বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:১৬ পি.এম
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণাকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, নতুন কোনো কর বৃদ্ধি না করেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যের শুরুতে প্রশাসক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদ, ভাষাসৈনিক এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ধান, নদী ও খালের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বরিশাল কেবল দক্ষিণাঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস।
তিনি আরও বলেন, সীমিত আয় থাকা সত্ত্বেও নগরবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নতুন ডাম্প ট্রাক, কম্প্যাক্টর ট্রাক এবং ভ্যাকুয়াম ট্রাক কেনা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরীর প্রধান ড্রেন ও খাল থেকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা ও পলি অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলখাল, আমানতগঞ্জ খাল, সাগরদী খাল ও লাকুটিয়া খালের সংস্কার ও পুনঃখননের জন্য প্রায় ৭৬৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিদিন লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রূপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বেলতলা ও কীর্তনখোলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর জন্য অনলাইনভিত্তিক পানি সংযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে আবেদন, অনুমোদন এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ আরও সহজ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে একটি পানির এটিএম বুথ স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চৌমাথা লেকে মিউজিক্যাল ফোয়ারা স্থাপন, বিবির পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধন, বিভিন্ন পার্ক সংস্কার এবং আলোকসজ্জার উন্নয়ন করা হয়েছে।
নারীদের জন্য আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ মার্কেট স্থাপন এবং অসচ্ছল নারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন পার্ক ও মাঠ উন্নয়নের পাশাপাশি খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনার জন্যও বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের আওতায় টিকাদান কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হরিজন ও ডোম সম্প্রদায়ের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে একটি ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতার শেষাংশে প্রশাসক বলেন, ‘বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবো বলে বিশ্বাস করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ সচিবালয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি : পিআইডি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্জন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জনগণের সামনে তথ্যভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম যেন স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মন্ত্রণালয় বিভাগ কর্তৃক প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভা শুরুর আগে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পক্ষ থেকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, অর্জন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয় বিষয় নিয়ে উপস্থাপনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দপ্তরকে তাদের কর্মপরিধি ও অর্জন সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যনির্ভরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ, কৃষি উন্নয়ন, ঋণ বিতরণ, উপকারভোগীর সংখ্যা, সমবায় সদস্য বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং প্রয়োজনভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক জনশক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সব ধরনের সেবা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই জরিপের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যা, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এই তথ্য ভবিষ্যতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং লক্ষ্যভিত্তিক সেবা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক একেএম তারেক, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত কুমার সিকদার, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), গোপালগঞ্জের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন পিএইচডি সহ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন সকল প্রকল্প পরিচালক এবং বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)এর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ১১২ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এটি নাসিকের ১৫তম বাজেট এবং সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নগরভবনের অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট ঘোষণা করেন, নাসিকের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান। অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে নাসিকের বাজেট ছিল ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
নাসিক প্রশাসক জানিয়েছেন, এবারের বাজেটে নগরবাসীর জনদুর্ভোগ লাঘবকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, সুপেয় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায়, ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে মোট সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ১১২ টাকা। অন্যদিকে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩০ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৪০২ টাকা। ফলে হিসাব অনুযায়ী বছর শেষে ১৩০ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৭১০ টাকা উদ্বৃত্ত থাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাজেটে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাসিকের জালকুড়িতে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড চালু, কদমরসুলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবকাঠামো নির্মাণ, ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ৫৪টি পানির পাম্প স্থাপন, হকার পুনর্বাসন, ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ৩০টি ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ নির্মাণের বিষয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেট ঘোষণে পাঁচ হেক্টর জায়গাজুড়ে পার্ক, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থায়নের উদ্দেশ্যে, বাজেটের প্রধান উৎস হিসেবে নাসিকের নিজস্ব রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন খাতের আয়, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রাপ্ত অর্থ বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাজেট ঘোষণাকালে নাসিক প্রশাসক আরও বলেন, আর্থিক সক্ষমতা, নিজস্ব রাজস্ব আয়, উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং নগরবাসীর প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নাগরিকদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার পাশাপাশি নতুন রাজস্ব আয়ের উৎস তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও যুক্ত করেন, বাজেটে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয়ের পাশাপাশি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এসময় তিনি সময়মতো হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিলসহ সব ধরনের ফি পরিশোধের আহ্বান জানান।
এছাড়া, নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণাতেও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে তার পরিচয়। তিনি আরও বলেছেন, কেউ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নয়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। হাটহাজারীতে সব ধরনের অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
বুধবার উপজেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব গ্রেফতারকৃতরা সরাসরি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাকি আসামিদেরও দ্রত গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা সামাজিক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করার চেষ্টা করেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীর কোনো দল, গোত্র বা পরিচয় নেই। অন্যায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি এ ছাড়াও হাটহাজারীবাসীর সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদে বরাবরের মতো পাশে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ ৭৪০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ দুজনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, দুপুরের সময় পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকায় জলিল আকন্দের বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময়, পুলিশ দুজনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম (৫৬) ও নাজমুন নাহার খানম তামান্না (২৩), যাঁরা বাবা ও মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার, ২৯ জুলাই, বাগিচাপাড়া এলাকায় মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ কৌশলে তৈরি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়। ট্রাকটিতে বিশেষভাবে তৈরি একটি কেবিন ছিল, যার মাধ্যমে গোপনে মাদক পাচার করার চেষ্টা চলছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তৎপর হয় এবং খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় জলিল আকন্দের বাড়িতে অভিযান করেন। ওই সময় একটি ঘর থেকে ৭৪০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্বার করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানিয়েছেন যে, বুধবার কাস্টমাইজ করা একটি মিনি ট্রাক তারা জব্দ করেছেন, যা মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হতো। আজ জলিলের বাড়িতে মাদক রয়েছে বলে খবর পাওয়ায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে সন্দেহজনক একটি ঘরে তারা তল্লাশি চালান এবং একপর্যায়ে ঘরে লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হন। জানা গেছে, বাড়িতে জলিলের স্ত্রী ও শ্বশুর উপস্থিত ছিলেন। তবে, জলিল পলাতক আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দুজনকে আটক করেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ