০৭:৪৩ পি.এম
চীনা গবেষকদের দ্বারা কাঠজাত জৈববস্তু থেকে টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তাঁদের উদ্ভাবিত রাসায়নিক অনুঘটকের মাধ্যমে সংশ্লেষণ গ্যাস থেকে জেট জ্বালানি তৈরির পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখা গেছে।
গবেষকদের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি একটি প্রস্তাবিত কারখানায় বছরে এক লাখ টন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়, তাহলে মোট মুনাফার হার ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এ প্রযুক্তি যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তাহলে বিমান চলাচল খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা করবে।
এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনা গবেষকেরা এমন একটি রাসায়নিক অনুঘটক তৈরি করেছেন, যা কাঠজাত জৈববস্তু থেকে উৎপন্ন সংশ্লেষণ গ্যাস বা সিনগ্যাসকে টেকসই জেট জ্বালানিতে রূপান্তর করতে সক্ষম। এই প্রক্রিয়ায় কোবাল্ট ও ম্যাঙ্গানিজভিত্তিক অনুঘটক ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষক দল এক হাজার টন সক্ষমতার পরীক্ষামূলক পর্যায়ে অনুঘটকটির কার্যকারিতা যাচাই করেছে এবং জ্বালানি উৎপাদনে ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছে।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
গবেষণার ফলাফল সেপ্টেম্বর মাসে পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং জীবনচক্রভিত্তিক মূল্যায়ন প্রযুক্তিটির শিল্প পর্যায়ে ব্যবহারের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।
উৎপাদন বাড়লে বাড়তে পারে মুনাফা
নতুন প্রযুক্তিটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে গবেষকেরা বছরে এক লাখ টন জেট জ্বালানি উৎপাদনক্ষম একটি প্রস্তাবিত কারখানার মডেল বিশ্লেষণ করেছেন। ওই বিশ্লেষণে মোট মুনাফার হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। তবে এই মুনাফার হিসাব কোনো চালু কারখানার বাস্তব আয় নয়, বরং এটি সম্ভাব্য উৎপাদন ও ব্যয়ের ভিত্তিতে তৈরি একটি অর্থনৈতিক পূর্বাভাস। প্রকৃত মুনাফা নির্ভর করবে কাঁচামালের দাম, কারখানা স্থাপনের ব্যয়, উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা এবং বাজারে জ্বালানির বিক্রয়মূল্যের ওপর। গবেষকদের প্রত্যাশা, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ করা গেলে টেকসই জেট জ্বালানির উৎপাদন আরও কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করা সম্ভব হবে।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
বিমান চলাচল খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাঠজাত জৈববস্তু থেকে উৎপাদিত জ্বালানি উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হলে প্রচলিত জেট জ্বালানির তুলনায় জীবনচক্রজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর পরিবেশগত সুফল নির্ভর করবে ব্যবহৃত কাঁচামালের উৎস, উৎপাদনে প্রয়োজনীয় শক্তি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের ওপর। চীনা গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে টেকসই জেট জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টাও গতি পেতে পারে।
বাণিজ্যিক উৎপাদনই পরবর্তী চ্যালেজ্ঞ
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সাফল্য এবং সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হিসাব থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বৃহৎ পরিসরে ধারাবাহিক উৎপাদন, কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারে। সব মিলিয়ে, চীনা গবেষকদের এই উদ্ভাবন টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ৫০ শতাংশের বেশি মুনাফার পূর্বাভাস বাস্তবে অর্জিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিটির শিল্প পর্যায়ে প্রয়োগ ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের ফলাফলের ওপর।
সোর্স: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন