১১:৫৭ এম
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত যে দুই ঘণ্টার কলমবিরতির কর্মসূচি রয়েছে, সেটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের করপোরেট ব্রাঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। এই অবস্থানের সময় শাখার বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের করপোরেট ব্রাঞ্চের সামনে অবস্থান নিলে, কিছু সময়ের জন্য শাটার বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে অনেক গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী শুরুতে শাখায় প্রবেশ করতে পারেননি।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কর্মবিরতি পালন করছেন না। সকালে যথারীতি অফিসে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শাটার বন্ধ থাকায় অনেকের প্রথমে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে তাদের পরিচয়পত্র দেখানোর পর কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট চালু হবে: আরিফুল হক
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, সকালে সেবা বন্ধ থাকার কারণে বিকেলে সেবা দিতে দিতে কর্মঘন্টা পেরিয়ে যায়। অনেক গ্রাহক জরুরি কাজে, জরুরি লেনদেনে আসেন, তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। তবে যেসব গ্রাহক শাখা অফিসে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাইরে ফিরে যাওয়া একজন গ্রাহক জানান, ব্যাংকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ব্যাংকের অন্য একটি শাখায় বন্ধ দেখে দিলকুশায় এসেছি। এখান থেকেও ফিরে যেতে হচ্ছে।
চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত ১ জুন থেকে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববার (৭ জুন) আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি : বিদ্যুৎমন্ত্রী
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাই তার নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ফোরামের আহ্বায়ক নুর নবী মানিক। এ সময় তিনি দাবি আদায়ে সোমবার দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি বা কলমবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।
গত ৪ জুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন করছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
এর আগে গত কয়েকদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ওই কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ভিন্ন।
আরও পড়ুন: পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় অর্থায়নের অভিযোগ, ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ
আন্দোলনের ফলে সোমবার দিনেরবেলায় ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত পর্ষদ সভা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে ওই সভায় পর্ষদের পাঁচ সদস্য অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল সভায় ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের জমা দেয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন