প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মঙ্গলে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব পাড়ি দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবটযান পারসিভিয়ারেন্স। পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে এর আগে কোনো যান এত দূর চলেনি।
এনডিটিভি জানায়, নাসার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত পারসিভিয়ারেন্সের চলার দূরত্ব দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার। এর মধ্য দিয়ে এটি আগের রেকর্ড ভেঙেছে। আগের রেকর্ডটি ছিল নাসারই আরেক রোবটযান অপরচুনিটির। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মঙ্গলে কাজ করা যানটি মোট ৪৫ দশমিক ১৬ কিলোমিটার চলেছিল।
পারসিভিয়ারেন্স মঙ্গলে অভিযানের ২ হাজার ৬তম দিনে এ রেকর্ড গড়ে। পৃথিবীর হিসাবে প্রায় পাঁচ বছর ছয় মাসে এটি এই দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে। অন্যদিকে, একই দূরত্ব অতিক্রম করতে অপরচুনিটির প্রায় ১৫ বছর লেগেছিল।
জেজেরো গহ্বরের পশ্চিম প্রান্তের কাছে লাক দ্য শার্ম নামের একটি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় রেকর্ডটি গড়ে পারসিভিয়ারেন্স। সেখান থেকে এটি ইদুবি নামের একটি এলাকার দিকে যাচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেখানে সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের কিছু নমুনা পাওয়া যেতে পারে। সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে রোবটযানটি।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, লাক দ্য শার্ম এলাকার পাথর ও ভূখণ্ড অত্যন্ত প্রাচীন। পৃথিবীতে একই ধরনের ভূখণ্ড থাকলেও দীর্ঘদিনের ক্ষয় এবং ভূত্বকের পাতের নড়াচড়ায় সেগুলো হারিয়ে গেছে। মঙ্গলে পৃথিবীর মতো ভূত্বকের পাত নেই। তাই ইদুবি এলাকায় প্রাচীনকালের গরম পানির প্রবাহের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় কি না, তা খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।
পারসিভিয়ারেন্সের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিজে নিজে পথ খুঁজে চলার প্রযুক্তি। ‘অটোন্যাভ’ নামের একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করে রোবটযানটি। চলার সময় এটি আশপাশের ছবি তোলে, সম্ভাব্য বাধা শনাক্ত করে এবং ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে। এরপর নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
নাসার বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই প্রযুক্তির সাহায্যে রোবটযানটি চলার সময়ই আশপাশের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মঙ্গলের এক দিনে পারসিভিয়ারেন্স সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৫১ ফুট বা ৪১২ মিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এখন পর্যন্ত এর পাড়ি দেওয়া মোট দূরত্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি পথে অটোন্যাভ ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলে এ ধরনের প্রযুক্তি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল অপরচুনিটি ও তার যমজ রোবটযান স্পিরিটে। তবে তাদের মোট চলার দূরত্বের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ পথে এই প্রযুক্তি কাজে লেগেছিল। নাসার প্রথম মঙ্গলযান সোজার্নার চলার পথ যাচাই করতে ২০টি পরিমাপের স্থান ব্যবহার করত। আর পারসিভিয়ারেন্স প্রতিবার ভূখণ্ড পরীক্ষা করার সময় প্রায় ৬ লাখ পরিমাপের স্থান বিশ্লেষণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কিউরিওসিটি ও পারসিভিয়ারেন্স প্রকল্পের ব্যবস্থাপক স্টিভেন লি বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া পারসিভিয়ারেন্সের জন্য নিয়মিত কাজ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, রোবটযানটির চলাচলের সব ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলার সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষার ফলও ভালো এসেছে। তাই আগামী কয়েক বছরেও এটি আরো বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারবে বলে আশা করছে দলটি।
সম্প্রতি নাসা প্রথমবারের মতো পারসিভিয়ারেন্সের অভিযানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন মেয়াদ শুরু হয়েছে অক্টোবরে। এর ফলে রোবটযানটি আনুমানিক ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত জেজেরো গহ্বরের প্রান্তে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন