আবুল কাশেম রুমন,সিলেট প্রতিনিধি
১২:১৬ পি.এম
গোঠ সিলেট বিভাগ জুড়ে বিষধর সাপ গুলো জঙ্গল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে লোকায়ে ঢুকে পড়ছে। সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বেশি সাপ গুলো মৌলভীবাজারে পাহাড়গুলোতে ঝুকি বাড়ছে বলে জানা গেছে। এদিকে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় পাহাড়ি এলাকা থাকায় এমন দৃশ্যও চোখে পড়ছে প্রতিদিন স্যোশাল মিডিয়ায়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। একসময় যেখানে গভীর বনের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল অজগরের বিচরণ, এখন সেই বিশালাকৃতির সাপ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে মানুষের বাড়ির আঙিনা, হাঁস-মুরগির খামার, বাঁশঝাড়, চা-বাগান, এমনকি হাইল হাওড়ের আশপাশেও। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১২ থেকে ১৮ ফুট দীর্ঘ অজগরের এমন ঘন ঘন উপস্থিতি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বনসংলগ্ন গ্রামগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আতঙ্কের পেছনে দায়ী মূলত বন ধ্বংস, খাদ্যসংকট ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো মানবসৃষ্ট কারণ। বনের বাসিন্দারা বাধ্য হয়েই আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।
দুই মাসেই উদ্ধার ১০ অজগর: বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন ও জুলাইর এই দুই মাসেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০টি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপ গুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ থেকে ১৮ফুট এবং ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত।
তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি অজগর উদ্ধার করা হয়। এরপর ৯ জুলাই ভূরভূড়িছড়া চা-বাগান থেকে একটি, ১৬ জুলাই ভাড়াউড়া চা-বাগান ও সিন্দুরখান এলাকা থেকে পৃথক ভাবে দুটি, ২১ জুলাই উত্তর ভাড়াউড়া এলাকা থেকে একটি এবং ২৮ জুলাই কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগান ও শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান থেকে আরও দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকর্মীরা সাপ গুলো উদ্ধার করে পুণরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেন।
ভেঙে পড়ছে বনের খাদ্যশৃঙ্খল : ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য চঞ্চল গোয়ালা বলেন, একসময় বনের হরিণ বা ছোট ছোট বন্যপ্রাণী লোকালয়ের আশপাশে দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। হরিণের দেখা মেলাই কঠিন, অথচ প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে বিশাল অজগর।
তিনি বলেন, “বনের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। অজগর এখন খামারের হাঁস-মুরগি কিংবা গৃহপালিত প্রাণী সহজ শিকার হিসেবে পাচ্ছে। ফলে গ্রামবাসী সবসময় আতঙ্কে থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন উজাড়, ফলদ গাছ কমে যাওয়া এবং গাছের কোটর ও ছড়ার পাশের প্রাকৃতিক গর্ত নষ্ট হওয়ার কারণে অজগরের নিরাপদ আবাসস্থল দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশগত ভারসাম্য হারাচ্ছে বন: সিলেট বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল গুলোর একটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও বিরল বন্যপ্রাণীর কারণে এটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ পর্যটক শ্রীমঙ্গল হয়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় প্রবেশ করেন।
কিন্তু স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বনটির আয়তন ও পরিবেশ গত ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখল, অবৈধ জনবসতি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাগান সম্প্রসারণ এবং মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের কারণে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের ওপর।
সড়ক ও রেলপথও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়েই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার সংযোগ সড়ক চলে গেছে। একই ভাবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইনও বনাঞ্চল অতিক্রম করেছে।
বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ভাষ্য, বনভূমির দুই পাশে বিচরণ করতে গিয়ে গ্রায়ই প্রাণী গুলো সড়ক ও রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে ট্রেন কিংবা যানবাহনের ধাক্কায় সাপ, গন্ধগোকুল, বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে বনের জীববৈচিত্র্য আরও হুমকির মুখে পড়ছে।
কেন লোকালয়ে আসছে বন্যপ্রাণী : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানবেষ্টিত এলাকা। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বন দীর্ঘ দিন ধরে অজগর, বানর, মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির গুররুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা, জনবসতি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাগানের বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যের উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা লোকালয়, চা-বাগান এবং সড়কের কাছাকাছি চলে আসছে।
লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীগুলোর একটি অংশ মানুষের হাতে মারা পড়ে। আবার সচেতন মানুষ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগরের প্রধান খাদ্য ইঁদুর, পাখি, বনমোরগ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়ে অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় তাদের বিকল্প আশ্রয়ও কমে গেছে।
তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়লেও এটি শুধু উদ্ধার অভিযানের সফলতা নয় বরং বনাঞ্চলের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং পরিবেশগত সংকটেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বন বিভাগের বক্তব্য: বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং বনের ছড়া গুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। চা-বাগানও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের একটি জায়গা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অজগর দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মজিবুর রহমান চৌধুরী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের বনাঞ্চল পরিদর্শন করে বনভূমি দখল করে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা এবং বন উজাড়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
সংকটের মূল সমাধান কোথায় : দুই মাসে ১০টি অজগর উদ্ধারের ঘটনা শুধু কয়েকটি উদ্ধার অভিযানের পরিসংখ্যান নয়, এটি লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পরিবেশগত বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। বনভূমি দখল বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুণরুদ্ধার, খাদ্যের উৎস সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও বাড়বে, আর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদীতে এক নারীকে জোরপূর্বক অর্ধউলঙ্গ করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত যুবদল কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্বগ্রাম এলাকার। অভিযুক্ত যুবদল কর্মীর নাম শাহিন মৃধা। তিনি মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় এক মাস আগে শাহিন মৃধা ও তার কয়েকজন সহযোগী বিল্বগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরের ভেতর ওই নারীকে এক যুবকের সঙ্গে আটক করেন। এরপর ওই নারীকে যৌন হয়রানি ও হেনস্তার পাশাপাশি জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী নিজের ওড়না দিয়ে শরীর ও মুখ ঢেকে লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করছেন। এ সময় একজন ব্যক্তি তার শরীর থেকে ওড়না সরিয়ে দিয়ে তাকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওতে ওই নারীকে হেনস্তা করার দৃশ্যও দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযুক্ত শাহিন মৃধা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহিন মৃধার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনির হোসেন আকন বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। ভিডিওটি কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছিল, তা জানার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষায় ভিডিওটি পুনরায় ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের গোলাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটে ভুগছিলেন আব্দুল বাসেত ওরফে বাসু মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নিরাপদ খাবার পানি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য তাদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
এ অবস্থায় স্থানীয় মানুষের পানির কষ্টের বিষয়টি জানতে পেরে অত্র ওয়ার্ডের মেম্বার সোহেল মেম্বার উদ্যোগ নেন। তাঁর ব্যবস্থাপনায় বাসু মিয়ার বাড়িতে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের পানির সংকট থেকে পরিবারটি স্বস্তি পেয়েছে।
টিউবওয়েল স্থাপনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সোহেল মেম্বারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিরা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ওয়াসার জোন-৩-এর রাজস্ব পরিদর্শক (সাবেক মিটার রিডার) হারুন অর রশিদ (রানা)-এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে আন্ডার বিলিং, মিটারে অনিয়ম এবং অনুমোদনহীন পানির সংযোগের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব নিজে পালন না করে বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মিটার রিডিং ও বিলিংয়ের কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর ও সংলগ্ন অভিজাত এলাকায় হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের নামে-বেনামে ৪টি বহুতল ভবন ও দামি বাড়ির সন্ধান মিলেছে, ০১ টিক্কাপাড়া (৭/এ/১৫), মোহাম্মদপুর একটি বহুতল আধুনিক আবাসিক ভবন।
০২ ঢাকা উদ্যান, ৩ নং রোড ৪ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন।
০৩ নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর ২ তলা বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক/আবাসিক বাড়ি।
০৪ চান মিয়া হাউজিং, মোহাম্মদপুর একটি বড় আবাসিক বাড়ি ও জায়গা।
কেবল ঢাকা শহরেই নয়, ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এই জেলাগুলোতে রয়েছে তার একাধিক টিনশেড ও পাকা বাড়ি। এছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছেন কয়েক একর জায়গাজুড়ে বিশাল মুরগির খামার (পোল্ট্রি ফার্ম) এবং বিভিন্ন বাজার এলাকায় ক্ষমতার দাপটে অবৈধ দখলের মাধ্যমে বেশ কিছু দোকানপাট তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার মাখল গ্রামে তার রয়েছে একটি প্রাসাদসম বিলাসবহুল বাড়ি, যা দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও কৌতূহলের বিষয়। এছাড়া গ্রামের চারপাশজুড়ে বিঘার পর বিঘা দামি কৃষিজমি ক্রয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
আইনি জটিলতা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ এড়াতে হারুন অর রশিদ তার অধিকাংশ সম্পদ নিজের নামে না রেখে স্ত্রী, সন্তান এবং অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নামে ক্রয় করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কেবল দুর্নীতির টাকাই কামাননি, বরং নিজের এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি বহু জমি জবরদখল করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হারুন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে কোটি কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (FDR) ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এছাড়া একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবার ব্যবহার করছে একাধিক দামি গাড়ি এবং তাদের হেফাজতে রয়েছে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যা তার বৈধ বেতন কাঠামোর সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্প্রতি হারুন অর রশিদের এই বিশাল দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে এবং তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্রামবাসী ও ওয়াসার সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, হারুন অর রশিদের আয়ের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় বা বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে থাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সমস্ত সম্পদের হিসাব প্রকাশ ও তা দ্রুত সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা হোক।
ঢাকা ওয়াসার একজন সাধারণ মিটার রিডার থেকে রাজস্ব পরিদর্শক হয়ে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার এই উত্থানকে অনেকেই “আলাদীনের চেরাগ”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে হারুন অর রশিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুল হক ফারুক রেজার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি হচ্ছে যে, মনিরুল হক ফারুক রেজা ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় যোগদানের পর প্রায় ৮ বছর একটি নির্দিষ্ট কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারি চাকরির জন্য প্রচলিত বদলি নীতিতে নির্দিষ্ট সময় পর বদলির বিধান থাকলেও অভিযোগ উঠেছে যে, তা কার্যকর হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি নানাবিধ অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ করা হয়েছে এবং উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ অপব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের কিছু কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন যে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজার বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আগামীতে প্রদর্শিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ