বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১৭ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের চীন সফরের পরও কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, উত্তরঞ্চলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল বাজেট বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় কৃষক শক্তির উদ্যোগে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বহু বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম বড় প্রত্যাশা। কিন্তু নানা আলোচনা এবং বিদেশ সফরের পরও প্রকল্পটির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের প্রত্যাশা বারবার ভেঙে পড়ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দে অবহেলা করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি বঞ্চনা আরও গভীর হবে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে বুলেট গ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। এ অঞ্চলে যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই কৃষক পরিবারের মানুষ।"
কৃষকদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল সংগ্রহের কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্রমশ সংকটে পড়ছেন। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, নারী শক্তির আহ্বায়ক নাসিরা খন্দকার নিসাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সার ও বীজের সহজলভ্যতা এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর, ভারত সরকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী জাহাজগুলোর চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
দেশটির কোনও নাবিককে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে- এমন কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশ জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়েছে, এটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
বুধবার গভীর রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজিএস) জানায় যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে- এমন কোনও জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না।”
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হরমোজ প্রণালী এবং এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত দু’জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ভারত সরকার নাবিকদের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন জাহাজে অবস্থান করছেন, এ পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারত নাবিক সংগঠন ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নাবিক সরবরাহকারী দেশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ৩ লাখের বেশি ভারতীয় নাবিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। সংখ্যার দিক থেকে ভারত বৈশ্বিকভাবে তৃতীয় বৃহত্তম নাবিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় অংশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে রফতানি হওয়া তেল ও গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা এলাকায় আজ ট্রাফিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গাড়িচালক, সহকারী, যাত্রী ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতন করা হয়।
একই সঙ্গে জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের অংশগ্রহণে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়কের ওপর অবৈধ দখল, প্রতিবন্ধকতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী স্থাপনা অপসারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়, ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত ট্রাফিক অভিযান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বা দেশ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক 'জুলাই শহীদ দিবস' পালিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখার ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোঃ আব্দুল হাই চেয়ারম্যান, আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখা। তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখা; মাওলানা মনির আযম মুন্নু, জেলা ইউনিট সদস্য, রাজবাড়ী; পলাশ খান (আবদুল্লাল), আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বালিয়াকান্দি এবং মিজানুল ইসলাম মিরাজ, সহকারী সেক্রেটারি, জাতীয় নাগরিক পার্টি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা জামান, আমীর, বহরপুর ইউনিয়ন; মাওলানা রোকুনুজ্জামান, সভাপতি, নবাবপুর ইউনিয়ন; মোঃ ইসহাক মোল্লা, আমীর, জামালপুর ইউনিয়ন; মোঃ রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন; মাঃ ইদ্রিস আলী, সভাপতি, ইসলামপুর ইউনিয়ন; মোঃ নুরুল ইসলাম, সভাপতি, নারুয়া ইউনিয়ন; মোঃ বছির উদ্দিন, সভাপতি, জঙ্গল ইউনিয়ন এবং মাওলানা ইদ্রিস আলী, সভাপতি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে বালিয়াকান্দি বাজারের তালপট্টিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি করেন।
বক্তারা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ