ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হানি সিংকে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ


হানি সিংকে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হানি সিংকে মহারাষ্ট্রের সাইবার পুলিশ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ৪৩ বছর বয়সী এই গায়ক দিল্লির একটি কনসার্টে যৌনতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হন। এর আগে তিনবার তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। চতুর্থবার তলবের পর তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দিল্লির ওই কনসার্টে হানি সিংয়ের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গাড়ির মধ্যে যৌন সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে মুম্বাইয়ের এক বাসিন্দা সাইবার পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হানি সিং বিদেশে থাকার কারণে এর আগে তিনবার তলব করা হলেও হাজির হননি। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করলে পুলিশ তা নাকচ করে দেয়।

আরও পড়ুন: বিচ্ছেদের পর নীরবতা ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেহতাজের ছবি

নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে সতর্কতামূলক নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরুর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান।

কনসার্টের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চান হানি সিং। তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, যা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন যে, নিজের বক্তব্য প্রকাশের ধরন যথাযথ ছিল না এবং কাউকে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। কনসার্টের মন্তব্য নিয়ে তদন্ত চলাকালীন হানি সিং বাদশাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরোনো গান ‘ভলিউম ওয়ান’ নিয়েও আইনি জটিলতার মুখে পড়েন। চলতি বছরের ২ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট গানটির লিংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফাইল আদান-প্রদানের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ দেন।

আদালত গানটির কথাকে অশালীন ও নারীর প্রতি অবমাননাকর বলে মন্তব্য করে। শিল্পীর স্বাধীনতা কিংবা মতপ্রকাশের অধিকারের দোহাই দিয়ে এ ধরনের বিষয়কে গ্রহণযোগ্য করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’ নির্বাচিত হয়েছে ভিজিআইকে উৎসবে

গানটি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৫ সালের মার্চে দিল্লির একটি কনসার্টে গানটির কিছু অংশ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আবেদনকারী। পরে ওই বছরের মে মাসে এ বিষয়ে হানি সিংয়ের কাছে হলফনামাও চেয়েছিলেন আদালত।

‘ব্রাউন রং’, ‘লুঙ্গি ড্যান্স’ ও ‘দেশি কালাকার’-এর মতো জনপ্রিয় গানের জন্য পরিচিত হানি সিং এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতজগতে আলোচিত নাম। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের কারণে তার গান এবং প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লির কনসার্টে করা মন্তব্যের অভিযোগে পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরবাসীর ১৪ বছরের অপেক্ষা, দ্রুত বিআরটি চালুর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


গাজীপুরবাসীর ১৪ বছরের অপেক্ষা, দ্রুত বিআরটি চালুর দাবি

গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "প্রায় ১৪ বছর অপেক্ষার পরও আধুনিক গণপরিবহন সুবিধা না পাওয়ায়" প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকলেও তা ভেঙে ফেলা বা পরিত্যক্ত না করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত চালু করতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল এলাকা। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হলেও যানজট এবং দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা কমছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাদের মতে, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্প চালু হলে ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি আবাসন, হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাজধানীর ওপরও চাপ কমবে।

বক্তারা বলেন, প্রকল্পটির কারিগরি, পরিচালনাগত কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিচালন পদ্ধতি পরিবর্তন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।

তাদের দাবি, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কিংবা প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিআরটি দ্রুত চালুর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা, নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং প্রকল্প বাতিল বা মূল পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রকাশ করা।

এ ছাড়া রেল, এমআরটি, স্থানীয় বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা, গাজীপুরবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বক্তারা বিআরটি করিডোরের বিকল্প হিসেবে ড্যাপ, ডিটিসিএ ও জিসিসি অনুমোদিত সালনা-উত্তরা দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

তারা বলেন, গাজীপুরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু একটি জেলার মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্প, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন জড়িত। তাই জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের (DUET) অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সামসুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ মুনতাসির মামুন, পুবাইল আদর্শ কলেজের অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইমাম সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ফরহাদ হোসাইনসহ অন্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'আপনি নিজে এই টয়লেট ইউজ করবেন: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশের পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের টয়লেটে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি হাসপাতালের টয়লেটের নোংরা অবস্থার কথা লক্ষ্য করেন। তখন তিনি দায়িত্বরত এক কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আপনি নিজে কি এই টয়লেট ইউজ করবেন?।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের কোচের আইফোন ও ক্রেডিট কার্ড চুরি, উদ্বেগের সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের কোচের আইফোন ও ক্রেডিট কার্ড চুরি, উদ্বেগের সৃষ্টি

বাংলাদেশ হকি দলের অনুশীলনের সময় পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে প্রধান কোচ আনা আলোনসো এবং সহকারী কোচ ডালিয়া আক্তারের দুটি আইফোন চুরি হয়েছে। বিদেশি কোচের ফোনের সঙ্গে তার ক্রেডিট কার্ডও হারিয়ে গেছে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের অনুশীলন শুরু হয়। এই সময় খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করছিলেন আনা আলোনসো ও ডালিয়া।

দুজনের ফোনই রাখা ছিল কোর্টের পাশের একটি টেবিলে। বেলা পৌনে তিনটার দিকে ডালিয়া নিজের ফোনটি না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে দেখা যায়, টেবিলে রাখা অন্য ফোনটিও নেই। তিনি নিজের নম্বরে কল দিয়ে ফোনটি বন্ধ পান।

ডালিয়ার ফোনটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স মডেলের। আনা আলোনসোর ফোনের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হ্যান্ডবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ফোন দুটি উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্টেডিয়ামের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হ্যান্ডবল অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

একই স্টেডিয়ামে আগামীকাল বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি শুরু হওয়ার কথা। চার দেশের অংশগ্রহণে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল ফেডারেশনের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে বিদেশি কোচসহ দুজনের ফোন উধাও হওয়ার ঘটনায় আয়োজকদের অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় ৯৬৬টি মণ্ডপে বৈচিত্র্যময় থিম ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


খুলনায় ৯৬৬টি মণ্ডপে বৈচিত্র্যময় থিম ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা

ভোরের আবহ তখনো শেষ হয়নি, শারদীয় গন্ধমাখা সকাল। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের দুর্গোৎসব কিছুটা ব্যতিক্রম। মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন হওয়ায় নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমী বিহিত পূজার জন্য পূজারীরা দীর্ঘ সময় পেয়েছেন।

আজ (১৭ অক্টোবর) ও কাল—এই দুই দিন ব্যাপ্ত। অর্থাৎ ‘অহোরাত্র সপ্তমী তিথি’ বা ডাবল সপ্তমী। পঞ্জিকাগত চক্রের সময়কাল ও তিথির বিশেষ বৃদ্ধি (তিথি বৃদ্ধি)’র কারণে এ বছর বিরল যোগ তৈরি হয়েছে। ফলে মণ্ডপগুলোতে ভিড় অনেকটা কম রয়েছে।

মহাসপ্তমীর প্রথম দিন আজ (শনিবার) সকালে খুলনা নগরীর দোলখোলার ঐতিহ্যবাহী শীতলবাড়ি পূজা মন্দিরে এসব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

মন্দিরের পূজারী গৌতম সেন জানান, ‘মহাসপ্তমীর সকালে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এবার দুটি সপ্তমী পূজা হওয়ায় ভিড় কম। সবাই সময় নিয়ে আসছেন। তবে মহাঅষ্টমীতে তিথির সময় কম। এদিন দৃশ্য পাল্টে যাবে। সারাদিন দর্শনার্থী কম হলেও গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীর ভিড় রয়েছে। আগামী কয়েকদিন ভিড় আরো বাড়বে।’

শারদীয় উৎসব উপলক্ষে মহানগরী খুলনা মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত পূজারী ও দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর থাকবে পূজা মণ্ডপগুলো।

মহানগরীতে ৭৬টি মণ্ডপসহ এবার জেলায় মোট ৯৬৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন মণ্ডপে বৈচিত্র্যময় থিম, দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

মাটির প্রতিমায় শিল্পীর হাতে ব্যতিক্রমী রূপ পেয়েছে নগরীর প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের দেবী দুর্গা। চারজন ভাস্করের দেড় মাসের পরিশ্রমে ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া ধানে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার রূপ, যা খুলনা অঞ্চলে প্রথম। এই শৈল্পিক প্রতিমা দেখতে পূজা শুরু হওয়ার আগেই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন।

তেঁতুলতলা মন্দিরে পূজা দেখতে আসা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘সত্যিই অসাধারণ। ধানের ওপর সোনালি রং, যেন মায়ের স্বর্ণের প্রতিমা।’

মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়ের ভাষায়, পূজারী ও দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই ব্যতিক্রমী আইডিয়া। প্রথমে মাটি দিয়ে দেবী মূর্তি গড়া হয়েছে। তারপর ধান ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা গড়তে হয়েছে। ধানের ওপর করা হয়েছে সোনালি রং। সোনালি আভায় ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গার অকৃত্রিম রূপ।

এদিকে, জেলার ডুমুরিয়ায় গড়া হচ্ছে ১৫ ফুট উচ্চতার হনুমান, রাম-লক্ষণ ও সীতার প্রতিমা। খড়সংঘ মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ১৫২তম পূজা উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে ১৫২টি প্রতিমা। সেখানে স্থান পেয়ে সিকাগো শহরে স্বামী বিবেকানন্দের ভাষণ, ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও রাধা, জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, মহাভারতের রামচন্দ্র, দেবী দুর্গা, কালী, কালী ও পরমহংস দেবের লীলাসহ সমাজের ভালো-মন্দের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

মন্দিরের কোষাধাক্ষ্য সুমন শীল জানিয়েছেন, প্রতিবছরই তারা ব্যতিক্রমী আয়োজন করে থাকেন। এবার মন্দিরের ১৫২তম পূজা। তাই ১৫২টি প্রতিমায় সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন দেবীর লীলাকথা মূর্তির মাধ্যমে তুলে ধরে সনাতন ধর্মের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বোধ জাগ্রত করতে প্রতিবছর এমন আয়োজন করা হচ্ছে।

খুলনা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরের ৭৬টিসহ খুলনায় এবার ৯৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে সর্ব্বোচ ডুমুরিয়া উপজেলায় ২২৬টি। এছাড়া পাইকগাছায় ১৫১টি, দাকোপে ৮১টি, বটিয়াঘাটায় ১০৮টি, তেরখাদায় ৯৭টি, কয়রায় ৫৭টি, দিঘলিয়ায় ৬১টি, রূপসায় ৭৬টি এবং ফুলতলায় ৩৩টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মহানগরীর পাঁচ থানার মধ্যে সদর থানায় ২৬টি, সোনাডাঙ্গায় ১১টি, খালিশপুরে ১১টি, দৌলতপুরে ২০টি এবং খানজাহান আলী থানায় আটটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%