সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৬ পি.এম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ (গ্রস) বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৪১১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, উল্লিখিত তারিখে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ৪১১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৬০০ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার। উভয় হিসাবের মধ্যে পার্থক্য ৪ হাজার ৮১১ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের সক্ষমতা এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সামর্থ্য মূল্যায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। আমদানি ব্যয় মেটানো, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ রিজার্ভের গুরুত্ব অপরিসীম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগুনের খোসা অনেকেই সাধারণত ফেলে দেন। তবে, বেগুনের খোসায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং পুষ্টিগুণের কারণে এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল এবং ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি জৈব সার তৈরির জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এখন থেকে বেগুনের খোসা ফেলে না দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে তা ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। আসুন, বেগুনের খোসা ব্যবহারের পাঁচটি কার্যকর উপায় সম্পর্কে জানি।
১. ত্বকের যত্নে
ত্বকের ট্যান দূর করতে বেগুনের খোসা অত্যন্ত কার্যকর। বেগুনের খোসা একটু পিষে, ত্বকের ট্যান পড়া স্থানে লাগালে তা ট্যান দূর করতে সহায়তা করে।
২. চুলের উজ্জ্বলতা ফেরাতে
বেগুনের খোসা সিদ্ধ করে নিন। এরপর সেই সিদ্ধ করা পানি দিয়ে চুল ধোয়া হলে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে এবং শুষ্কতা দূর হবে।
৩. জৈব সার তৈরিতে
বেগুনের খোসা রোদে শুকিয়ে কম্পোস্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করুন। তবে, এটি সরাসরি গাছের গোড়ায় না দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া ভালো। এটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার পাশাপাশি গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বেগুনের খোসা সিদ্ধ করা পানি সামান্য লেবুর রস এবং লবণ মিশিয়ে নিন। এই পানি দিয়ে তামা কিংবা পিতলের বাসন পরিষ্কার করলে তা একেবারে নতুনের মতো হয়ে ওঠে।
৫. ঘরোয়া কম্পোস্ট তৈরিতে
ঘরোয়া কম্পোস্ট তৈরির জন্য রান্নাঘরের অন্যান্য সবজির খোসার সাথে বেগুনের খোসাও রাখতে পারেন। এটি খুব দ্রুত পচে যায় এবং খুব ভালো ঘরোয়া কম্পোস্ট তৈরি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে অবস্থিত কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি একসময় রাজধানীর অভিজাত শপিং মলগুলোর মধ্যে একটি ছিল। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিপণিবিতানে নামী ব্র্যান্ডের শোরুম, পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও উপহারসামগ্রীর দোকান ছিল। এখানে ফুড কোর্ট এবং বাগানও ছিল।
কিন্তু ক্রমশ ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় একের পর এক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে টানা লোকসান এবং পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি এক দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক গুরুত্ব হারাতে শুরু করেছে। শান্তিনগর ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন, করোনাকালে ব্যবসায়িক মন্দা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের অন্যত্র চলে যাওয়া এবং ক্রেতাদের আস্থার সংকট—এসব কারণে বিপণিবিতানটি পিছিয়ে পড়ে। অনলাইন কেনাকাটার প্রসার এবং বড় শপিং মলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারার বিষয়টিও এতে যুক্ত হয়েছে।
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির ২০ তলা ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছিল। উপরের তলাগুলো আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চালুর সময় বিপণিবিতানটিতে ১৯৮টি দোকান ছিল, কিন্তু বন্ধ ঘোষণার সময় মাত্র ১৭টি দোকান চালু ছিল। ক্রেতাসংকটে অধিকাংশ দোকান আগেই বন্ধ হয়ে যায়।
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকী বিল্লাহ ওসমানী বলেন, "ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় থেকেই বিপণিবিতানটির ব্যবসায়িক পতন শুরু হয়।" তিনি জানান, ২০১৬-১৭ সালের দিকে নির্মাণকাজের কারণে আশপাশের সড়কে যানজট, ধুলাবালি ও চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়। তখন বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অন্য মার্কেটে চলে যান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তারা আর ফিরে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, "করোনাকালে ব্যবসায় বড় ধস নামে।" অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দেন। অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ার কারণে ক্রেতারা আগের মতো মার্কেটে আসছেন না। এছাড়া, এই বিপণিবিতানে পণ্যের বৈচিত্র্যও কম ছিল। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহ কমতে থাকে।
বাকী বিল্লাহ ওসমানী জানান, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি চালু রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হতো। তিনি বলেন, "গত ছয় মাসে সার্ভিস চার্জ বাবদ মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি পাওয়া যায়নি।" এই অবস্থায় সমিতির কর্মকর্তা ও কয়েকজন দোকানমালিক ঋণ নিয়ে ছয় থেকে আট মাস বিপণিবিতানটি চালু রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচের বকেয়া বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তথ্য অনুযায়ী, বিপণিবিতানটির বিদ্যুৎ বিল ৬০ লাখ টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিনের লোকসান ও পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ায় দোকানমালিকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক পতনের পেছনে পণ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের পণ্য বিদেশি বা নামী ব্র্যান্ডের বলে বিক্রি করতেন। এতে বিপণিবিতানটির প্রতি ক্রেতাদের আস্থা কমে যায়।
অন্যদিকে, ই-কমার্স ও ফেসবুকভিত্তিক কেনাকাটার বিস্তার এবং বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের মতো বড় শপিং মলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ব্যবসায়িক সংকট আরো বাড়িয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারাও বিপণিবিতানটির পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হলেও ভবনটির ওপরের তলাগুলোর আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টগুলো চালু রয়েছে। বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু বিপণিবিতানের বাণিজ্যিক অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
কর্ণফুলী গ্রুপের উদ্যোগে নির্মিত এই বিপণিবিতানের অধিকাংশ দোকান আগেই ব্যক্তিমালিকানায় নিবন্ধন করে বিক্রি করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনটি বিক্রি অথবা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে ভাবছেন মালিকেরা। গত দুই বছর ধরে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান খোঁজার চেষ্টা করেও সফল হননি তারা।
একসময় রাজধানীর অভিজাত কেনাকাটার অন্যতম গন্তব্য হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির বন্ধ হয়ে যাওয়া নগরীর পরিবর্তিত ব্যবসায়িক বাস্তবতারও প্রতিফলন। ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদার পরিবর্তন, অনলাইন কেনাকাটার বিস্তার, প্রতিযোগিতা এবং পরিচালন ব্যয়ের চাপের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে প্রতিষ্ঠিত বিপণিবিতানও যে টিকে থাকার সক্ষমতা হারাতে পারে, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির পরিণতি তারই উদাহরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর রায়পুরায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ স্বপ্না আক্তার (৪২) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি পরিবহন করছিলেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মাহমুদাবাদ এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক স্বপ্না আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকার দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ