মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে জেলায়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে দিনব্যাপী জব ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
জব ফেয়ার অনুষ্ঠানে জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় মোট ৫১ টি প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে সিভি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মেলায় চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থীদের তাৎক্ষণিক ইন্টারভিউ নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, চাকরি করতে আগ্রহী অনেক শিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন সময়ে এসে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আজকের জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ জব ফেয়ার এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থী নির্বাচন করতে সক্ষম হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর-আড্ডা সড়কের তেঁতুলতলা বাজার অংশের রাস্তাটির দীর্ঘদিনের বেহাল দশা এখন চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেঁতুলতলা বাজার এলাকার প্রধান সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে। অনেক স্থানে এমন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে যে, সেখান দিয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার পানি নামার কোনো জায়গা নেই। বৃষ্টি হলে বা রাস্তার ধারের দোকানপাট থেকে ব্যবহৃত পানি সরাসরি রাস্তায় এসে জমা হয়। ফলে রাস্তাটি পচে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে তাদের ব্যবসাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, গ্রাহকরা দোকানে আসতে চাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী চালকরা অভিযোগ করেন, এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও, কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার এবং সড়কের দুই পাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে শুধু যান চলাচলই সহজ হবে না, বরং ভবিষ্যতের বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেও সবাই রক্ষা পাবে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ড্রোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দফতরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (এসএসএসডিডব্লিউ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সীমান্তের যেসব দুর্গম ও গভীর বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা রয়েছে, যেখানে সরাসরি জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর; সেসব জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপরাপর পক্ষের যেকোনো অপতৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা অনেক সহজ হবে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের অতি দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ড্রোন স্কুলে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সেই সঙ্গে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে ইতোমধ্যে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের আগে মন্ত্রীকে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়।
উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবির দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চালু করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সেবার মান উন্নত হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান স্টাফ বাস যাত্রার উদ্বোধন করেন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স মর্জিনা আক্তার, যিনি স্টাফ বাস সার্ভিস ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জানান যে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৩টি বিআরটিসি দ্বিতল বাস চালু করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ৭৫ জন যাত্রী নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই বাস দুটি রোডে চলাচল করবে।
প্রথম রুটটি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে চিটাগং এবং দ্বিতীয়টি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে রামপুরা-বাড্ডা-কুড়িল রুটে চলবে। সকাল বেলা যাত্রীদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দুপুরে তাদের আবার ওই রোডে পৌঁছে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই সেবা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন যে, অতীতে অনেক চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণপরিবহণ এবং অটোরিকশা ব্যবহার করে হাসপাতালে আসতেন। এর ফলে তারা অনেক সময় সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতেন না, যা রোগীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা সেবাদাতাদের জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুটি রুটে স্টাফ বাস সার্ভিস চললেও যদি সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ে, তবে বাস এবং রুট দুটিই বাড়ানো হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এটি তাদের কাজের জন্য আরও সহায়ক হবে এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ