১১:৩৩ পি.এম
বলিউডের সুপারস্টার সালমান খান সম্প্রতি ভারতের আসামে ভয়াবহ একটি বন্যার কারণে হাজারো পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কঠিন এই সময়ে বাস্তুহারা মানুষের জন্য তিনি প্রায় ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দিতে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগ সফল করতে তিনি ইতোমধ্যে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
সালমান খানের সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’ এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় অসহায় মানুষের কাছে খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছে। এবার, ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আসামে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়ে বর্তমানে গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে মুহুর্মুহু গুলি, প্রাণে বাঁচলেন অভিনেতা
মিড-ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নেপালি খুটি গ্রামে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুনর্বাসনের বিষয়টি শুরু থেকেই ত্রাণ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সালমান খান যখন বলিউড তারকা রণদীপ হুদাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দেখেন এবং সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ত্রাণকাজ করতে দেখেন, তখন তিনি এ উদ্যোগটি আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে কথাবার্তা হয়।
খবর অনুযায়ী, রণদীপ সালমানকে জানান যে গ্লোবাল শিখসের ত্রাণ কার্যক্রমে ৭০ জন একসঙ্গে কাজ করছেন এবং তিনি এও জানান, এই মুহূর্তে তাদের কী প্রয়োজন। গ্লোবাল শিখসের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে জানান, তারা বাঁশ ও টিনের ছাদ দিয়ে আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, যা বন্যা থেকে নিরাপদ থাকবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি খরচ হবে। এরপরই সালমান ঐ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন এবং যৌথভাবে ৫০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অমরপ্রীত সিং মিড-ডে–কে বলেছেন, ‘কয়েক দিন আগে সালমান খান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আর উনি চিন্তা করতে বারণ করেছেন। এই মুহূর্তে শিবসাগর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, আর এর কেন্দ্র নেপালি খুটি। নির্মাণের প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রতিটি পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করছি। আমরা প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ঘর নির্মাণ করতে পারি।’
অন্যদিকে রণদীপ হুদাও ধারাবাহিকভাবে ত্রাণকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি শিবসাগর রেলস্টেশন। আশপাশের এলাকা থেকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমরা খাবার রান্না করছি, তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং সাত দিন ধরে প্রতিদিনই এই কাজ করছি। মানবতাই সবার আগে। আমি বহু বছর ধরে গ্লোবাল শিখস নামের এই দলের সঙ্গে কাজ করছি। তারা তৃণমূল পর্যায়ে যে কাজ করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু এখানে নয়, যেখানেই কোনো সমস্যা হোক না কেন। মানুষ হিসেবে মানুষের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আর সে কারণেই আমরা এখানে আছি।’
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন