প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, খাসজমি ও জলমহাল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংঘর্ষে রতন মিয়া নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। নিহত রতন মিয়ার পরিবার এবং স্থানীয়দের একটি অংশ সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে। অপরদিকে, প্রতিপক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন যে তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী এবং তাঁর পক্ষের লোকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে আলীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত রতন মিয়ার বাড়িতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের আহাজারিতে। রতনের মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করে।
এ সময় গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজন মানুষকে রতন মিয়া হত্যার বিচার দাবি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলীনগর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী, অন্যদিকে অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত রতন মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত রতন মিয়ার বাবা মো. সোনা মিয়া বাদী হয়ে ১৬৯ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, রতন হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, হত্যা মামলা হওয়ার পর তাদের পক্ষের অনেক পুরুষ সদস্য বাড়িঘরে না থাকায় সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তাদের দাবি, ঘরের আসবাবপত্র, ধান, গবাদিপশু, নৌকা ও কৃষি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী ও তাঁর পক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, রতন হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে প্রতিপক্ষ বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ গ্রামে অবস্থান করছিল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
শাহাদ্বীব আলী বলেন, রতন হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এর বিচার হওয়া দরকার। প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। রতন হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা মামলা থেকে রেহাই পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গ্রাম ঘুরে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। কিছু ঘরের টিনের চালে ফুটো এবং কোথাও বেড়া ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকটি বাড়িতে আসবাবপত্রও কম দেখা গেছে। তবে এসব ভাঙচুর কখন, কীভাবে এবং কারা করেছে, তা সরেজমিনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে কথিত লুটপাটের অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সংঘর্ষে একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মার্ডার হওয়ার পর আসামিরা যখন পলাতক ছিল, তখন ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পলাতক থাকার পর ১৫-২০ দিন আগে তারা বাড়িতে এসে আদালতে একটি মামলা করেছে। তবে মামলাটি এখনো থানায় আসেনি। মামলা এলে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হবে।
আলীনগরের বর্তমান পরিস্থিতিতে রতন মিয়া হত্যার বিচার দাবি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন