১২:২২ পি.এম
ঢাকা ওয়াসার জোন-৩-এর রাজস্ব পরিদর্শক (সাবেক মিটার রিডার) হারুন অর রশিদ (রানা)-এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে আন্ডার বিলিং, মিটারে অনিয়ম এবং অনুমোদনহীন পানির সংযোগের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব নিজে পালন না করে বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মিটার রিডিং ও বিলিংয়ের কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মেয়ের যৌতুক মামলার বদলা! গোমস্তাপুরে জামিনে ফিরে শ্বশুরকে কুপিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর ও সংলগ্ন অভিজাত এলাকায় হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের নামে-বেনামে ৪টি বহুতল ভবন ও দামি বাড়ির সন্ধান মিলেছে, ০১ টিক্কাপাড়া (৭/এ/১৫), মোহাম্মদপুর একটি বহুতল আধুনিক আবাসিক ভবন।
০২ ঢাকা উদ্যান, ৩ নং রোড ৪ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন।
০৩ নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর ২ তলা বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক/আবাসিক বাড়ি।
০৪ চান মিয়া হাউজিং, মোহাম্মদপুর একটি বড় আবাসিক বাড়ি ও জায়গা।
কেবল ঢাকা শহরেই নয়, ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এই জেলাগুলোতে রয়েছে তার একাধিক টিনশেড ও পাকা বাড়ি। এছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছেন কয়েক একর জায়গাজুড়ে বিশাল মুরগির খামার (পোল্ট্রি ফার্ম) এবং বিভিন্ন বাজার এলাকায় ক্ষমতার দাপটে অবৈধ দখলের মাধ্যমে বেশ কিছু দোকানপাট তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার মাখল গ্রামে তার রয়েছে একটি প্রাসাদসম বিলাসবহুল বাড়ি, যা দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও কৌতূহলের বিষয়। এছাড়া গ্রামের চারপাশজুড়ে বিঘার পর বিঘা দামি কৃষিজমি ক্রয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
আইনি জটিলতা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ এড়াতে হারুন অর রশিদ তার অধিকাংশ সম্পদ নিজের নামে না রেখে স্ত্রী, সন্তান এবং অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নামে ক্রয় করেছেন।
আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কেবল দুর্নীতির টাকাই কামাননি, বরং নিজের এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি বহু জমি জবরদখল করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হারুন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে কোটি কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (FDR) ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এছাড়া একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবার ব্যবহার করছে একাধিক দামি গাড়ি এবং তাদের হেফাজতে রয়েছে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যা তার বৈধ বেতন কাঠামোর সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্প্রতি হারুন অর রশিদের এই বিশাল দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে এবং তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্রামবাসী ও ওয়াসার সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, হারুন অর রশিদের আয়ের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় বা বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে থাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সমস্ত সম্পদের হিসাব প্রকাশ ও তা দ্রুত সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা হোক।
ঢাকা ওয়াসার একজন সাধারণ মিটার রিডার থেকে রাজস্ব পরিদর্শক হয়ে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার এই উত্থানকে অনেকেই “আলাদীনের চেরাগ”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে হারুন অর রশিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৫
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন