মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২০ এম
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ১০১৪-এ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারাও রয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন একজন ফিলিস্তিনি ক্রীড়া কর্মকর্তা।
৮ মে, ২০২৬ তারিখে মধ্য গাজায় ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করছেন ইসরাইলি হামলায় অঙ্গ হারানো ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদরা। ছবি: সংগৃহীত।
গাজা শহরের তাল আল-হাওয়া এলাকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় জাবালিয়া সার্ভিসেস ক্লাবের খেলোয়াড় আবদেল ফাত্তাহ আবু আল-আইশ নিহত হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়, জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি ক্রীড়া গণমাধ্যম ফেডারেশনের মহাসচিব মুস্তফা সিয়াম।
সিয়াম বলেন, আবু আল-আইশ তার দলের সাথে ‘হাজার শহীদ কাপ’-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও জানান, ইসরাইলি হামলায় গাজার ক্রীড়া পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। স্টেডিয়াম, ক্লাব, স্পোর্টস হল ও একাডেমি ধ্বংস হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ক্রীড়া স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ফিলিস্তিনি ক্রীড়াজগতকে একটি “অস্তিত্বের” সংকটে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিয়াম।
আবু আল-আইশ ফিলিস্তিনি প্রথম বিভাগে জাবালিয়া সার্ভিসেস ক্লাবের হয়ে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতেন এবং তিনি অল্প সময়ের জন্য আহলি বেইত হানুনের হয়েও খেলেছেন। রবিবার গাজা শহরে ক্রীড়াবিদ ও ফিলিস্তিনি সমর্থকদের উপস্থিতিতে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। জাবালিয়া সার্ভিসেস ক্লাব তাকে উত্তর গাজার অন্যতম উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে শোক প্রকাশ করেছে।
এটি গাজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিয়াম জানান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের হত্যা করা হয়েছে এবং খেলোয়াড়, কোচ ও প্রশাসকদের আটক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফিলিস্তিনি ক্রীড়া গণমাধ্যম ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৫৬টি ক্রীড়া ক্লাবের মধ্যে ৫০টিরও বেশি এবং ফিফার সমর্থনে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রায় ২০টি ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল মাঠ ধ্বংস হয়ে গেছে।
গাজায় ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি এবং তীব্র সম্পদ সংকট সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি ক্রীড়া সংস্থাগুলো কিছু কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আবু আল-আইশ নিহত হন।
মার্চ মাসের শুরুতে একটি আনুষ্ঠানিক ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে গাজায় সংগঠিত ক্রীড়া পুনরুজ্জীবিত করার প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের জন্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া মাত্র তিনটি মাঠ উপলব্ধ ছিল।
স্থাপনা ধ্বংস এবং কর্মী হারানোর কারণে ক্রীড়া পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
ইসরাইল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় তার গণহত্যা শুরু করে। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল চুক্তিটি লঙ্ঘন করে চলেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের হামলায় ১,৩২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,৩৮৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামকরণে ‘নিখুঁত নিশানা’ হলেও বাস্তবতা হলো এটি একটি ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নতুন একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথমবারের ব্যবহারেই এমন ভয়াবহ দৃশ্য উঠে এসেছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর এটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রাণঘাতী কণা বা পেলেট ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিস্ফোরণস্থলের অনেক দূরে অবস্থানরত নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।
এই ভয়াবহ ঘটনা ইরানের লামার্দ শহরে সংঘটিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি এবং নজরদারি সংস্থা ‘এয়ারওয়ারস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা পিআরএসএম (PrSM) প্রথমবারের মতো এখানে ব্যবহার করে। শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং দুটি আবাসিক এলাকায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতটি নিষ্পাপ শিশুও ছিল।
হামলার ধ্বংসযজ্ঞ ছিল অকল্পনীয়। নিজের বাড়ির সামনে খেলছিল দুই বছরের শিশু আভিনা। বিস্ফোরণস্থলের ৫০ মিটার দূর থেকে প্রচণ্ড বেগে ছিটকে আসা একটি কণা নিভিয়ে দেয় তার জীবন প্রদীপ। এমনকি ১৭০ মিটার দূরের একটি স্কুলও এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে এটিকে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক প্রথম’ ব্যবহার বলে গর্ব করেছিল। তবে পরে এপি-র কাছে তারা এই প্রাণহানির দায় অস্বীকার করে।
তবে এত বেসামরিক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও পেন্টাগন থেমে নেই। উল্টো এই ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন চার গুণ বাড়াতে সম্প্রতি লকহিড মার্টিনের সঙ্গে তারা ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, খাসজমি ও জলমহাল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংঘর্ষে রতন মিয়া নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। নিহত রতন মিয়ার পরিবার এবং স্থানীয়দের একটি অংশ সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে। অপরদিকে, প্রতিপক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন যে তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী এবং তাঁর পক্ষের লোকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে আলীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত রতন মিয়ার বাড়িতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের আহাজারিতে। রতনের মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করে।
এ সময় গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজন মানুষকে রতন মিয়া হত্যার বিচার দাবি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলীনগর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী, অন্যদিকে অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত রতন মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত রতন মিয়ার বাবা মো. সোনা মিয়া বাদী হয়ে ১৬৯ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, রতন হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, হত্যা মামলা হওয়ার পর তাদের পক্ষের অনেক পুরুষ সদস্য বাড়িঘরে না থাকায় সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তাদের দাবি, ঘরের আসবাবপত্র, ধান, গবাদিপশু, নৌকা ও কৃষি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী ও তাঁর পক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, রতন হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে প্রতিপক্ষ বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ গ্রামে অবস্থান করছিল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
শাহাদ্বীব আলী বলেন, রতন হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এর বিচার হওয়া দরকার। প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। রতন হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা মামলা থেকে রেহাই পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গ্রাম ঘুরে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। কিছু ঘরের টিনের চালে ফুটো এবং কোথাও বেড়া ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকটি বাড়িতে আসবাবপত্রও কম দেখা গেছে। তবে এসব ভাঙচুর কখন, কীভাবে এবং কারা করেছে, তা সরেজমিনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে কথিত লুটপাটের অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সংঘর্ষে একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মার্ডার হওয়ার পর আসামিরা যখন পলাতক ছিল, তখন ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পলাতক থাকার পর ১৫-২০ দিন আগে তারা বাড়িতে এসে আদালতে একটি মামলা করেছে। তবে মামলাটি এখনো থানায় আসেনি। মামলা এলে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হবে।
আলীনগরের বর্তমান পরিস্থিতিতে রতন মিয়া হত্যার বিচার দাবি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ধুম ইউনিয়নের দক্ষিণ মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্প এলাকায় পারিবারিক বিরোধের কারণে রুবি আফরোজ (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসা সনদের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে রুবি আফরোজের পুত্রবধূ, বেয়াই-বেয়াইন এবং আত্মীয়স্বজন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে রুবি আফরোজের পুত্রবধূ বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফিরে আসতে রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দক্ষিণ মোবারকঘোনা আবাসন প্রকল্পের মামুন সওদাগরের মুদি দোকানের সামনে তিনি তার দুই বছর বয়সী নাতি জুবায়েরকে দেখতে পান। শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে ইট-পাটকেল ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ১. রুমা আক্তার (২২) স্বামী শামসুদ্দিন, ২. নেজাম উদ্দিন (৫৫) পিতা অজ্ঞাত, ৩. নেহার বেগম (৫০) স্বামী নেজাম উদ্দিন, ৪. জাহাঙ্গীর (১৯), ৫. রিমা আক্তার (৩০), ৬. মোহাম্মদ আরাফাত (১৮), ৭. জসীম উদ্দীন (৩০) পিতা- মোঃ কাশেম।
এ ঘটনায় রুবি আফরোজ অভিযোগ করেন যে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে এবং ডান হাতের কবজিতে রক্তাক্ত কাটা জখম হয়েছে। একই সময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রুবি আফরোজকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এই ঘটনায় রুবি আফরোজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরারগঞ্জ থানার ওসির কাছে আবেদন করেছেন।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছের রায়হান। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসি নাছের রায়হান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো মাদক কারবারি কিংবা মাদকসেবী গ্রেপ্তার হলে তার পক্ষে কেউ সুপারিশ করলে সুপারিশকারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো মাদক কারবারিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বা সেল্টার দেয়, সে-ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওসি নাছের রায়হান বলেন, “থানার সব পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
মাদকের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে ওসি বলেন, “কাঁঠালিয়া থানায় হয় মাদক থাকবে না, নয়তো আমি থাকব।”
ওসি নাছের রায়হান জানান, তিনি গত ২৯ মে ২০২৬ কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নির্মূলকে তিনি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের কঠোর অবস্থানকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হলে কাঁঠালিয়া উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, মাদক কারবারি ও সরবরাহকারীদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।
কাঁঠালিয়াকে মাদকমুক্ত করতে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ