প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের চীন সফরের পরও কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, উত্তরঞ্চলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল বাজেট বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় কৃষক শক্তির উদ্যোগে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বহু বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম বড় প্রত্যাশা। কিন্তু নানা আলোচনা এবং বিদেশ সফরের পরও প্রকল্পটির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের প্রত্যাশা বারবার ভেঙে পড়ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দে অবহেলা করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি বঞ্চনা আরও গভীর হবে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে বুলেট গ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। এ অঞ্চলে যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই কৃষক পরিবারের মানুষ।"
কৃষকদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল সংগ্রহের কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্রমশ সংকটে পড়ছেন। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, নারী শক্তির আহ্বায়ক নাসিরা খন্দকার নিসাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সার ও বীজের সহজলভ্যতা এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন