০২:৪৩ পি.এম
ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ছয় সদস্যকে হত্যা করেছেন পারিবারিক বিরোধের কারণে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহের বিভিন্ন অংশ শহরের একাধিক স্থানে ফেলে দেন অভিযুক্ত। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী সুনীতা, শাশুড়ি রূপবতী, দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্কর, দুই শ্যালিকা দিব্যা ও নলিনী এবং শঙ্করের সাত বছর বয়সি ছেলে পুনীত। সব মিলিয়ে স্ত্রীসহ একই পরিবারের সাতজনকে হত্যার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ইন্দুশেখর পরিকল্পিতভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। প্রথমে তিনি নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেন। এরপর পারিবারিক অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের কথা বলে দুই শ্যালককে বাড়িতে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের হত্যা করা হয়। পরে তিনি তাদের স্ত্রী, নিজের শাশুড়ি এবং সাত বছর বয়সি শিশুটিকেও হত্যা করেন।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যে কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোনালাপ
পুলিশের ধারণা, শিলনোড়া দিয়ে আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এরপর অভিযুক্ত নিজের গাড়িতে করে মরদেহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফেলে দেন। হত্যার পর রক্তের দাগ মুছে ফেলা এবং রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে আলামত নষ্টের চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। স্ত্রীর সঙ্গে তার বাবার বাড়ির পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ইন্দুশেখর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই বিষয়ে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ।
শ্রীরামপুরা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তের একপর্যায়ে ইন্দুশেখরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একাধিকবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে সাতজনকে হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তবে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: মুসলিম তরুণী নাশরা নাঈম প্রথম নারী ভিপি হয়ে ইতিহাস গড়লেন
এদিকে নন্দী পাহাড়ের পাদদেশসংলগ্ন এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে সাত বছর বয়সি একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শিশুটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বাকি মরদেহগুলোর সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে একই পরিবারের সাতজনকে হত্যার অভিযোগ ঘিরে বেঙ্গালুরুতে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন