বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর প্রভাতী ট্রেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি কসবা স্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয়রা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় কসবাবাসী আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।
স্থানীয়দের ধারণা, ট্রেনটিকে বরণ করতে কসবা রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে স্টেশনে আসেন। ট্রেনটি পৌঁছানোর পর অনেকেই এর সঙ্গে ছবি তুলে স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখেন।
এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত চলাচলকারী মহানগর প্রভাতী ট্রেনের কসবা স্টেশনে কোনো যাত্রাবিরতি ছিল না। ফলে এ এলাকার যাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনটি ব্যবহার করতে ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কসবা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান জাতীয় সংসদেও এ দাবি উত্থাপন করেন। অবশেষে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান। এ সময় তিনি কসবা স্টেশনে মহানগর প্রভাতী ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রেলমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কসবা স্টেশন মাস্টার শফিকুর রহমান জানান, মহানগর প্রভাতী ট্রেনটি কসবা স্টেশনে দুই মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেবে। এ স্টেশন থেকে যাত্রীদের জন্য ট্রেনটিতে পাঁচটি আসন বরাদ্দ থাকবে। ট্রেনটির নির্ধারিত সময়সূচি সকাল ১০টা ২৩ মিনিট। তবে এদিন ট্রেনটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কসবা স্টেশনে পৌঁছায়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে ট্রাফিক কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম, কসবা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় কসবা ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষিখাতের উন্নয়ন, বাজার শৃঙ্খল কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি— যে কোনো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে কৃষক, তার উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিরাপত্তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত কৃষি ইকোসিস্টেম বা পরিবেশের সর্বোচ্চ প্রসার-উন্নয়ন: ব্লকচেইনের মাধ্যমে সংযোজন, অর্থায়ন এবং সহজীকরণ-গতিশীলকরণ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেন, আধুনিক কৃষি ব্যবসার চেইনে বা স্তরে জড়িত বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী ও স্টেকহোল্ডারদের সমস্যা নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়, মূল উৎপাদক কৃষকের সমস্যা নিয়ে সেভাবে আলোচনা করা হয় না।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির যত অগ্রগতিই হোক না কেন, মানুষের খাদ্যগ্রহণের জৈবিক অনিবার্যতার কারণে কৃষির ওপর আমাদের নির্ভর করতেই হবে। আমাদের দেশের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ সমাজে কৃষি পেশাকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে অবহেলার চোখে দেখা হয়। কৃষি ও কৃষকের এই স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত মূল্য না দিলে কোনো আলোচনাই পূর্ণাঙ্গ হবে না।’
কৃষিবান্ধব সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কৃষি ও কৃষককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনসহ কৃষকদের সহায়তায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কারণ আমাদের দেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) টিকিয়ে রাখার জন্য কৃষিই সবচেয়ে কৌশলগত খাত।
তিনি কৃষিখাতের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা যেন কৃষক পর্যন্ত পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের উৎপাদন, বাজারের নিরাপত্তা, ন্যায্য মুনাফা এবং পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কৃষক যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতারিত না হন, সে ব্যবস্থা কাঠামোগতভাবে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বব্যাপী কৃষিখাতে ভর্তুকিনির্ভরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এ খাতের স্থায়ী ও লাভজনক সমাধানের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে বক্তারা কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, অর্থায়ন এবং আধুনিক ব্লকচেইন প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচানচো, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জিয়াওকুন শি, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার এবং ইনোভেটেক প্যানেল-১ (বাজার সংযোগ) প্রকল্প পরিচালক ক্রিস্টিনা ওলসেন।
এছাড়াও সেমিনারে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শাইফুর রহমান মজুমদার, জেনারেল ম্যানেজার শাহজাহান শেখ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) কান্ট্রি হাব ম্যানেজার আলী এম. খান ও ব্যাংক এশিয়ার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকার উত্তরায় পাঁচটি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জারি করা একটি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া অন্যান্য সব বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
যে পাঁচটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো হলো ভার্সেটাইল ফ্যাশনস (প্রা.) লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন কিছু শ্রমিক বিভিন্ন দাবির ভিত্তিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ না করে ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় কর্তৃপক্ষের কাজে ফেরার অনুরোধ উপেক্ষা করে উত্তেজনাপূর্ণ ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তা এবং কারখানার সম্পদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ায় কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া কারখানাগুলোর অন্যান্য সব বিভাগের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পুনরায় চালুর তারিখ ও সময় পরে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা মহানগরী ও সদর উপজেলার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় এই বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বরাদ্দের মধ্যে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে এবং ৪টি বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও সংস্কার করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাউনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, শহীদ জিয়াউর রহমান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং বেগম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান তিনটিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণের উপযোগী ভিত্তির ওপর একতলা করে একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবন সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে শ্রেণিকক্ষের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং পাঠদান কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে, চারটি বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আব্দুল মজিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম সম্মেলনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রামকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শায়েস্তাবাদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রত্যেকটি ১৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং ভবনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
বেগম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান বাসসকে জানান, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ হলে কলেজের শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং আরও উন্নত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বাসসকে জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবন সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কিনা, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। তিনি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার প্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে।
পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে আপনি কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’
তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। তিনি বলেন, সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ