০৪:৪৩ পি.এম
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার ক্রমবর্ধমানতা তুলে ধরেছে। একই সময়ে, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে তাদের নিয়ন্ত্রণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলার পরও হুথিদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং উন্নত অস্ত্রের সহায়তা গ্রহণ করছে।
হুথিদের হাতে বর্তমানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তৃত মজুত রয়েছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরাইলেও হামলা চালানো সম্ভব। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে তারা। এর বিপরীতে, রিয়াদকে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে বাংলাদেশি স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে হত্যা: স্বামী রঞ্জিত গ্রেপ্তার
জাতিসংঘের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুথিদের যোদ্ধার সংখ্যা ২০১৫ সালের প্রায় ৩০ হাজার থেকে বেড়ে তিন লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে। হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত দুর্গম এবং পাহাড়ি এলাকায় যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম ছড়িয়ে রেখে হামলা মোকাবিলার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করেছে।
সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৌদি আরবে প্রাণহানি, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সৌদি আরবের ব্যবসা, পর্যটন ও ক্রীড়া খাতের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার পরিকল্পনাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বছরের পর বছর বিমান হামলা চালানোর পরও বিদ্রোহীদের উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে শুরু করে হুথিরা। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলও হুথিদের ওপর হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হুথিদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন স্থল অভিযান এবং সমন্বিত সামরিক কৌশল। তবে হুথিবিরোধী ইয়েমেনি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৯ জনকে হত্যা করিয়েছি’ দাবি অনন্ত কুমার সিংয়ের
কূটনৈতিক সমাধানের পথও সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে। হুথিরা সৌদি অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। রিয়াদের আশঙ্কা, অবরোধ তুলে নিলে হুথিরা আরো শক্তিশালী হবে এবং ইরানের প্রভাব বাড়বে। ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সামনে সামরিক এবং কূটনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্র: এপি
আরএ
আরও পড়ুন: কুয়েতের গৃহকর্মী খাতে ৪০ শতাংশ ভারতীয়, বাংলাদেশি মাত্র ১২ শতাংশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন