ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেসির বিদায়ের দিনে বিস্ফোরক বিবৃতি রোনালদোর


মেসির বিদায়ের দিনে বিস্ফোরক বিবৃতি রোনালদোর

লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিস্ফোরক একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পেছনের কারণগুলো প্রকাশ করে কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি, যা ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রায় দুই হাজার শব্দের দীর্ঘ এই বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তার ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন রোনালদো।

রোনালদোর অভিযোগ, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচির বিষয়ে জেসাসের সঙ্গে একটি গোপন পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললেও তিনি পর্তুগালেই থাকার কথা ছিল। অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন সফরে যাবে, তখন তিনি নিজে দেশে থেকে যাবেন—এমন ভুল বার্তা তৈরি করতে চাননি রোনালদো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন হয় এবং জেসাস তাকে নরওয়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে নামানোর কথা জানান।

এখানেই মূলত সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। রোনাল্ডোর দাবি, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি নিয়মমাফিক ওয়ার্ম-আপও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের কথায় পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এখান থেকেই কোচের প্রতি তার ‘বিশ্বাসের ভিত নড়ে যায়’ বলে জানান এই ফরোয়ার্ড।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

এরপর জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেন রোনাল্ডো। তবে এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি। সতীর্থ ও দেশের কোটি কোটি সমর্থকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেন, রাগ বা অভিমানের বশে শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তার একদম উচিত হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি তাকে কোনো শাস্তি দেয়, তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব আরও অনেক বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন রোনালদো।

সবমিলিয়ে, এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সময়টাই পুরো ঘটনাটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে যেদিন মেসির বিদায়ে আবেগ, স্মৃতি আর অশ্রুতে সিক্ত হয়েছে বিশ্ব ফুটবল, ঠিক সেই দিনেই রোনালদোর এই অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি নাটকীয়তা সৃষ্টি করেছে। এক মেগা তারকার বিদায়বেলায় যখন বিষাদের সুর, অন্য মেগা তারকার কণ্ঠে তখন রাগ, অভিমান আর হিসাব-নিকাশের কড়া সুর। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহারথীর শেষ অধ্যায় যেন লেখা হচ্ছে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রনাট্যে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড় সীমান্তে ভারত থেকে পুশইন হওয়া ছয় বাংলাদেশি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


পঞ্চগড় সীমান্তে ভারত থেকে পুশইন হওয়া ছয় বাংলাদেশি আটক

পুলিশ পঞ্চগড় জেলার সীমান্তে ভারত থেকে পুশইনের শিকার ছয় বাংলাদেশিকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে শের-ই-বাংলা পার্কের কাছে শ্যামলী পরিবহণের কাউন্টার থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের পরিচয় যাচাইয়ের পর পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের রঙ্গারচর বিন্দাবননগরের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৬০), তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৫৫) এবং মেয়ে দিলারা বেগম (৩০)। এছাড়া জামাতা মফিজ উদ্দিন (৩২) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের চরারবাজার এলাকা থেকে, সুনামগঞ্জের কোম্পানীগঞ্জের কান্দিসুমতনগরের সুমন মিয়া (২০) এবং তার ফুফাতো ভাই সজিব মিয়া (১৯) রয়েছেন।

আটককৃতরা জানিয়েছেন, তারা সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দালালচক্রের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা ভারতীয় কাশ্মিরের শ্রীনগর এলাকায় ফলের বাগানসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তাদের আটক করা হয় এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি বিএসএফ তাদের কারাগার থেকে মুক্ত করে পঞ্চগড়ের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে।

পুশইনের পর তারা পঞ্চগড় জেলা শহরে এসে নাস্তা করেন এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে গাড়ির টিকিট বুক করতে যান। এ সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ তাদের আটক করে। তবে তারা কোন সীমান্ত দিয়ে পাড়াপাড় হয়েছে, তা জানাতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, বিএসএফ পঞ্চগড় জেলা শহরের কাছাকাছি কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করেছে।

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, "আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তারা নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। তবে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

অন্য এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে পাঁচতলা ভবনে আগুন, ছাদে আটকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


মুন্সীগঞ্জে পাঁচতলা ভবনে আগুন, ছাদে আটকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার শিলমন্দি এলাকার মোহাম্মদপুরে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার মিটার বোর্ডে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার ফলে ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে কিছু বাসিন্দা ছাদে উঠে আটকা পড়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করার পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাকির গাজীর পাঁচতলা ভবনে এই ঘটনা ঘটে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

তিনি জানান, আগুনের কারণে ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এ সময় কিছু বাসিন্দা ছাদে উঠে আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে আগুনের ফলে ভবনের ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে রাতে থেমে গিয়েছিল এক মেধাবী প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে রাতে থেমে গিয়েছিল এক মেধাবী প্রাণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে তিনি প্রাণ হারান। আবরারের একটি ফেসবুক পোস্ট, যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৎকালীন কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে লেখা হয়েছিল, তাকে হত্যার কারণ হিসেবে মামলার অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি ভিন্নমত দমন ও শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে ওঠে। আবরারের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি প্রতীক হিসেবেও তিনি আলোচিত হয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে সরকারি কর্মসূচি পালন করা হলেও এবার সরকারি কোনো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। আজ (৭ অক্টোবর) বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের উদ্যোগেও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফিরেছিলেন আবরার ফাহাদ। তিনি তখন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তাকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তানিম নামের এক শিক্ষার্থী ঘুম থেকে আবরারকে তুলে বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে।’ আবরার জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, ‘গেলেই দেখতে পাবি।’

অভিযোগপত্রে বলা হয়, এর আগে সন্ধ্যায় মুজতবা রাফিদ তার সহযোগী ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি যাবেন এবং আবরারকে ধরলে সেদিনই ধরতে হবে। এ সময় হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ অন্যদের জানান, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে ফিরেছেন।

এ খবর পাওয়ার পর তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে আবার একত্রিত হন। রাত ৮টার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি এবং এএসএম নাজমুস সাদাত আবুজার আবরারের কক্ষে যান। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আবরারকে মারধরের জন্য তানিম ক্রিকেটের স্টাম্পও নিয়ে যান।

পরে আবরারের ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ তার মোবাইল ও ল্যাপটপ পরীক্ষা করতে থাকেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আবরারের মোবাইলে শিবিরের তথ্য পাওয়া গেছে—এমন কথা বলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এরপর আবরারকে চশমা খুলতে বলা হয়। চশমা খোলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন তার মুখে কয়েকটি জোরে থাপ্পড় মারেন। এর মধ্যে মোরশেদ অমর্ত্য ইসলাম কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। ইফতি মোশাররফ প্রথমে আবরারকে থাপ্পড় মারেন এবং পরে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে তার পিঠ, পা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড মারধরে একটি ক্রিকেট স্টাম্প দুই টুকরা হয়ে যায়। এরপর এহতেশামুল রাব্বি আরও একটি স্টাম্প নিয়ে আসেন। অনিক সরকারও একটি স্টাম্প হাতে তুলে নেন এবং একটানা আবরারের শরীরে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। এতে আবরার মেঝেতে পড়ে যান।

পরে মুজাহিদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লা মোটা দড়ি দিয়ে আবরারকে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আবরার বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করেন। এরপর মিফতাহুল ইসলাম ওরফে জীয়ন ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন এবং বারবার জানতে চান, আবরার শিবির করেন কি না।

রাত ১১টার দিকে ওই কক্ষে এসএম মাহমুদ ওরফে সেতু আসেন। তিনি উপস্থিত অন্যদের কাছে আবরারের বিষয়ে জানতে চান। তখন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ ও মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আবরার কোনো তথ্য দিচ্ছে না।’

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এরপর মাহমুদ ওরফে সেতু অন্যদের ‘মারতে থাক’ বলে নির্দেশ দেন। এরপর আবার ক্রিকেট স্টাম্প ও দড়ি দিয়ে আবরারকে মারধর করা হয়। ইফতি মোশাররফ ও অনিক সরকার তাকে স্টাম্প দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের কনুই দিয়েও আবরারের পিঠে আঘাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবাই মিলে তাকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারতে থাকেন।

ওই কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিন অন্যদের বলেন, ‘তোরা আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর।’ এরপর মনিরুজ্জামান মনির জানান, তিনি আবরারের মোবাইল পরীক্ষা করে শিবিরের তথ্য পেয়েছেন। এরপর তিনি ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে মারধর করেন।

তাবাখখারুল, নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম এবং মুনতাসির আল জেমিও আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। পরে অনিক সরকার আবার ওই কক্ষে ঢুকে ক্রিকেট স্টাম্প হাতে নেন এবং আবরারকে আরও ৪০ থেকে ৫০টি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একপর্যায়ে আবরার বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। তিনি বাঁচার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতে আকুতি-মিনতি করলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতভর নির্যাতনের একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সিঁড়ির কাছে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা রাতের খাবার খেতে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মরদেহ সিঁড়ি থেকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে রাখা হয়। ভোরে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

হলের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে আবরারকে ধরে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সে সময় হলের প্রাধ্যক্ষ জাফর ইকবাল খান জানিয়েছিলেন, রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে বুয়েটের চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, বুয়েটের ‘আড়ি পেতে শোনা’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমতাবলম্বী ও ধর্মীয়ভাবে অনুশীলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের ক্ষেত্র তৈরি করে।

অনুসন্ধানে বলা হয়, ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা ওই গ্রুপটি ২০১৩ সালের শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় থেকে শাহবাগপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান নেয়। গ্রুপটির তৎকালীন প্রশাসক প্যানেল ‘বুয়েটকে শিবিরমুক্ত করার’ প্রচার চালায়। এর অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে গ্রুপটিতে ৪৪ জন শিক্ষার্থীর একটি নিষিদ্ধ তালিকা প্রকাশ করা হয় বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়। তালিকায় শিবির বা সরকারবিরোধী মত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের নামও ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই তালিকায় থাকা বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়। তালিকা তৈরি ও প্রকাশের সঙ্গে তৎকালীন প্রশাসক প্যানেলের সদস্য জাভেদ ইকবাল, মিশকাত আল আলভি, মাসুদ করিম খানসহ অনেকে জড়িত ছিলেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ‘আড়ি পেতে শোনা’ গ্রুপের চিহ্নিত সদস্যরা তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, যেখানে কাউকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করাকে বৈধতা দেওয়া হতো। বিভিন্ন পোস্টে এ ধরনের নির্যাতনের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হতো বলেও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘শিবিরমুক্ত’ করার নামে ধর্মভীরু শিক্ষার্থীদেরও শিবির আখ্যা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে নির্যাতনের ভয়ে সহপাঠীরাও আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে সাহস পেতেন না। আবরার ফাহাদকে ওই পরিবেশের সবচেয়ে মর্মান্তিক শিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বুয়েটের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নির্যাতনের বিষয়ে প্রশাসন অবগত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে ওঠে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বা সহযোগিতা নির্যাতনের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ২৫ জনকে আটক করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। পরে বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে রায়ে সন্তুষ্ট থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করেনি।

এখন চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। দুই ধাপের বিচার শেষ হলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কোনো পক্ষ।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজও বুয়েটে পড়াশোনা করছেন। ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগপত্রে বর্ণিত ঘটনার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যার আগে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শেষ পোস্টটি ছিল ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর। ওই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

পোস্টে আবরার ফাহাদ লিখেছিলেন, দেশভাগের পর বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ছয় মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও ভারত তা দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর তিনি লেখেন, ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।’

পোস্টের দ্বিতীয় অংশে কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আবরার। তিনি লিখেছিলেন, যে দেশের একটি রাজ্য অন্য রাজ্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে বাংলাদেশ বিনিময় ছাড়া প্রতিদিন দেড় লাখ ঘনমিটার পানি দেবে।

তৃতীয় অংশে তিনি ভারতের উত্তরাঞ্চলে কয়লা ও পাথর রপ্তানি বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, গ্যাসের অভাবে বাংলাদেশের কারখানা বন্ধ করতে হলেও নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

পোস্টের শেষে কবি রজনীকান্ত সেনের ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন আবরার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের একাংশের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক নিপীড়নের পরিবেশেরই মর্মান্তিক পরিণতি ছিল আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড।

সাত বছর পরও আবরার ফাহাদের নাম বাংলাদেশে একটি আলোচিত ছাত্রহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তার পরিবার, সহপাঠী ও সমর্থকদের কাছে তিনি ভিন্নমত প্রকাশের কারণে নিহত এক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি স্মরণীয় প্রতীক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%