বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪১ পি.এম
ভারতের এক বিচারক সাত বছর বয়সী ধর্ষণের শিকার শিশুটির সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেছেন। আবেগঘন চিঠিতে বিচারক তার নির্যাতনকারীকে আমৃত্যু কারাগারে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, বিচারক রজনী রাঙ্গা তার চিঠিতে শিশুটিকে ‘এই আদালত দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট্ট মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই শিশুটির বয়স যখন সাত বছর, তখন সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। রায়ে বলা হয়, তাকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটাতে হবে। একই সঙ্গে শিশুটিকে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
রায়ের শেষে বিচারক আনুষ্ঠানিক আইনি ভাষা থেকে বেরিয়ে শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “তুমি যখন বলেছিলে, ‘আঙ্কেলকে বৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত জেলে রাখা হো’—এই আদালত তোমার কথা শুনেছে এবং তোমার সেই অনুরোধের জবাব দিয়েছে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, শিশুটি যাকে ‘আঙ্কেল’ বলে ডাকত, সেই ব্যক্তি আর কখনো মুক্তভাবে বের হতে পারবে না। তাকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে থাকতে হবে এবং সেখানেই তার বয়স বাড়বে ও মৃত্যু হবে। ফলে সে আর শিশুটির, তার ছোট বোনের কিংবা অন্য কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।
শিশুটির সাহসের প্রশংসা করে বিচারক বলেন, আদালতে এসে নির্যাতনকারীকে শনাক্ত করা এবং সত্য বলা ছিল অত্যন্ত সাহসিকতার কাজ। তিনি বলেন, শিশুটি চুপ থাকেনি; বরং মাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তার সাহসের কারণেই ওই ব্যক্তি আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।
চিঠির শেষাংশে বিচারক লেখেন, ‘আদালত শিশুটির হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে এখন তাকে নিজের জীবন উপভোগ করতে, স্কুলে যেতে, বন্ধু তৈরি করতে, হাসতে, খেলতে ও স্বপ্ন দেখতে বলেন। আদালত তার সাহস সবসময় মনে রাখবে।’
বিবিসি জানাচ্ছে, গত ১১ জুলাই দেওয়া রায়ের অংশ ছিল এই চিঠি। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের এক আদেশে বিচারকের চিঠিটি পুনরুৎপাদন করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। হাইকোর্ট আসামির জামিন ও সাজা স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দেয়।
আদালত চিঠিটিকে শিশুটির জন্য ‘উৎসাহের বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে দিল্লি স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে এর একটি কপি ছাপিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থের সঙ্গে শিশুটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে বিরল ঘটনা ও আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করে বিচারকের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সাত বছর বয়সে শিশুটির ওপর সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অনেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ভারতের সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে পকসো আইনের আওতায় ৬৯ হাজারের বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাত বছর বয়সী শিশুটির ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনকারী ভুক্তভোগীর পরিচিত, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেউ হওয়ায় বহু ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয় না।
রায়ে বিচারক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন। অপরাধের ধরন, শিশুটির গভীর ভোগান্তি এবং এর আজীবন প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে আদালতের আদেশটি শিশুটিকে ‘সেরে ওঠা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করার’ একটি প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভক্তদের মধ্যে প্রিয় অভিনয়শিল্পীকে সেরা প্রমাণ করার জন্য ভার্চুয়াল লড়াই নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে প্রায়ই দেখা যায়, প্রিয় তারকাকে এগিয়ে রাখতে অন্য তারকার ভক্তদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। কখনো কখনো সেই তর্ক রীতিমতো ঝগড়া কিংবা কটূক্তিতে রূপ নেয়।
তবে এবার যে দুই তারকাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে ভার্চুয়াল যুদ্ধ চলছে, তারা দুজনই একে অপরের কাছের বন্ধু। শুধু বন্ধুত্বই নয়, অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই একসঙ্গে পথ চলছেন ফারহান আহমেদ জোভান ও তৌসিফ মাহবুব। ভক্তদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে তাদের বন্ধুত্বের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছেন জোভান।
বুধবার দুপুরে তৌসিফের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের উদ্দেশে নিজের ফেসবুকে জোভান লিখেছেন, “আমাদের দুজনকে নিয়ে ভক্তদের নিজেদের মধ্যে এত ঝগড়াঝাঁটি, এত ভার্চুয়াল মারামারি করার আগে একটা জিনিস জেনে রাখেন, আমরা একে অপরকে যতটা সম্মান করি, আপনারা একে অপরকে ততটা সম্মান করেন না।”
জোভান ও তৌসিফের বন্ধুত্বের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ক্যারিয়ারের শুরুতেই রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘ঝালমুড়ি’ ধারাবাহিক নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এরপর নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব। দেখতে দেখতে তাদের সম্পর্কের বয়স প্রায় ১৩ বছর হয়ে গেছে।
ব্যস্ততা বাড়লেও সেই বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি। এখনও সুযোগ পেলেই একসঙ্গে আড্ডা দেন তারা। বন্ধুত্বের এই সম্পর্ক নিয়ে এর আগে জোভান বলেছিলেন, “আমরা সবাই একটা ব্যাপার অনুভব করি, ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, মাঝেমধ্যে দেখা হওয়া জরুরি। কারণ, বন্ধুরা এক হলে মন ভালো হয়। আড্ডায় আমাদের খোঁচাখুঁচি চলতেই থাকে। বেশির ভাগ সময় আমরা ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত নানা কিছু নিয়ে মজা করি...খুনসুটি আরকি। বন্ধুদের মধ্যে যা হয়। এখনো তৌসিফের সঙ্গে যখনই দেখা হোক বা কথা হোক, ওই সম্পর্ক আগের মতো।”
জোভানের পোস্টে ভক্তদের মন্তব্যেও ফুটে উঠেছে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। একজন লিখেছেন, “জোভান ভাই আমার কাছে সেরা।” জবাবে আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “তৌসিফ ভাই সেরা।”
রাজীব অভি নামের একজন মন্তব্যে লিখেছেন, “গ্রুপে বা পোস্টে ফ্যানরা যেমন ঝগড়াঝাঁটি করে দিন শেষে জেনে রাখুন তারাও ইনবক্সে একসঙ্গে আড্ডা দেয়। সম্পর্ক হাতেগোনা দুই-একজন ছাড়া সবার সঙ্গেই সবার বেশ ভালো।”
সবশেষে ভক্তদের এই ভার্চুয়াল লড়াইয়ের বিষয়টি একেবারে নিজের মতো করে তুলে ধরেছেন জোভান। তার কথায়, “যুদ্ধটা আপনাদের, বন্ধুত্বটা আমাদের। ভালোবাসাটা আমাদের। আপনারা ফ্যান হয়ে একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করেন, আর আমরা প্রতিযোগী হয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ সালের হজ মৌসুমের জন্য ‘যুগান্তকারী’ একটি প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। এই নতুন প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রীরা একটিমাত্র চুক্তির মাধ্যমে থাকা, খাওয়া, যাতায়াত এবং পবিত্র স্থানগুলোর সব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই প্যাকেজটি প্রদান করা হবে। হাজিরা সৌদি আরবে প্রবেশ করার পর থেকে শুরু করে দেশে ফেরার সময় পর্যন্ত পুরো সময়কাল জুড়ে প্যাকেজটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। নতুন প্যাকেজের মধ্যে মক্কা-মদিনায় থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত, ক্যাটারিং বা খাওয়ার বন্দোবস্ত এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হাজিরা চাইলে নিজেদের পছন্দমতো কিছু অতিরিক্ত সুবিধাও বেছে নিতে পারবেন। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিভিন্ন দেশের হজ এজেন্সিগুলো সহজেই নিজেদের মতো করে হাজিদের জন্য মানসম্মত ও নমনীয় প্রোগ্রাম তৈরি করার সুযোগ পাবে।
১৪৪৮ হিজরি সেশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা সৌদি ভিশন ২০৩০ এর লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৭৫টিরও বেশি দেশের হজ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া, পুরো হজ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল এবং ঝামেলামুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করে আসছে সৌদি আরব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর শহরে পুলিশ পরিচয়ে এক চালককে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এক নারীর সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে চার নারীকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশের কাছে দায়ের করা এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদপুর শহরের মাজহারুল ইসলাম চক্ষু হাসপাতালের সামনে সাইফুল ইসলাম নামে এক চালককে পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি পথরোধ করেন। এরপর তাকে পাশের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানে সাইফুলকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক এক নারীর সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, চক্রটি বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে কৌশলে তিনি তার স্বজনকে ফোন করে বিষয়টি জানান। স্বজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং চার নারীকে আটক করে। এ সময় চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বুধবার ‘রাইট লাইভলিহুড’ পুরস্কার অর্জন করেছেন একজন বিশিষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক, পাকিস্তানের একজন নারী আইনজীবী এবং নারী নেতৃত্বাধীন দুটি অধিকার সংগঠন। এই পুরস্কারটি ‘বিকল্প নোবেল’ হিসেবে পরিচিত।
পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করা বিচারকমণ্ডলী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এআই গবেষক টিমনিট গেবরুকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং ন্যায়বিচার, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ভিত্তিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির পথ দেখানোর’ জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
এ খবরটি স্টকহোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। গেবরু এআইয়ে পক্ষপাতের প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য সুপরিচিত। ২০১৭ সালে তিনি ‘ব্ল্যাক ইন এআই’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেন।
২০২০ সালে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের এথিক্যাল এআই দলের সহ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তথাকথিত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম)-এ পক্ষপাতের ঝুঁকি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্রের সহলেখক ছিলেন। বিচারকমণ্ডলীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুগল তাকে ওই গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করতে অথবা নিজের নাম সরিয়ে নিতে বলেছিল। তিনি নির্দিষ্ট কিছু নিশ্চয়তা ছাড়া এতে রাজি না হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এরপর গেবরু ‘ডিস্ট্রিবিউটেড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (ডিএআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান ‘প্রযুক্তি খাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এআই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার জনগণের ওপর যে ক্ষতি করছে, তা তুলে ধরে।’
সুইডেনভিত্তিক রাইট লাইভলিহুড ফাউন্ডেশন পাকিস্তানের মানবাধিকার আইনজীবী জলিলা হায়দারকেও সম্মানিত করেছে। ‘কোনো মানুষই অবৈধ নয়’—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে জাতিগত, রাষ্ট্রীয় ও পিতৃতান্ত্রিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নিজ হাজারা সম্প্রদায়ের প্রথম নারী আইনজীবী হিসেবে প্রতিবন্ধকতা ভাঙার জন্য তাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশনটি ‘রুরাল উইমেনস অ্যাসেম্বলি’কেও পুরস্কৃত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ১১টি দেশের ১ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র কৃষকের এই তৃণমূল আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে গ্রামীণ নারীদের নিয়ে। আয়োজকেরা বলেছেন, করপোরেট ও পিতৃতান্ত্রিকভাবে জমি, বীজ ও নিজেদের শরীরের ওপর অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গ্রামীণ নারীদের ‘ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে’ পরিণত করার জন্য সংগঠনটি কাজ করছে।
‘জর্জিয়ান ইয়াং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (জিওয়াইএলএ)-কেও পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিচারকমণ্ডলী সংগঠনটিকে ‘জর্জিয়ার সবচেয়ে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৯৪ সালে স্বেচ্ছাসেবী আইনজীবীদের উদ্যোগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এটি ‘জর্জিয়ার সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিচারকমণ্ডলীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘স্বৈরতান্ত্রিক দমন-পীড়নের মুখেও জর্জিয়ার গণতন্ত্র গড়ে তোলা ও সুরক্ষা এবং নাগরিক শক্তি ধরে রাখার জন্য’ সংগঠনটিকে সম্মানিত করা হয়েছে।
রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার চালু হয় ১৯৮০ সালে। সুইডিশ-জার্মান ডাকটিকিট সংগ্রাহক ইয়াকব ফন ইউক্সকুল নিজের সংগ্রহের একটি অংশ বিক্রি করে এই পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে নোবেল পুরস্কারের পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে নতুন পুরস্কার চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ