প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণাকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, নতুন কোনো কর বৃদ্ধি না করেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যের শুরুতে প্রশাসক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদ, ভাষাসৈনিক এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ধান, নদী ও খালের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বরিশাল কেবল দক্ষিণাঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস।
তিনি আরও বলেন, সীমিত আয় থাকা সত্ত্বেও নগরবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নতুন ডাম্প ট্রাক, কম্প্যাক্টর ট্রাক এবং ভ্যাকুয়াম ট্রাক কেনা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরীর প্রধান ড্রেন ও খাল থেকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা ও পলি অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলখাল, আমানতগঞ্জ খাল, সাগরদী খাল ও লাকুটিয়া খালের সংস্কার ও পুনঃখননের জন্য প্রায় ৭৬৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিদিন লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রূপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বেলতলা ও কীর্তনখোলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর জন্য অনলাইনভিত্তিক পানি সংযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে আবেদন, অনুমোদন এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ আরও সহজ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে একটি পানির এটিএম বুথ স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চৌমাথা লেকে মিউজিক্যাল ফোয়ারা স্থাপন, বিবির পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধন, বিভিন্ন পার্ক সংস্কার এবং আলোকসজ্জার উন্নয়ন করা হয়েছে।
নারীদের জন্য আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ মার্কেট স্থাপন এবং অসচ্ছল নারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন পার্ক ও মাঠ উন্নয়নের পাশাপাশি খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনার জন্যও বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের আওতায় টিকাদান কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হরিজন ও ডোম সম্প্রদায়ের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে একটি ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতার শেষাংশে প্রশাসক বলেন, ‘বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবো বলে বিশ্বাস করি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন