ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুবিধাবাদীরা অস্থিরতা তৈরি করে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় : ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি


সুবিধাবাদীরা অস্থিরতা তৈরি করে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় : ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সাহিত্য ও শিল্পে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় এবং তারাই অস্থিরতা তৈরি করে।

তিনি শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ধর্ম পালন করে আসছেন। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে বলে দেশ-বিদেশে নানা প্রচার চালানো হয়। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ধর্ম সুন্দরভাবে পালন করে সেই প্রচারের জবাব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পুলিশের ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে

সংবিধানপ্রদত্ত অধিকারসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের যে স্লোগান—ধর্ম যার যার, উৎসব সবার; আমরা তার সঙ্গে যোগ করতে চাই—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সংবিধান আপনাকে যে নাগরিক অধিকার দিয়েছে, রাষ্ট্র তা রক্ষা করতে দায়বদ্ধ।’

১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তৈরি হয়েছিল, তা থেকে তারা সরে যাননি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই বাংলাদেশ রক্ষায় তারা যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম অবস্থানে যেতে চাই না। আমরা চরমপন্থি নই। আমাদের এই ধারাটা সব সময় অব্যাহত রাখতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, পূজা যেন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শুধু সরকারকে নয়, নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ এখন একটি ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। নির্বাচন হয়েছে, সংসদ গঠিত হয়েছে এবং সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। এটি একটি বাস্তবতা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার পঙ্‌ক্তি—‘যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে / সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া, / যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে, / যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া, / মহা-আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে, / দিক্-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা, / তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, / এখনি অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।’ উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরাও পাখা বন্ধ করব না। আমরাও উড়ে যাব, অবশ্যই তীরে পৌঁছবো। অবশ্যই পৌঁছবো। আমরা আমাদের যে স্বপ্ন—একটা অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময়, প্রেমময় বাংলাদেশ—সেই বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করব।’

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ন্যায়সংগত দাবিগুলো পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে পূজা উপলক্ষে সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

আরও পড়ুন: চিফ হুইপ: আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে হামলা চালিয়ে ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


সৌদিতে হামলা চালিয়ে ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে হুথিরা

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার ক্রমবর্ধমানতা তুলে ধরেছে। একই সময়ে, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে তাদের নিয়ন্ত্রণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলার পরও হুথিদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং উন্নত অস্ত্রের সহায়তা গ্রহণ করছে।

হুথিদের হাতে বর্তমানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তৃত মজুত রয়েছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরাইলেও হামলা চালানো সম্ভব। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে তারা। এর বিপরীতে, রিয়াদকে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুথিদের যোদ্ধার সংখ্যা ২০১৫ সালের প্রায় ৩০ হাজার থেকে বেড়ে তিন লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে। হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত দুর্গম এবং পাহাড়ি এলাকায় যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম ছড়িয়ে রেখে হামলা মোকাবিলার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করেছে।

সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৌদি আরবে প্রাণহানি, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সৌদি আরবের ব্যবসা, পর্যটন ও ক্রীড়া খাতের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার পরিকল্পনাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বছরের পর বছর বিমান হামলা চালানোর পরও বিদ্রোহীদের উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে শুরু করে হুথিরা। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলও হুথিদের ওপর হামলা চালায়।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হুথিদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন স্থল অভিযান এবং সমন্বিত সামরিক কৌশল। তবে হুথিবিরোধী ইয়েমেনি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

কূটনৈতিক সমাধানের পথও সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে। হুথিরা সৌদি অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। রিয়াদের আশঙ্কা, অবরোধ তুলে নিলে হুথিরা আরো শক্তিশালী হবে এবং ইরানের প্রভাব বাড়বে। ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সামনে সামরিক এবং কূটনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সূত্র: এপি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হানি সিংকে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


হানি সিংকে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হানি সিংকে মহারাষ্ট্রের সাইবার পুলিশ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ৪৩ বছর বয়সী এই গায়ক দিল্লির একটি কনসার্টে যৌনতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হন। এর আগে তিনবার তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। চতুর্থবার তলবের পর তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দিল্লির ওই কনসার্টে হানি সিংয়ের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গাড়ির মধ্যে যৌন সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে মুম্বাইয়ের এক বাসিন্দা সাইবার পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হানি সিং বিদেশে থাকার কারণে এর আগে তিনবার তলব করা হলেও হাজির হননি। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করলে পুলিশ তা নাকচ করে দেয়।

নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে সতর্কতামূলক নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরুর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান।

কনসার্টের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চান হানি সিং। তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, যা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন যে, নিজের বক্তব্য প্রকাশের ধরন যথাযথ ছিল না এবং কাউকে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। কনসার্টের মন্তব্য নিয়ে তদন্ত চলাকালীন হানি সিং বাদশাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরোনো গান ‘ভলিউম ওয়ান’ নিয়েও আইনি জটিলতার মুখে পড়েন। চলতি বছরের ২ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট গানটির লিংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফাইল আদান-প্রদানের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ দেন।

আদালত গানটির কথাকে অশালীন ও নারীর প্রতি অবমাননাকর বলে মন্তব্য করে। শিল্পীর স্বাধীনতা কিংবা মতপ্রকাশের অধিকারের দোহাই দিয়ে এ ধরনের বিষয়কে গ্রহণযোগ্য করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

গানটি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৫ সালের মার্চে দিল্লির একটি কনসার্টে গানটির কিছু অংশ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আবেদনকারী। পরে ওই বছরের মে মাসে এ বিষয়ে হানি সিংয়ের কাছে হলফনামাও চেয়েছিলেন আদালত।

‘ব্রাউন রং’, ‘লুঙ্গি ড্যান্স’ ও ‘দেশি কালাকার’-এর মতো জনপ্রিয় গানের জন্য পরিচিত হানি সিং এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতজগতে আলোচিত নাম। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের কারণে তার গান এবং প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লির কনসার্টে করা মন্তব্যের অভিযোগে পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরবাসীর ১৪ বছরের অপেক্ষা, দ্রুত বিআরটি চালুর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


গাজীপুরবাসীর ১৪ বছরের অপেক্ষা, দ্রুত বিআরটি চালুর দাবি

গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "প্রায় ১৪ বছর অপেক্ষার পরও আধুনিক গণপরিবহন সুবিধা না পাওয়ায়" প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকলেও তা ভেঙে ফেলা বা পরিত্যক্ত না করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত চালু করতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল এলাকা। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হলেও যানজট এবং দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা কমছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাদের মতে, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্প চালু হলে ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি আবাসন, হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাজধানীর ওপরও চাপ কমবে।

বক্তারা বলেন, প্রকল্পটির কারিগরি, পরিচালনাগত কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিচালন পদ্ধতি পরিবর্তন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।

তাদের দাবি, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কিংবা প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিআরটি দ্রুত চালুর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা, নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং প্রকল্প বাতিল বা মূল পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রকাশ করা।

এ ছাড়া রেল, এমআরটি, স্থানীয় বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা, গাজীপুরবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বক্তারা বিআরটি করিডোরের বিকল্প হিসেবে ড্যাপ, ডিটিসিএ ও জিসিসি অনুমোদিত সালনা-উত্তরা দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

তারা বলেন, গাজীপুরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু একটি জেলার মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্প, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন জড়িত। তাই জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের (DUET) অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সামসুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ মুনতাসির মামুন, পুবাইল আদর্শ কলেজের অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইমাম সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ফরহাদ হোসাইনসহ অন্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'আপনি নিজে এই টয়লেট ইউজ করবেন: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশের পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের টয়লেটে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি হাসপাতালের টয়লেটের নোংরা অবস্থার কথা লক্ষ্য করেন। তখন তিনি দায়িত্বরত এক কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আপনি নিজে কি এই টয়লেট ইউজ করবেন?।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%