বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে আবারও ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখা হচ্ছে। বুধবার দুপুরে হলের গেটে নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু করে হল প্রশাসন।
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী জানালেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লিখিত কোনো আবেদন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখিত আবেদন আমাদের কাছে নেই। মৌখিকভাবে বারবার এসে তারা আমাদের বিরক্ত করছে। অভিভাবকেরা বিভ্রান্ত হন। তাদের সার্টিফিকেটে এক নাম, আর বলা হচ্ছে আরেক নাম। এখন শুধু শেখ মুজিবুর রহমান হল লেখা হবে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের মূল ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ওই নাম পরিবর্তন করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ডাকসু নেতারা।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার সুপারিশ করা হয়।
তবে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। এ সময় প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে গোপন বৈঠক হওয়ার বিষয়টি সৌদি আরব স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। এই তথ্যটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের চ্যানেল ১৪ জানায়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সৌদি প্রতিনিধিরাও supposedly অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই খবরটি আমিরাতের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে যে, নেতানিয়াহুর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই গোপন বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই, আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলি এই বৈঠকের আড়ালে পুরো বিষয়টি সংগঠিত করার দায়িত্বে ছিলেন।
তবে সৌদি কর্মকর্তার এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রচারিত গোপন বৈঠকের খবরটি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সদর উপজেলায় দুই উদ্যোক্তাকে তেল ভাঙানোর মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেলের উৎপাদন এবং স্থানীয়ভাবে সরিষার তেলের বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে।
আজ বুধবার সকালে ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের হাতে মেশিন দুটি তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম উপস্থিত থেকে ফাড়াবাড়ী এলাকার দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের উদ্যোক্তা হারুনুর রশিদ ও শিবগঞ্জ এলাকার মিলন সরকারের কাছে মেশিন দুটি হস্তান্তর করেন।
এ সময় সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল মুজাহিদ, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন রায়সহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ মৌসুমে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ২ হাজার ৬৩০ জন কৃষককে সরিষার বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ১৫ হাজার কৃষককে এ প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। জেলায় হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন হিসাবে এবার মোট ১১ হাজার ৩১ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়েছে।
শুধু সদর উপজেলাতেই উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন সরিষা, যা এ অঞ্চলে সরিষা উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, সরিষার এই বাম্পার উৎপাদন স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে ভোক্তাদের কাছে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর সরিষার তেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পের আওতায় জেলায় ছয়টি এবং সদর উপজেলায় দুটি তেল ভাঙানোর মেশিন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজারে ভেজাল ভোজ্য তেলের বিস্তার এবং সাম্প্রতিক সময়ে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষার তেল ভোক্তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সরিষা প্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তাদেরও আর্থিক সাশ্রয় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের সময় ভাষাশহীদ আবদুস সালাম বুকে গুলি নিয়ে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ঘটিয়েছিলেন। সালামের বাড়ি দাগনভূঞায় অবস্থিত। যদিও আমরা সালামকে নিয়ে গর্বিত, তবে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে সালামের আত্মত্যাগের ইতিহাস অনেকাংশে অনুপস্থিত রয়েছে। কিছু পাঠ্যপুস্তকে সালামের নাম উল্লেখ থাকলেও তা ইতিহাসের পূর্ণতা পায়নি। এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক এবং লজ্জাজনক বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার দুপুর ১২টার সময় দাগনভূঞার ফাজিলেরঘাট রোডে ভাষাশহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর, সবুজ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. নুর করিম নোবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক আকবর হোসেন এবং কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, কলেজের প্রভাষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের পরিবেশ মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্ব, আধিপত্যের লড়াই এবং রক্তাক্ত সংঘর্ষের ভয়ের গল্পে ভরা। এখানে অপরাধের জগতে কার রাজত্ব থাকবে এবং কে পালাবে, তা নিয়ে চলে নাটক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও থেমে থাকে না। তবে মাদকের কারবার রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয় না।
এক সময়ের গডফাদার ইশতিয়াকের হাত ধরে অপরাধের জগতে প্রবেশ করে রাজা, যিনি ‘পিচ্চি রাজা’ নামে পরিচিত। পুলিশে সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরে সে ক্যাম্পের আতঙ্ক হয়ে ওঠে এবং শীর্ষ মাদকসম্রাটে পরিণত হয়।
গত ১৯ মে, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার পর পিচ্চি রাজাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় মামলার সংখ্যা ২৯টি, যার মধ্যে তিনটি হত্যা, সাতটি হত্যাচেষ্টা, চারটি বিস্ফোরক এবং ১৩টি মাদকের মামলা অন্তর্ভুক্ত। গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ঢাকার আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপর থেকে পিচ্চি রাজা ফের আলোচনায় এসেছে।
গ্রেফতারের পর পিচ্চি রাজা পুলিশের কাছে তার অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ার কাহিনী বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শুরুতে তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। আয় কম হওয়ায় পরে একটি গ্যাস পাম্পে চাকরি নেন। সেখানে তার আয় ছিল প্রায় তিন হাজার টাকা। কিন্তু এক ঘটনায় চাকরি হারানোর পর আবার ক্যাম্পে ফিরে আসেন। ২০১৮ সালে পুলিশি অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়। ওই অভিযানে তার কাছ থেকে কিছু না পেলেও তার বিরুদ্ধে ৫১ পিস ইয়াবার মামলা দেওয়া হয়। এটি ছিল তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে মাদক বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে অল্প পরিমাণ মাদক কিনে বিক্রি করতেন এবং এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা আয় হতো। পরে আবার কারাগারে গেলে অপরাধীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। বেরিয়ে এসে মাদক কারবারে যুক্ত হন। পিচ্চি রাজা পুলিশকে বলেন, এক পর্যায়ে সে নিজেই মাদক ব্যবসা শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের পর অল্প বয়সেই ক্যাম্পের মাদক কারবারি ইশতিয়াকের সঙ্গে যুক্ত হন রাজা। একই সময় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। ফলে ক্যাম্পের অপরাধজগতের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ তৈরি হয়। ২০২০ সালে করোনায় ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর ক্যাম্পের একটি অংশের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে আসে।
পিচ্চি রাজা একপর্যায়ে টেকনাফ থেকে মাদকের চালান এনে ক্যাম্পে সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে পিচ্চি রাজার সঙ্গে বুনিয়া সোহেলসহ কয়েকটি গ্রুপের বিরোধ তীব্র হয়। মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ, এলাকার লাইনম্যান নিয়োগ, অর্থ আদায় এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। পিচ্চি রাজা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পের সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে ‘রাজত্ব’ নিতে চেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। ক্যাম্পে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বুনিয়া সোহেলের নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে পিচ্চি রাজার বক্তব্যে। বুনিয়া সোহেল এমন অবস্থান চেয়েছিলেন যেখানে ক্যাম্পে তার ওপর আর কেউ থাকবে না। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, বুনিয়া সোহেলের ওপর হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের পর ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পিচ্চি রাজার প্রভাব বাড়ে। গত বছর অক্টোবরে বুনিয়া সোহেলের আস্তানায় হামলা ও লুটপাটের সময় পিচ্চি রাজাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে প্রভাব বিস্তারের কথা বলতে শোনা গেছে। পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ-সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার শ্বশুর খোরশেদ, শালা নয়ন এবং ফুফাতো ভাই রনিসহ কয়েকজন আত্মীয় এ অর্থের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তার ২৫ থেকে ৩০টি সিএনজিচালিত অটো এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি রয়েছে।
পিচ্চি রাজার সঙ্গে মাদক কারবার ও অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে আদি, নবাব, শাহজাদা, ফাইজান, বেলুন, রুবেল, রনি, নাটা সুমন, সুজন, ব্যাটারি কামরান, হীরা ও মঈন পিচ্চিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তারা মাদক সরবরাহ, অর্থ আদায়, দখল নিশ্চিত করা এবং প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর কাজে যুক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অপরাধী সোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে পরে সেই পরিচয়কে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে। ফলে একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তার জায়গায় আরেকজনের উত্থান ঘটে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘কে আমাদের সোর্স আর কে আমাদের সোর্স নয়, এটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। তিনি অপরাধী কি না, সেটাই আমাদের কাছে প্রধান বিষয়।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পের সব অপরাধীকে গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
পিচ্চি রাজার খোঁজে থানায় মামলা
যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর জানান, দুদিন পার হলেও খোঁজ নেই পিচ্চি রাজার। এ ঘটনায় গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন জানান, থানার উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ মজুমদার বাদী হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে কোনাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি পিচ্চি রাজা। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ