ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দুই হাজার কোটির প্রকল্পের পাইপলাইনে তিন মাসেও লিকেজ শনাক্ত হয়নি


দুই হাজার কোটির প্রকল্পের পাইপলাইনে তিন মাসেও লিকেজ শনাক্ত হয়নি

ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইনে লিকেজ শনাক্ত করতে তিন মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, যার ব্যয় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম ওয়াসা এখনো মেরামত করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারেনি।

বাংলা নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ও মইজ্জারটেক এলাকার প্রায় ২৫০টি সংযোগে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই সংযোগগুলোর বিপরীতে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ পানিসংকটে রয়েছেন। ওয়াসার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এদিকে, একটি এলাকায় দিনের পর দিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার ওয়াসার পানি পাওয়ার পর বিকল্প পানির উৎস বন্ধ করে দিয়েছিল, তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। পানি না থাকায় রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সংকটে পড়েছে। তিন মাস ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে ভাঙচুরের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করেছে শ্রমিক পরিচয়ধারী আওয়ামী দুর্বৃত্তরা

জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার আবাসিক গ্রাহক এবং শিল্প-কারখানায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯৯৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯৫৮ কোটি টাকা বা ৯২ শতাংশের বেশি।

পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির কাজ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় দুটিই বাড়ানো হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। পানি শোধনাগারটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ছয় কোটি লিটার।

প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পটিয়ার শিকলবাহা খালের তলদেশে কালারপোল সেতুর পাশে বিশেষ টানেল তৈরি করে পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। ২০২২ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এ কাজ ২০২৩ সালের শেষ দিকে সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে পুরো পাইপলাইনের জোড়াতালি পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাইপলাইন স্থাপনের দুই বছর পার না হতেই সংশ্লিষ্ট লাইনে লিকেজ দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লিকেজ শনাক্তে ওয়াসার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, "আমাদের প্রকল্পের কাজ চলছে। কোরিয়ান কম্পানি লিকেজ শনাক্তে কাজ করছে। নদীর নিচ দিয়ে প্রায় ৮০ ফুট টানেলের মাধ্যমে পাইপলাইন নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৮০ ফুট গভীরতায় কাজ করতে হচ্ছে। এ কারণে লিকেজ খুঁজে পেতে সময় লাগছে।"

আরও পড়ুন: বাগেরহাটে ১১ বস্তা নকল সিগারেটসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

কবে নাগাদ লিকেজ শনাক্ত ও মেরামত করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে দীর্ঘদিন পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিকলবাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, "তিন মাস ধরে এলাকায় পানি নেই। বিকল্প পদ্ধতিতে আমাদের চলতে হচ্ছে। এ এলাকায় আগে গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা ছিল। ওয়াসার পানি আসার পর অনেকে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। তিন মাস ধরে যে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, তা অবর্ণনীয়। পানি ছাড়া এক মুহূর্তও চলা সম্ভব নয়। সেখানে মাসের পর মাস পানি ছাড়া মানুষ কিভাবে আছে, সেটি ওয়াসার কর্মকর্তাদের বোঝা উচিত।"

শহরতলি হওয়ায় কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ও মজ্জারটেক এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। একদিকে গড়ে উঠেছে ভারী শিল্পকারখানা, অন্যদিকে আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাড়ছে। তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ থাকায় এ এলাকায় জনবসতিও বাড়ছে। ফলে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে বিপাকে।

মইজ্জারটেক এলাকায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জামিল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, "আমরা কিভাবে ব্যবসা করছি, তা বোঝাতে পারব না। ওয়াসার পানি তিন মাস ধরে বন্ধ। ওয়াসায় যোগাযোগ করেছিলাম। তারা বলছে, সঞ্চালন লাইনে লিকেজ আছে। একটি লিকেজ সারাতে এত দিন লাগে কিভাবে? আমার ধারণা, এ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে।"

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম, আটক ১

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানে আলম বাংলানিউজকে বলেন, "আমি পরিদর্শন করেছি। কিভাবে, কোথায় লিক হয়েছে, তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওয়াসার লোকজন এখনো কাজ করছে।"

কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের ঋণ, সরকারি অর্থ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব তহবিলে বাস্তবায়িত হয় প্রকল্পটি। এর মধ্যে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রায় এক হাজার ২২৪ কোটি টাকা, সরকার থেকে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা এবং ওয়াসার নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনসার-ভিডিপির ২২ সদস্যের কাফেলার ওমরাহ যাত্রা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


আনসার-ভিডিপির ২২ সদস্যের কাফেলার ওমরাহ যাত্রা শুরু

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২২ সদস্যের কাফেলার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মনোনীত সদস্যদের হাতে ভিসা, বিমান টিকিট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি ২২ জনের মধ্যে তিনজন কর্মকর্তা ও ১৯ জন সদস্যের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি ওমরাহযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

মহাপরিচালক অনুষ্ঠানে বলেন, পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য তারুণ্যই উপযুক্ত সময়। জীবনের শুরুতে ধর্মীয় অনুশীলন ও আত্মশুদ্ধির চর্চা মানুষকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে। সব সংস্কারের মূল ভিত্তি মানসিকতার সংস্কার উল্লেখ করে তিনি প্রত্যেককে ইতিবাচক মানসিকতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল, জনসম্পৃক্ত ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। ওমরাহ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও মূল্যবোধ যেন সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়।

ওমরাহযাত্রীদের উদ্দেশে মহাপরিচালক সফরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ সহযাত্রীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি সফরসংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি। পবিত্র ভূমিতে দেশ, জাতি ও বাহিনীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করার আহ্বানও জানান।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার পাচারের চেষ্টায় ডিলার ও নসিমন চালকের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার পাচারের চেষ্টায় ডিলার ও নসিমন চালকের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুরে অবৈধভাবে সার পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে বিসিআইসি সার ডিলার এবং একজন নসিমন চালককে আটক করে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় ৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর মেলার মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকরামুল হক নাহিদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযোগ পাওয়া যায়, রাতের অন্ধকারে সার পাচারের চেষ্টা করার সময় বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স নিরাপদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম শাহনেওয়াজ এবং নসিমন চালক মো. মতিনকে আটক করা হয়। এ সময় ৮০ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।

পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামানের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে আসামিরা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন। আদালত গোলাম শাহনেওয়াজকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অপরদিকে, নসিমন চালক মো. মতিনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযানে জব্দ করা ৮০ বস্তা ডিএপি সার সরকারী অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. পারভেজ আলীর জিম্মায় রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, ডিলার গোলাম শাহনেওয়াজের বিসিআইসি ডিলারশিপ বাতিলের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কণ্ঠের সুরে চলত সংসার, আজ সে কণ্ঠ একেবারেই নীরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


যে কণ্ঠের সুরে চলত সংসার, আজ সে কণ্ঠ একেবারেই নীরব

একসময় গান ছিল মোস্তফা বয়াতির পরিচয়ের মূল ভিত্তি, গান গেয়ে তিনি সংসার চালাতেন। মাটির সুরে পালাগান গেয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন এই বাউলশিল্পী। তাঁর স্বপ্ন ছিল গানকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু হৃদরোগের কারণে তাঁর কণ্ঠের স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তিনি শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন। বর্তমানে নিজের চিকিৎসা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জীবনের এমন কঠিন সময়ে তিনি সরকারের এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

শিল্পী মোস্তফা বয়াতি আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের মেনু মিয়ার সন্তান। ১৯৯২ সালে ওস্তাদ লাল মিয়া বয়াতির হাত ধরে বাউল গানের জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সংগীতশিল্পী চূড়ান্ত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন মোস্তফা বয়াতি। এরপর তিনি পল্লীগানের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাউলগানের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল।

কিন্তু ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর জীবনের গল্প বদলে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক কর্নেল (অব.) জিহাদ খানের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, জোরে কথা বলা এবং গান গাওয়া নিষেধ। অথচ গান ছিল তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন, সেই গান থেকেই আজ দূরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

মোস্তফার ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো ফসলি জমি নেই। গান গেয়ে উপার্জিত অর্থের সঞ্চয় এবং সামান্য যে ফসলি জমি ছিল, তাও বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ মেটাচ্ছেন। এখন অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মানসিক রোগে আক্রান্ত বাবা দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অসুস্থ মায়ের ওষুধের খরচ এবং সংসারের ব্যয় বহন করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

মোস্তফা বয়াতির ছাত্রীরা, লিজা বয়াতি, মৌ মিম বয়াতি, সাথী বয়াতি, ঐশী বয়াতি, সোনিয়া বয়াতি, মুন্না বয়াতি, ফারজানা বয়াতি, হ্যাপি বয়াতি ও আদরি সরকার জানান, তাঁরা মোস্তফা বয়াতির কাছ থেকে গান শিখছেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পেলে সেখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের কিছু অংশ উস্তাদের চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার জন্য দিয়ে থাকেন।

মোস্তফা বয়াতির স্ত্রী সেলিনা খাতুন জানান, তাঁর স্বামী গান গেয়ে সংসারের খরচ বহন করতেন। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি গান গাইতে পারেন না। স্বামীর কষ্ট চোখের সামনে দেখেও কিছু করতে না পারার বেদনা তাঁকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খাচ্ছে। বর্তমানে মোস্তফা বাড়িতে কয়েকজন ছেলেমেয়েকে গান শেখান। সেখান থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়েই কোনো রকমে দিন কাটছে পরিবারটির।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বাউলশিল্পী মোস্তফা বয়াতি বলেন, “২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আর আগের মতো গান গাইতে পারি না। আমার গাওয়া ৩৫টি অডিও ক্যাসেট বাজারজাত করেছি। গানই ছিল আমার একমাত্র সম্পদ ও জীবিকার অবলম্বন। আমার যা কিছু সঞ্চয় ছিল, সব চিকিৎসার পেছনে খরচ করেছি।

এখন মানসিক রোগে আক্রান্ত বাবা, অসুস্থ মা, স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। নিজের চিকিৎসা করাব, নাকি বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাব, নাকি সংসার চালাব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাই।”

একসময় যে কণ্ঠে পল্লীগানের সুর ছড়িয়ে পড়ত মানুষের হৃদয়ে, আজ সেই কণ্ঠ একেবারেই নীরব। অভাব এবং অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন এই শিল্পী। সমাজের হৃদয়বান মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এগিয়ে আসেন, তবে হয়তো আবারও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। স্বাভাবিক জীবনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ফিরে পেতে পারেন তিনি।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


ফেনীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি

ফেনী, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : ফেনী জেলা প্রশাসন ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় দিবসটি উদযাপনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মাহবুব উল করিম এর সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.সাইদুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আবু নাসের চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুফতি আবদুল হান্নান, ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জাকির উদ্দিন, জেলা কালচারাল অফিসার সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং জেলা যুবদল সদস্য সচিব নইম উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ, বিকাল সাড়ে ৩ টায় ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

এর আগে ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটিতে উপজেলা পর্যায়ে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মাহবুব উল করিম।

তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।" জেলা প্রশাসক সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%