ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, নার্গিস আক্তার পুলিশে সোপর্দ


ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, নার্গিস আক্তার পুলিশে সোপর্দ

নার্গিস আক্তার (৩৬) নামের এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে ১৮ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা করে মোট ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেড় মাস ধরে ‘আজ-কাল’ করে ঘোরানোর পর যখন তিনি আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন, তখন ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। পরে কৌশলে বাকী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়ের বাজার এলাকার কৃষি ব্যাংকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। নার্গিস আক্তার ওই ইউনিয়নের মৃগালী গ্রামের বাসিন্দা এবং তাঁর স্বামী খোকন আলী।

অভিযোগকারী ছয়জন হলেন নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।

আরও পড়ুন: রংপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ জন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস তাঁদের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন ১৮ হাজার টাকা এবং বাকি পাঁচজন ১৬ হাজার টাকা করে দেন। টাকা নেওয়ার পর দেড় মাস ধরে নার্গিস তাঁদের ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে ঘোরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিনি আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন।

রাবেয়া খাতুন ও কনক মিয়া বলেন, ‘আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। দেড় মাস ঘোরানোর পর আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করলে আমরা বুঝতে পারি, তিনি প্রতারণা করছেন। পরে বাকি টাকা দেব বলে তাঁকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গত সোমবার আমি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি। পরে বুদ্ধি খাটিয়ে প্রতারকের দাবি করা বাকি ৪ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে আসতে বলা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমাদের নাম ভাঙিয়ে নার্গিস এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।’

আরও পড়ুন: জকিগঞ্জে পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে থানা-পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুদ্ধ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পুরস্কৃত রাসিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


শুদ্ধ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পুরস্কৃত রাসিক

জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন নিশ্চিত করে শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের হাতে ক্রেস্ট ও বিশেষ সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ স্বীকৃতির জন্য রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। নগরবাসীর সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

রিটন বলেন, নির্ধারিত সময়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। শুদ্ধ নিবন্ধনে পাওয়া এ স্বীকৃতি নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে রাসিকের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।#

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য চীনের সহযোগিতা কামনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য চীনের সহযোগিতা কামনা

বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চীন সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তা করার বিষয়ে দেশটি আগ্রহী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সাক্ষাৎকালে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, তথ্য বিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া, টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে মতবিনিময় করে।

ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রহস্যময় আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকটি রেজিষ্ট্রার ও আসভাবপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


নেছারাবাদে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রহস্যময় আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকটি রেজিষ্ট্রার ও আসভাবপত্র

 

 

 

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এক রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে গর্ভবতী রেজিস্টার, ওষুধ রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, চেয়ার-টেবিল, পর্দা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে লুঙ্গির মতো পেঁচানো একটি পোড়া কুণ্ডলী উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
 
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা সোনিয়া আক্তারের কক্ষে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা সোনিয়া আক্তার জানান, সোমবার প্রতিদিনের মতো অফিস শেষে তারা কেন্দ্রটিতে তালা দিয়ে চলে যান। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে অফিসে এসে ভেতর থেকে পোড়া গন্ধ পান। পরে তালা খুলে তার কক্ষে গিয়ে দেখেন, টেবিল চেয়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে গেছে। আগুনে বেশ কিছু রেজিস্টার, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কনডমও পুড়ে যায়।
তিনি বলেন, তাঁর কক্ষের একটি জানালা নষ্ট থাকায় সেটি খোলা ছিল। ভেতরে লুঙ্গির মতো পেঁচানো একটি পোড়া কুণ্ডলী পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেটি আলামত হিসেবে নিয়ে যায়।
 
উপজেলা মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) জহর বালা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল দেখে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়নি। আগুনে বেশ কিছু রেজিস্টার ও ওষুধপত্র পুড়ে গেছে। ভেতরে পাওয়া পোড়া কুণ্ডলীটি পুলিশ নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে।
 
নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পীরগঞ্জের ভেলামারী পাথারে অপার সম্ভাবনার হাতছানি, খনির কার্যক্রমে বদলাবে অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


পীরগঞ্জের ভেলামারী পাথারে অপার সম্ভাবনার হাতছানি, খনির কার্যক্রমে বদলাবে অর্থনীতি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলামারী পাথার অপার সম্ভাবনা ও বিপুল সম্পদের ভান্ডার নিয়ে হাতছানি দিচ্ছে। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এবং মূল্যবান সোনার ভান্ডার নিয়ে ডাকছে এই প্রত্যন্ত পল্লী। দেশের প্রথম বিশ্বমানের লৌহ খনির আশায় পীরগঞ্জবাসী অপেক্ষা করলেও, তা এখনও কংক্রিটের ঢালাইয়ের নিচে রয়েছে। পীরগঞ্জবাসীর দীর্ঘ ৬০ বছরের আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এই আশা-আকাঙ্খা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা রংপুর বিভাগের শেষ সীমান্ত। এর তিন দিকেই গাইবান্ধা, দিনাজপুর এবং বগুড়া জেলা অবস্থিত। শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী পাথার বিশাল এই খনির অবস্থান। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ-(জিএসবি) ও পেট্রোবাংলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের মাঝামাঝি এই ভেলামারী পাথারে আবিষ্কৃত হয় দেশের প্রথম ও বিশ্বমানের লৌহ খনি। এখানে লৌহ ছাড়াও তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এবং মূল্যবান সোনার ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়।

১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর, তৎকালীন পাকিস্তান খনিজ সম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করেন। বিমান থেকে শক্তিশালী চুম্বকদণ্ড ব্যবহার করে তারা মাটির নিচে বিভিন্ন ধাতব পদার্থের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য চিত্র অনুযায়ী একটি বিমান ও গাড়িবহর নিয়ে প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই মাঠে আসেন। তখনকার খনিজ বিজ্ঞানীরা এখানে লোহার খনির উৎস হিসেবে নিশ্চিত হয়ে কংক্রিটের ঢালাই করে চিহ্ন দিয়ে প্রাথমিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করেন।

১৯৬৭ সালের দিকে পাকিস্তান সরকার এখানে বড় পরিসরে অনুসন্ধান চালিয়ে উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময়ে জরিপ ও খনন করে লোহাসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতব উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। তারা মাটির ৯’শ ফুট নিচ থেকে ২২ হাজার ফুট পর্যন্ত উন্নত মানের লোহার স্তরের সন্ধান পান। প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় পাওয়া লোহার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান তামা, নিকেল ও ম্যাঙ্গানিজের অস্তিত্বও শনাক্ত হয়। অনুসন্ধানের সময় পাইপের ভেতর দিয়ে মাটির গভীরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে অনেক কুয়া ভেঙে যায়।

এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান শেষে ভেলামারিতে বোরিংকৃত চারটি মূল পাইপের উৎসমুখে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে ক্যাম্প গুটিয়ে চলে যান। তারা তখন বলেন, লৌহ অপরিপক্ব অবস্থায় আছে এবং ধারণা করেন আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এটি উত্তোলনযোগ্য হতে পারে। সেই হিসেবে ৪২ বছর আগে লোহা খনিটি পরিপক্কতা লাভ করেছে এবং বর্তমানে এটি উত্তোলনযোগ্য।

তবে, বিভিন্ন সময় খনির কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে নতুন করে কিছু কূপ খনন করে জরিপ পরিচালনা করা হয়। অনুসন্ধানে ঐ এলাকায় মূল্যবান খনিজ উপাদানের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের শেষের দিকে খনিটির মূল উৎস থেকে প্রায় ৪ কি.মি. দূরে কাশিমপুর গ্রামে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে কূপ খনন করা হয়, তবে সেখানে কি পাওয়া গেছে তা প্রকাশ করেনি জেএসবি।

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি, মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে ভূতাত্ত্বিক খনন কূপ জিডিএইচ-৭৯/২৫ নামে খনিতে অনুসন্ধান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তিন মাসব্যাপী এই প্রকল্পে এক হাজার ২০০ মিটার পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়, যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে, অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, রোপণকৃত ধান কাটার পর আবার খনন কাজ শুরু হতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আকবর আলী জানিয়েছেন, এর আগে এটি একবার খনন করা হয়েছিল। এটিকে ইডিএস-১৫ বলা হয় এবং সেখানে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাধীনতার পর ২০০০ সালে জিডিএইচ-৫৪ নামে একটি কূপ খনন করে ভূগর্ভের অবস্থা জানার জন্য সার্ভে করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালেও মিঠিপুর ইউপি’র কাশিমপুর গ্রামে ৭৮/২৩ নামে অপর একটি কূপ খনন করা হয়, সেখানেও কিছু খনিজ সম্পদের উপাদান পাওয়া যায়। এ বছর এক হাজার ২০০ মিটার খনন করা হবে।

তিনি আরও জানান, এখানকার বেজমেন্ট শিলা শক্তিশালী হওয়ায় ধাতব খনিজ যেমন লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।

জিএসবির পরিচালক (ভূতত্ত্ব) আরিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিন মাস ধরে খনন কাজ চলবে। খনিজ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পরই জানা যাবে এখানে ঠিক কী কী খনিজ সম্পদ রয়েছে। এই মুহূর্তে এটিকে লৌহখনি বলা সঠিক নয়।

খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিসোর্স কনফার্ম করার পর যদি জানা যায়, এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পদ আছে এবং ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়, তাহলে সরকারকে খনি থেকে উত্তোলন করতে অনুরোধ করা হবে।

এখানে কী ধরণের খনিজ সম্পদ থাকতে পারে, সে ব্যাপারে তারা জানিয়েছেন, এখানকার বেজমেন্ট হাই সুতরাং এখানে ধাতব খনিজ পদার্থ যেমন লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণও থাকতে পারে। তবে সঠিকটা জানার জন্য অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জিএসবি সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের ভেলামারিতে অনুসন্ধান চালিয়ে উন্নতমানের আয়রন কোর (লোহা আকরিক) পাওয়া গেছে। লৌহ খনিটি আবিষ্কারের পর এখন প্রায় ৬০ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারের এই লোহার খনিটি এখন পরিপক্কতা অর্জন করেছে। তাই এখান থেকে এখন উত্তোলনের সময় চলে এসেছে।

এদিকে, ভেলামারি পাথারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল এলাকায় নতুন করে কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশ্বমানের লৌহ খনি থেকে উত্তোলন কার্যক্রম চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র বদলে যাবে। বদলে যাবে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রা। ব্যাপক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষি, মজুর, শ্রমিকসহ সকল পেশার মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে যাবে। বিশাল কর্মযজ্ঞে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে ৪টি থানার মানুষ। বর্তমান জনবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পীরগঞ্জের আপামর জনগণ। তারা অনতিবিলম্বে পীরগঞ্জের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিশাল খনিজ ভান্ডার থেকে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%