বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১১:৪১ পি.এম
হাওরের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং পৃথক হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মকর্তারা শহরের যখন ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ১১টায় সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে, তখন প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “হাওরের উন্নয়নের সঙ্গে আমাদের জাতির স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। হাওরের মূল সমস্যা হচ্ছে সুশাসনের অভাব। দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতা দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে হাওরের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সচেতন এবং সোচ্চার হতে হবে। হাওরের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ব্যয় করা হলে এর সুফল বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ড. বদিউল আলম মজুমদার আর বলেন, সুনামগঞ্জের ১৯৩টি হাওরে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। হাওর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে কিছু প্রশাসনিক খরচ বাড়লেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং হাওরের উন্নয়ন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুজন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী। সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুজনের সহযোগী সমন্বয়কারী নেসার আমিন এবং জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক কাজী নুরুল আজিজ চৌধুরী। নুরুল হক আফিন্দী সভাপতির বক্তব্যে জানান, দেশের অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথাপি, এ অঞ্চলের মানুষ এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তিনি সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান হাওরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে। ফজলুল করিম সাঈদ মূল প্রবন্ধে বলেন, হাওরের ভূমিকা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দেশীয় মাছের প্রজনন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিবছর আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল, নদী-খাল ভরাট, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জলমহাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাওর নিয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করায় সমন্বয়ের অভাব, জবাবদিহিতার দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই একটি স্বতন্ত্র হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে সমন্বিত পরিকল্পনা, গবেষণা, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। এ সময় বক্তারা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিজ্ঞানভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলমহাল ব্যবস্থাপনার সংস্কার, প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, হাওর শুধু একটি জলাভূমি নয়; এটি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। সুতরাং, হাওর রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (টিএলসিসি)-এর উদ্যোগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাটি পৌর প্রশাসক মোঃ মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তৃতা দেন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোহেল রানা, সহকারি প্রকৌশলী ববি মজুমদার, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাপ খান, সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, শিক্ষা কর্মকর্তা এম জাকিরুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফয়জ আহম্মদ, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলমগীর কবির, পৌর বিএনপির সিনিয়র সভাপতি মাসুক মিয়া, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক লুৎফুর রহমান, জনি পাঠান, এমদাদুল হক সুজনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় পৌর এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের বাজেটে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে পৌরসভার জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, একটি বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের জন্য জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হলে পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সম্ভাব্য ভারতীয় পুশব্যাক কার্যক্রম মোকাবিলায় টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এবং পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল তানজিলুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশব্যাকের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধীনে সকল বিওপির সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে বিজিবি।
সীমান্তের বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। যদি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি, সন্দেহজনক চলাচল কিংবা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়, তবে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা থাকলে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা আরও সহজ হবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানিয়েছেন যে, ইতিমধ্যে সীমান্ত এলাকায় পুশব্যাক মোকাবেলা করতে সকল জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের সময় শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করা হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ ওঠে।
বৃহস্পতিবার সকালে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘাটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকে মাদারীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বাহেরান্দি গ্রামের বাবুল শেখ এবং ইমদাদ মাতুব্বরের পক্ষের সঙ্গে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের ফলে বৃহস্পতিবার সকালে শেখ ও মোড়ল বংশের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া উভয় পক্ষের চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী মানুষ টেঁটা ও বড় লাঠিসোঁটা হাতে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এক পক্ষ ইটপাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের পাইকড়া গ্রামে মহররম উপলক্ষে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকালে কাঁঠালবাড়ী গ্রামের আয়োজনে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলায় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে লাঠিয়ালরা বাঙালি সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জনজীবনের নানা দিক প্রদর্শন করেন। খেলাখেলা দেখার সময় প্রতিপক্ষের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার পাশাপাশি পালটা আঘাত করার অসাধারণ দৃশ্য খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা দেখতে হাজারো দর্শক উপস্থিত হন। দর্শকদের করতালি আর হৈ-হুল্লোড়ে খেলার আসর জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আয়োজক কমিটির রেজাউল ইসলাম বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে। খেলায় গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ