ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী, খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন


গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী, খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

একজন নিপাট গৃহবধূ হিসেবে খালেদা খানম এসেছিলেন স্বামী জিয়াউর রহমানের পরিবারে। ঘর-সংসার সামলানোর চৌহদ্দিতে আবদ্ধ থাকা একজন বাঙালি নারীর জীবন পরিবর্তনের নানা বাঁক পেরিয়ে এগিয়ে চলেছিল। সংসারজীবন থেকে বেরিয়ে বেগম জিয়া গণতন্ত্রের মহাযাত্রায় নাম লেখান। তিনি হয়ে ওঠেন গণমানুষের বাতিঘর।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির পথে যাত্রা শুরু করা এই দীর্ঘ অধ্যায়টি সহজ ছিল না। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে পাথেয় করে মা, মাটি ও মানুষের রাজনীতি করার সংগ্রামে অদম্য ও অবিচল থাকার জন্য বেগম খালেদা জিয়া পেয়েছিলেন ‘আপোসহীন নেত্রী’র উপাধি।

প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যুতে বেগম জিয়ার পরিবারে নেমে আসে ঘন কালো আঁধার। তিনি দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েন। অভিভাবক হারানোর বেদনার পাশাপাশি নতুন দিনের অনিশ্চয়তা ভর করে তার সংসারে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

১৯৮২ সালে, স্বামীর মৃত্যুর আট মাস পর রাজনীতির কঠিন পথচলায় যুক্ত হন এই নারী। গণতন্ত্রের জন্য তিনি সংগ্রাম শুরু করেন। স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোট বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি।

১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া এরশাদ হটানোর এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। বিচক্ষণ ও দৃঢ় এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি পান ‘আপোসহীন নেত্রী’ খেতাব। বেশ কয়েকবার গৃহবন্দি হলেও তিনি পিছু হটেননি। তার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের যে বীজ রোপিত হয়েছিল, তার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৯০ সালে, ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়।

১৯৯১ সালে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। খালেদা জিয়ার হাত ধরে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যায়।

১৯৯৬ সালে স্বল্প মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকলেও জনদাবির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করেন বেগম জিয়া। ওই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হন তিনি। সে সময় সংসদ ও রাজপথে নানা দাবিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি, যারা জাতীয়তাবাদী। মহানগর থেকে জেলা-উপজেলার প্রান্তিক জনপদে জনতার দাবি নিয়ে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

২০০১ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের কোনো নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেননি এই মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ে বিএনপি নেত্রীকে কারারুদ্ধ করা হয়। দলের ভাঙনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সে সময় দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি দেশ ছাড়েননি।

এরপর শুরু হয় ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম। সামনে ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে খালেদা জিয়া। সব মত ও পথের মতামত উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন বেগম খালেদা জিয়া।

সন্তানদের ওপর অমানবিক অত্যাচার, তারেক রহমানের নির্বাসন, আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু এবং নিজের ওপর দমন-পীড়ন; এত কিছু সত্ত্বেও দমে যাননি বেগম খালেদা জিয়া।

লৌহকঠিন মনোবল নিয়ে জাতির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি দৃঢ়তা ও অটল সাহসের প্রতীক হয়ে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি সামনে থেকে। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে আয়োজনের অন্তরায় হিসেবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার সংগ্রামী এই নেত্রীকে কারাবন্দি করে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে নিঃসঙ্গ জীবন কাটানোর পর শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। পরিবার ও পরিজনহীন একাকিত্ব তাঁকে একলা জীবনের বাসিন্দা করে তুলেছিল। যে সংসারটি ছিল সন্তান, পুত্রবধূ ও নাতনিদের সরব উপস্থিতিতে মুখর, জীবনের সায়াহ্নে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেখান থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি ফিরোজার বাসভবনে নিঃসঙ্গ সময় কাটাতে বাধ্য হন। এর পরের সময়গুলো কাটে হাসপাতালের বিছানায়, জীবন ও মৃত্যুর বেদনাবহ টানাপড়েনে।

দীর্ঘ বছর ধরে বেগম জিয়ার আপোসহীন সংগ্রামের পথপরিক্রমায় নির্যাতিত ও সংগ্রামী মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে ২০২৪ সালের আগস্টে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। বেগম জিয়াকে জাতির অভিভাবকের সম্মানে অধিষ্ঠিত করে আপামর ছাত্র-জনতা। সম্মানে সব মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি মেলে গণতন্ত্রের এই নেত্রীর।

স্বৈরাচারের পরশ্রীকাতরতায় দীর্ঘদিন উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত বেগম জিয়া মুক্ত পরিবেশে বেশিদিন থাকতে পারেননি। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয় গণতন্ত্রের জন্য জীবনভর লড়াই করা এই নেত্রীর জীবনযাত্রা। দেশজুড়ে নেমে আসে শূন্যতা। অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানান আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

নিয়তির অনিবার্যতায় একটি মহাকালের পরিসমাপ্তি ঘটলেও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী হয়ে থাকবেন।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিগ্রিতে ভর্তি শুরু কাল, যেভাবে করবেন আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


ডিগ্রিতে ভর্তি শুরু কাল, যেভাবে করবেন আবেদন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি (পাস) প্রোগ্রামের ভর্তি আবেদন আগামীকাল রবিবার বিকেল ৪টায় শুরু হচ্ছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) প্রকাশিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি কলেজের জন্য আলাদাভাবে কোর্সভিত্তিক মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হবে। একই মেধা নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ (৪০: ৬০ অনুপাত) এবং প্রয়োজনে মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। যদি তাতেও সমতা থাকে, তাহলে বয়স কম শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ভর্তি কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে, যার মধ্যে রয়েছে ১ম মেধা তালিকা, ২য় মেধা তালিকা, কোটার মেধা তালিকা এবং ১ম ও ২য় রিলিজ স্লিপ। তবে, এবার ৩য় রিলিজ স্লিপে আবেদন করার সুযোগ থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি বা সমমান এবং ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

এ-লেভেল, ও-লেভেল ও বিদেশি সনদধারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি ডিন অফিসে বা ইমেইলে আবেদন করা হবে।

অবশ্য এগুলো ছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা গত দুই শিক্ষাবর্ষে (২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬) স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল বা স্নাতক (পাস) প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড পেয়েছেন, তারা এই শিক্ষাবর্ষে নতুন করে ভর্তি হতে পারবেন না। তবে পূর্ববর্তী ভর্তি বাতিল করে নতুন শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে পারবেন। একইসাথে, যদি কোনো শিক্ষার্থী দ্বৈত ভর্তি হয়ে থাকেন, তাহলে তার উভয় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।

আবেদনে লাগবে ১০০০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর প্রাথমিক আবেদন ফরমসহ ফি বাবদ এক হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট কলেজে (কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অথবা সরাসরি) জমা দিতে হবে।

কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে নির্ধারিত ফি জমা দেবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে অনলাইনে নিশ্চয়ন করবে। তবে নিশ্চয়ন ছাড়া কোনো আবেদনকারীকে মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে, আবেদন করতে হলে ওয়েবসাইটে গিয়ে Applicant Login অপশনের Degree Pass- এ ক্লিক করতে হবে। পরে বাম পাসের Apply Now বাটনে ক্লিক করে এসএসসি ও এইচএসসির রোল নম্বর দিয়ে আবেদন পক্রিয়া শুরু করতে হবে। আবেদনকারীর নামসহ অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হবে।

এরপর আবেদনকারীকে বিভাগ ও জেলা ভিত্তিক College Selection Option থেকে পছন্দের কলেজ নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত কলেজে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শূন্য আসনের তালিকা দেখা যাবে। আবেদনকারীকে সেই তালিকা থেকে তার ভর্তি-যোগ্য (Eligible) বিষয়ের পছন্দক্রম নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ পাঁচটি কলেজে বিষয় এন্ট্রি দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।

আবেদন শেষে আবেদন ফরম ডাউনলোড করে অফসেট সাদা কাগজে প্রিন্ট অথবা পিডিএফ কপি সংরক্ষণ করতে হবে। এই ফরম সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে। পরে কলেজ কর্তৃক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফি প্রদান করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই খারগ দ্বীপে ফের তেল উত্তোলন শুরু ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


মার্কিন অবরোধের মধ্যেই খারগ দ্বীপে ফের তেল উত্তোলন শুরু ইরানের

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে প্রথমবারের মতো আবারও অপরিশোধিত তেল তোলা শুরু করা হয়েছে। জুলাই মাসের পর এই প্রথমবার দ্বীপটির একটি জেটি থেকে বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজে তেল তোলার ঘটনা ঘটে।

মেরিটাইম ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কোম্পানির একটি বড় তেলবাহী জাহাজ খারগ দ্বীপের আজারপাদ জেটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তুলেছে।

খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই সাধারণত এই দ্বীপের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। এই কারণে দ্বীপটি থেকে ফের তেল তোলার ঘটনা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে দেশটির বর্তমান তেল উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার হিসাবেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। মেরিটাইম ট্র্যাকিং সংস্থাটির ধারণামতে, ইরানের সামগ্রিক তেল উৎপাদন এখন আবশ্যকতাবশত দেশীয় চাহিদার সমান হতে পারে। এ কারণে আগের তুলনায় বড় পরিসরে তেল রপ্তানির যে প্রয়োজন তা ইরানের নাও হতে পারে।

এর আগে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করে। এই পরিস্থিতির মধ্যে খারগ দ্বীপ থেকে ফের তেল উত্তোলন শুরু হওয়ায় দেশটির তেল সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তেল রফতানির ক্ষেত্রে খারগ দ্বীপ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তাই অবরোধের মধ্যেও সেখান থেকে তেলবাহী জাহাজে অপরিশোধিত তেল তোলার ঘটনা প্রকাশ করে যে ইরানের জ্বালানি খাতের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুটের বিশ্ব রেকর্ড স্পর্শ করলেন স্মিথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ এম


রুটের বিশ্ব রেকর্ড স্পর্শ করলেন স্মিথ

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের জো রুটের বিশ্ব রেকর্ডটি স্পর্শ করলেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ।

ডারউইনের মারার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের দ্বিতীয় দিনে স্মিথ তিনটি ক্যাচ নেন। এই তিনটি ক্যাচের মাধ্যমে তিনি রুটের রেকর্ড স্পর্শ করতে সক্ষম হন।

এখনো পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ২১৮টি ক্যাচ নিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক ছিলেন রুট। এখন স্মিথও ২১৮টি ক্যাচ সংগ্রহ করে রুটের পাশে অবস্থান করছেন।

রুটের বিশ্ব রেকর্ড স্পর্শ করার জন্য স্মিথকে ১২৪টি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। তার ইনিংস ছিল মোট ২৩৬টি। অন্যদিকে, রুট ১৬৬টি ম্যাচ ও ৩১৭ ইনিংস খেলেছেন ২১৮টি ক্যাচ ধরতে।

টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্যাচ পান ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। দ্রাবিড় ১৬৪ টেস্টের ৩০১ ইনিংসে ২১০টি ক্যাচ নিয়েছেন।

তবে, সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার জন্য লড়াইটি রুট এবং স্মিথের মধ্যে চলতে থাকবে। এই লড়াইয়ে তাদের সঙ্গে অন্য কেউ নেই। বর্তমানে টেস্ট ম্যাচ খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে ভারতের লোকেশ রাহুলের ক্যাচ সংখ্যা ৭৬। রুট ও স্মিথের থেকে রাহুল ১৪২ ক্যাচ পিছিয়ে আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনূর্ধ্ব-১৫ দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বাতিল ফ্রান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


অনূর্ধ্ব-১৫ দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বাতিল ফ্রান্সের

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আইন বাতিল করেছে। আদালতের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শিশু-কিশোরদের মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে।

শুক্রবার ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ এ রায় দেয়। আইনপ্রণেতারা গত জুলাইয়ে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রথম দেশ হওয়ার পরিকল্পনা ছিল ফ্রান্সের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কিত উদ্বেগের পর এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার পূর্বেই সাংবিধানিক পরিষদ এই আইন বাতিল করে।

সাংবিধানিক পরিষদ জানিয়েছে, আইনটির প্রথম ধারা পর্যালোচনা করেছেন তাঁরা। এই ধারায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছিল। পরিষদ মনে করে, এই বিধান শিশু-কিশোরদের মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতায় ব্যাপকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, যা প্রয়োজনীয় বা নির্দেশিত নয়।

অনলাইন সেবা ব্যবহারের আগে বয়স প্রমাণের আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিষদ। পরিষদের মতে, বয়স যাচাইয়ের এই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি।

আদালতের রায়ের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখো দ্রুত নতুন আইন তৈরির জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুকে নতুন একটি খসড়া আইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, নতুন আইন তৈরির সময় সাংবিধানিক পরিষদের দেওয়া সব পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা হবে।

সরকার যত দ্রুত সম্ভব নতুন খসড়া তৈরির কাজে শুরু করবে। ম্যাখো ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন সংস্কার কার্যকর করতে চান, এমনটাই তাঁর দপ্তর জানিয়েছে। গত মাসে আইনপ্রণেতারা বিলটি পাস করার পর প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু এর কিছু অংশ পর্যালোচনার জন্য সাংবিধানিক পরিষদে পাঠান। ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদে নয়জন সদস্য রয়েছেন। কোনো আইন দেশটির সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পরীক্ষা করে এই পরিষদ।

 

বাতিল হওয়া আইনে উল্লেখ ছিল, সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। নতুন সব অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করার নিয়ম চালু করার কথা ছিল। পরিকল্পনা ছিল যে, পরবর্তী জানুয়ারিতে একই বয়স যাচাইয়ের নিয়ম পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হবে। প্রেসিডেন্ট ম্যাখো পূর্বে সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনটি নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল।

আইনের বিরোধীরা এর বাস্তবায়ন নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর বয়স কীভাবে নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে, সে সম্পর্কেও প্রশ্ন ছিল। বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, সেটাও স্পষ্ট ছিল না। এছাড়া তরুণরা প্রযুক্তিগতভাবে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় ছিল। এত অল্প সময়ে কিভাবে এ ধরনের বড় নিষেধাজ্ঞা তৈরি ও কার্যকর করা সম্ভব, সে বিষয়েও সমালোচনা ছিল। সাংবিধানিক পরিষদের রায়ে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থার উদ্বেগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের প্রবেশ সীমিত করার লক্ষ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়াও সম্প্রতি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে দেশটি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরও দেশটির অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যাচ্ছেন। ফ্রান্সও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু সাংবিধানিক পরিষদের রায়ের কারণে দেশটির পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাতে হবে।

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রস্তাব এখন কেবল ফ্রান্স বা অস্ট্রেলিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। গত কয়েক মাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা গেছে। মে মাসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন আইন প্রস্তাব করা হতে পারে। যুক্তরাজ্যও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের পরিকল্পনা করছে।

 

জুনে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন যে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৬ ও ১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীদের জন্য রাত ১২টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর কিছুটা সীমাবদ্ধতার একটি ঐচ্ছিক ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%