প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় পারিবারিক কলহের কারণে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ওই গৃহবধূকে বাড়ির চালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার চালান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে। উল্লেখ্য, ঘটনার সময়ও একই স্থানে ছিল।
গৃহবধূর নাম রুমা আক্তার (৩০)। তিনি মাঝের পাড়া গ্রামের বাহাদুর আলমের কন্যা এবং মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী। তাদের ৮ বছরের সন্তান মো. লাবিব জানায়, তার বাবা মানিক বৃহস্পতিবার রাতে হাতুড়ি দিয়ে তার মাকে পিটিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, রুমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে স্বামী মানিক নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য এনজিও থেকে নেওয়া ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। এর মধ্যে মানিক রুমার আরেক খালাতো বোনকে বিয়ে করেন। শেষ পর্যন্ত, প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেন স্বামী মানিক।
চকরিয়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘লক্ষ্যারচরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা, তা এখনই বলা যাবে না। কারণ শরীরের বাইরে তেমন কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা স্বামী মানিককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এই ঘটনায় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন