুনিক মেডিকেল সেন্টার এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব ছিল।
নির্বাচনের এক বছর পূর্তির আগে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, তাদের ঘোষিত ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ সম্পূর্ণ হয়েছে, আবার কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে কোন কোন প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলো আংশিক এবং কোনগুলো এখনও শুরু হয়নি, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও অগ্রগতির হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।
রাকসুর কার্যক্রমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, বিভিন্ন হল ও গ্রন্থাগারে পানির ফিল্টার স্থাপন, গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে ফার্মেসি চালু, নারী উদ্যোক্তা মেলা এবং গবেষণায় উৎসাহ দিতে থিসিস প্রণোদনার মতো উদ্যোগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচিও পরিচালনা করেছে রাকসু।
তবে ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন একই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা নিশ্চিত করা, মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়ন, হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশনের মতো বড় উদ্যোগগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এখনো রয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগ গত ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন। প্রায় ৪০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার এ উদ্যোগে ১৬টি বিভাগের অংশগ্রহণ, প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস বা বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। হলের আসনসংকট, খাবারের মান ও দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে তাদের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এসব সমস্যার সমাধানের কথা থাকলেও এক বছরে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রায় কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাকসুর এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত ছাত্রসংসদ ফিরে আসা ইতিবাচক হলেও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
এর আগে রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও হলের খাবারের মানে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। তার মতে, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব অগ্রগতির ব্যবধান রয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্রসংসদ পুনরায় সচল হওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো গুছিয়ে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে সময় লেগেছে। তাই উদ্যোগগুলোর মূল্যায়নে সম্পন্ন কাজের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নির্বাচন হওয়ায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বুঝে কাজ শুরু করতে কয়েক মাস সময় লেগেছে। বাজেট ও স্পনসরশিপসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভাতা, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি এবং মেডিকেল সেবার সংস্কারের মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইশতেহারের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে তিনি তখন দাবি করেছিলেন।
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারও এর আগে প্রশাসনিক জটিলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে রাকসুকে কার্যকর করা ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে এসব উদ্যোগের অগ্রগতি ও ফলাফল আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেতা সাইফ আলী খান দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে ছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে যোগদান করেছেন, যা তাঁর বড় ছেলে ইব্রাহিম আলী খানকে অবাক করেছে। বাবার নতুন এই পদক্ষেপ দেখে ইব্রাহিমের মজার প্রশ্নটি হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
সাইফ ইনস্টাগ্রামে তাঁর যাত্রা শুরু করেন পাতৌদি প্যালেসের ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারে তোলা কিছু নান্দনিক ছবি প্রকাশের মাধ্যমে। এই উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করলেও, সবচেয়ে মজার প্রতিক্রিয়া এসেছে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে।
ইব্রাহিম বাবার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দেখে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে সত্যিই সাইফ সেখানে যোগ দিয়েছেন। তাই তিনি মন্তব্যের ঘরে জানতে চান, “আব্বা, এটা কি সত্যিই আপনি, নাকি অন্য কেউ?” ছেলের এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ মজার ছলে পাল্টা উত্তর দেন।
ইব্রাহিমকে আরও অবাক করার জন্য, সাইফ ২০০৮ সালের মে মাসে তোলা তাঁর শৈশবের একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করেন। ছবিটি দেখিয়ে তিনি জানতে চান, সেখানে থাকা ছোট শিশুটি কি সত্যিই ইব্রাহিম। বাবার রসিকতায় যোগ দিয়ে ইব্রাহিমও উত্তর দেন, “মনে তো হয় সেটাই!”
বাবা-ছেলের এই মজার কথোপকথন ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাইফ ও ইব্রাহিমের এই খুনসুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির আবহ তৈরি করেছে। সাইফ আলী খান ও অভিনেত্রী অমৃতা সিংয়ের বড় সন্তান ইব্রাহিম বর্তমানে বিনোদনজগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান প্রথমবার সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ‘জেলার ২’ সিনেমার প্রথম দিনের শুটিংয়ে একটি দৃশ্য ধারণের সময় তার হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। অনেকের ধারণা ছিল, রজনীকান্তের সামনে দাঁড়িয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েছেন বিদ্যা। কিন্তু তার অস্বস্তির আসল কারণ ছিল ভিন্ন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জেলার ২’-এর একটি দৃশ্যে রজনীকান্তের মুখে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে হয়েছিল বিদ্যাকে। দৃশ্যটি সঠিকভাবে ধারণ করতে তাকে প্রায় তিনবার শট দিতে হয়। যদিও তিনি পরিচালকের নির্দেশনা মেনে অভিনয় করছিলেন, তবুও অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না।
এমন অবস্থায় সেটে উপস্থিত অনেকেই ভেবেছিলেন, রজনীকান্তের মতো একজন তারকার সামনে দাঁড়িয়ে বিদ্যা ঘাবড়ে গেছেন। তবে অভিনেত্রী জানান, সুপারস্টারের উপস্থিতি নয়, বরং সিগারেটের নিকোটিনের প্রভাবই তার অস্বস্তির কারণ ছিল।
বিদ্যা তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘ভেবেছিলাম, আমি তো ধূমপান করতে জানি। সেটে গিয়েই ঠিকঠাক শট দিয়ে দেব। কিন্তু প্রথম টেকের পরই হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম। সবাই ভেবেছিল, রজনী স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে আমি নার্ভাস হয়ে পড়েছি।’
তবে রজনীকান্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। সুপারস্টারের ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো মনের মানুষ রজনী স্যার। প্রতিদিন আমার খোঁজ নিতেন।’
সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিদ্যা তার মত প্রকাশ করেন। তার মতে, গল্পের প্রয়োজনে কখনো এমন দৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, আবার কখনো তা অপ্রয়োজনীয় বলেও মনে হতে পারে।
রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যে বিদ্যা বালানের এই অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম দিনের শুটিংয়ের সেই অস্বস্তিকর মুহূর্ত পেরিয়ে সহ-অভিনেতা রজনীকান্তের আন্তরিকতাই তার কাছে বিশেষ একটি স্মৃতি হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গলে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব পাড়ি দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবটযান পারসিভিয়ারেন্স। পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে এর আগে কোনো যান এত দূর চলেনি।
এনডিটিভি জানায়, নাসার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত পারসিভিয়ারেন্সের চলার দূরত্ব দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার। এর মধ্য দিয়ে এটি আগের রেকর্ড ভেঙেছে। আগের রেকর্ডটি ছিল নাসারই আরেক রোবটযান অপরচুনিটির। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মঙ্গলে কাজ করা যানটি মোট ৪৫ দশমিক ১৬ কিলোমিটার চলেছিল।
পারসিভিয়ারেন্স মঙ্গলে অভিযানের ২ হাজার ৬তম দিনে এ রেকর্ড গড়ে। পৃথিবীর হিসাবে প্রায় পাঁচ বছর ছয় মাসে এটি এই দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে। অন্যদিকে, একই দূরত্ব অতিক্রম করতে অপরচুনিটির প্রায় ১৫ বছর লেগেছিল।
জেজেরো গহ্বরের পশ্চিম প্রান্তের কাছে লাক দ্য শার্ম নামের একটি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় রেকর্ডটি গড়ে পারসিভিয়ারেন্স। সেখান থেকে এটি ইদুবি নামের একটি এলাকার দিকে যাচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেখানে সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের কিছু নমুনা পাওয়া যেতে পারে। সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে রোবটযানটি।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, লাক দ্য শার্ম এলাকার পাথর ও ভূখণ্ড অত্যন্ত প্রাচীন। পৃথিবীতে একই ধরনের ভূখণ্ড থাকলেও দীর্ঘদিনের ক্ষয় এবং ভূত্বকের পাতের নড়াচড়ায় সেগুলো হারিয়ে গেছে। মঙ্গলে পৃথিবীর মতো ভূত্বকের পাত নেই। তাই ইদুবি এলাকায় প্রাচীনকালের গরম পানির প্রবাহের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় কি না, তা খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।
পারসিভিয়ারেন্সের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিজে নিজে পথ খুঁজে চলার প্রযুক্তি। ‘অটোন্যাভ’ নামের একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করে রোবটযানটি। চলার সময় এটি আশপাশের ছবি তোলে, সম্ভাব্য বাধা শনাক্ত করে এবং ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে। এরপর নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
নাসার বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই প্রযুক্তির সাহায্যে রোবটযানটি চলার সময়ই আশপাশের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মঙ্গলের এক দিনে পারসিভিয়ারেন্স সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৫১ ফুট বা ৪১২ মিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এখন পর্যন্ত এর পাড়ি দেওয়া মোট দূরত্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি পথে অটোন্যাভ ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলে এ ধরনের প্রযুক্তি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল অপরচুনিটি ও তার যমজ রোবটযান স্পিরিটে। তবে তাদের মোট চলার দূরত্বের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ পথে এই প্রযুক্তি কাজে লেগেছিল। নাসার প্রথম মঙ্গলযান সোজার্নার চলার পথ যাচাই করতে ২০টি পরিমাপের স্থান ব্যবহার করত। আর পারসিভিয়ারেন্স প্রতিবার ভূখণ্ড পরীক্ষা করার সময় প্রায় ৬ লাখ পরিমাপের স্থান বিশ্লেষণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কিউরিওসিটি ও পারসিভিয়ারেন্স প্রকল্পের ব্যবস্থাপক স্টিভেন লি বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া পারসিভিয়ারেন্সের জন্য নিয়মিত কাজ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, রোবটযানটির চলাচলের সব ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলার সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষার ফলও ভালো এসেছে। তাই আগামী কয়েক বছরেও এটি আরো বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারবে বলে আশা করছে দলটি।
সম্প্রতি নাসা প্রথমবারের মতো পারসিভিয়ারেন্সের অভিযানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন মেয়াদ শুরু হয়েছে অক্টোবরে। এর ফলে রোবটযানটি আনুমানিক ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত জেজেরো গহ্বরের প্রান্তে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে পারবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মমতাজ (৬০) নামে এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের তিনলাখপীর এলাকায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি আখাউড়া উপজেলার ছতুরা শরীফ এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে রিয়াজ আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধার বাড়ি ময়মনসিংহ এলাকায়। তবে তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে আখাউড়া উপজেলার ছতুরা শরীফ এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিদিন ভোরে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা মমতাজকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রায়হান ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ