রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৮ এম
রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর সাথে মানবপাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কক্সবাজারের শিবির এবং সমুদ্রপথ উভয় স্থানে ঝুঁকির চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৫ সালে কক্সবাজারে ৪০৭টি মানবপাচারের ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে।
একই বছরে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হন। ৮৯০ জনের বেশি প্রাণ হারান অথবা নিখোঁজ হন। চলতি বছরে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৯ জন এই সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ২০২৬ সালের ‘এএল বিজিডি ৪/২০২৬’ (বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ যোগাযোগ নথির নম্বর) নথিতে এসব তথ্য ও উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। নথিটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
জাতিসংঘের মানবপাচারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক সিওভান মুলালি, অভিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গেহাদ মাদি এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান-র্যাপোর্টিয়ার ক্লডিয়া ফ্লোরেস বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
নথিতে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এবং বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে যাত্রাকারীদের মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং পাচার প্রতিরোধে সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তারা আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না।
কক্সবাজারে ৪০৭ মানবপাচারের ঘটনা
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের যোগাযোগ নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৪০৭টি মানবপাচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
নথিতে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, শনাক্ত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২৪৮ জন পুরুষ, ৮৮ জন নারী, ৪১ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে। একজনের লিঙ্গপরিচয় অন্যভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছিলেন মোট ভুক্তভোগীর ৬১ শতাংশ, নারী ২২ শতাংশ, ছেলে ১০ শতাংশ এবং মেয়ে ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরা মোট ভুক্তভোগীর ২১ শতাংশ।
নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ও ছেলেদের ক্ষেত্রে কৃষি, পশুপালন, মাছ ধরা, বনকাজ ও নির্মাণশ্রমে পাচারের ঘটনা পাওয়া গেছে। নারীদের ক্ষেত্রে কারখানার কাজ, গৃহস্থালি শ্রম এবং জোরপূর্বক যৌনকাজে পাচারের তথ্য রয়েছে।
চাকরি, শিক্ষা ও বিয়ের প্রলোভন
জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সুযোগের সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে মানবপাচারকারী চক্রগুলো—এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে পৌঁছেছে। শিশু ও তরুণদের চাকরি, শিক্ষা অথবা বিয়ের প্রলোভন দেখানোর তথ্যও নথিতে রয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, শিবিরে শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ, নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ না থাকা অনেক রোহিঙ্গাকে অনিরাপদ পথে যাওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। এতে দালাল ও পাচারকারীদের ওপর নির্ভরতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বিয়ে, জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এবং জোর করে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত করার মতো পাচারের ঝুঁকি রয়েছে।
উদ্ধার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণেও উদ্বেগ
জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত আনার পর কখনো কখনো আটক বা গ্রেফতার করা হয়। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দেরি হলে তাদের ভুক্তভোগী হিসেবে সহায়তা দেওয়ার বদলে অনিয়মিত অভিবাসী বা অপরাধী হিসেবে বিবেচনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সমুদ্রপথে ভয়াবহ মৃত্যুর মিছিল
এক বছরে ৮৯০-এর বেশি প্রাণহানি
পাঁচ মাসেই ৪৩৪৯, যাত্রা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ
শিবিরে ৪০৭ মানবপাচারের ঘটনা
চাকরি-বিয়ে-শিক্ষার প্রলোভনে ফাঁদ
শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্ন
বাংলাদেশের কাছে ১০ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতিসংঘ
অর্থ কমছে, বাড়ছে ঝুঁকি
নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্ত ও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, অভিবাসী, রোহিঙ্গা এবং আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পাচারের লক্ষণ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সব সময় নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হয় না।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছেন, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয় এবং তাদের মানবপাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী হিসেবে কীভাবে যাচাই করা হয়।
আন্দামান সাগরে ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ
জাতিসংঘের ওই যোগাযোগ নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে একটি নৌযান ডুবে প্রায় ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন। নথিতে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে নৌযানটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ৯ এপ্রিল প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। নৌযানটি ডোবার আগে বা ডোবার সময় কোনো বিপদসংকেত পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ১১ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়াগামী একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত কয়েকজনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে আটজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন। পরে তাদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নথিতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন ছিলেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী। পাচারের ঝুঁকি যাচাইয়ের পর তাদের সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য রেফার করা হয়। বাকি ছয় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ও আটকের তথ্যও নথিতে রয়েছে।
এক বছরে প্রাণহানি ৮৯০-এর বেশি
জাতিসংঘের ওই নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হন। তাদের মধ্যে ৮৯০ জনের বেশি মারা যান বা নিখোঁজ হন।
নথিতে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আনুমানিক ৬৬ শতাংশ নারী ও শিশু।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পৃথক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, ওই বছর ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেন। অর্থাৎ প্রতি সাতজন যাত্রীর মধ্যে প্রায় একজন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
২০২৬ সালেও বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া এবং তাদের যোগাযোগ নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৯ জন সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৬ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরের গত জুলাইয়ের তথ্যে দেখা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌযান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত ২০২৬ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের আগস্টের বিবৃতিতেও সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ জানানো হয়। প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ অবতরণ এবং মানবপাচারবিরোধী আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের কাছে ১০ বিষয়ে জবাব চেয়েছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘের নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে মোট ১০টি বিষয়ে তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে ৯ এপ্রিলের নৌকাডুবির পরিস্থিতি ও তদন্ত, সমুদ্র থেকে উদ্ধার ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া, পাচারের ঝুঁকি শনাক্তকরণ, রোহিঙ্গা শিবিরে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, পাচারের ঘটনায় তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণের সুযোগ।
এ ছাড়া দারিদ্র্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, জীবিকার অভাব, পরিচয়পত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথের সংকটের মতো মানবপাচারের মূল ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, উত্থাপিত তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তবে তাদের কাছে পাওয়া তথ্য মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য কাঠামোগত ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।
অর্থসংকটেও বাড়ছে ঝুঁকি
জাতিসংঘ ও অংশীদারদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়টিও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গত ২০ মে প্রকাশিত ২০২৬ সালের যৌথ আবেদনে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি সহায়তায় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
আইওএমের ২০২৬ বাংলাদেশ ক্রাইসিস রেসপন্স প্ল্যানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সংস্থাটি বলেছে, সীমিত জীবিকা, চলাচলের বিধিনিষেধ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত আইনি পথের অভাব মানবপাচার, শোষণ, শিশুশ্রম এবং অনিয়মিতভাবে অন্যত্র যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্য বলছে, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু আশ্রয়, খাদ্য ও প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। নিরাপদ চলাচল, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সমুদ্রপথে জীবন রক্ষার প্রশ্নও ক্রমেই সামনে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া (৪০) মারা গেছেন। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত রাজা মিয়া নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্টপুর এলাকার মমরোজ মিয়ার পুত্র। তিনি মহানগর যুবদল ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় রাজা মিয়াকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম রাজা মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি কবিরসহ (৩০) তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্য দুইজন হলেন বিনু (৩৮) ও নিশাত (২৫)। গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নাস্তা খেয়ে রাজা মিয়া ঘরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় কবিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন হামলা চালায়। হামলার সময় কবির শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় আঘাত করে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
কিন্তু, সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় রাজা মিয়াকে আবারও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে শনিবার বিকেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি রাজা মিয়া কবির ও তার লোকজনকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনার জেরে ২২ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়ার উপর হামলা হয়।
পুলিশের একটি পক্ষ দাবি করছে যে, উভয় পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে, কার নামে কতগুলো মাদক মামলা রয়েছে তা জানাতে পারেনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, রাজা মিয়া মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় দলের সঙ্গে ছিলেন। তাকে যে বা যারাই হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তবে, রাজা মিয়া মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলেও তিনি জানান।
ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির সামনে একাধিক মাইলফলক স্পর্শের সুযোগ রয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিরুবনন্তপুরমে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হবে।
কোহলির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ড বরাবরই অসাধারণ। তিনি ৪৩ ম্যাচে ৪১ ইনিংসে ২ হাজার ২৬১ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ব্যাটিং গড় ৬৬.৫০, যার মধ্যে রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ১১টি ফিফটি।
ওয়ানডেতে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হিসেবে কোহলি ৩১৪ ম্যাচের ৩০২ ইনিংসে ১৪ হাজার ৯৪১ রান করেছেন। ১৫ হাজার রান পূর্ণ করতে তার প্রয়োজন এখন মাত্র ৫৯ রান।
যদি তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হন, তাহলে শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় এবং ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করবেন কোহলি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোহলির সেঞ্চুরির সংখ্যা বর্তমানে ৮৫টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যদি তিনি আরেকটি শতক করেন, তাহলে সেই সংখ্যা ৮৬-তে পৌঁছাবে।
তিরুবনন্তপুরমের মাঠটি কোহলির জন্য সুখকর। এখানে তিনি দুটি ওয়ানডে খেলে কখনোই আউট হননি। দুই ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৯৯ রান, যার মধ্যে ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১৬৬ রানের ইনিংসটি বিশেষভাবে নজরকাড়া।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোহলির সেঞ্চুরির সংখ্যা ৫৯টি, যেখানে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ৬০ সেঞ্চুরি। অতএব, যদি কোহলি আর দুটি শতক করেন, তাহলে তিনি শচীনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবেন।
ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীনের সেঞ্চুরি ৪২টি, আর কোহলির রয়েছে ৪১টি। অতএব, যদি তিনি আর দুটি সেঞ্চুরি করেন, তাহলে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক শতকের সংখ্যায় শচীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন।
ওয়ানডেতে ভারতের মাটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও কোহলির নাগালে। শচীনের ১৬৪ ম্যাচে ৬ হাজার ৯৭৬ রানের বিপরীতে, কোহলির সংগ্রহ ১৩০ ম্যাচে ১২৭ ইনিংসে ৬ হাজার ৮৬৭ রান। রেকর্ডটি ভাঙতে তার প্রয়োজন ১১০ রান।
বর্তমান বছরে কোহলি ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ছয় ইনিংসে তার সংগ্রহ ৩৮৪ রান, গড় ৬৪.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৬-এর বেশি। এর মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি।
এভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে কোহলির সামনে একাধিক ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শের সুযোগ রইল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উপযোগী স্থাপনায় স্থাপন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি আদেশ পাঠিয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের আলোকে বিদ্যুৎ বিভাগ অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
উক্ত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি বিনিয়োগে ‘ওপেক্স’ মডেলে অথবা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।
এছাড়া, অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র পেরুর বিরুদ্ধে একটি বড় জয় অর্জন করেছে। তবে ৪-১ গোলের এই জয়টি বিশেষ হয়ে উঠেছে আরও একটি কারণে, কারণ এক ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটেছে ১১ জন ফুটবলারের। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। এই ম্যাচে ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভান ইতিহাস গড়েছেন।
শনিবার পেরুর বিপক্ষে ১৬ বছর ৩৬২ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে সুলিভানের। এর ফলে তিনি জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক নেওয়া দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ফ্রেডি আদুর দখলে ছিল। আদু ২০০৬ সালে ১৬ বছর ২৩৪ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অভিষেক করেছিলেন।
পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তরুণ ফুটবলার নজর কেড়েছেন। ম্যাচ শুরুর আগে ঘরের মাঠের দুই তারকা অ্যালেক্স ফ্রিম্যান ও জাস্টিন এলিসকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছিল। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তরুণ সুলিভান। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে ম্যাচের শুরু থেকেই তার দিকে বাড়তি নজর ছিল।
ম্যাচে ৬২ মিনিট মাঠে ছিলেন সুলিভান। যদিও গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি, তবুও তার খেলায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল। তিনি একাধিকবার বল নিয়ে পেরুর রক্ষণভাগে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত উদ্দীপনার কারণে পেরুর গোলরক্ষক পেদ্রো গালেসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ডও দেখেন এই তরুণ।
অভিষেকেই ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গোল করে ঘরের দর্শকদের মাতিয়ে দেন জাস্টিন এলিস। প্রাক-ম্যাচ আতশবাজির ধোঁয়া পুরোপুরি কাটার আগেই তার গোলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামজুড়ে।
এরপর ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার ম্যাথিস আলবার্ট মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পেনাল্টি আদায় করেন। স্পট কিক থেকে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবধান বাড়ান মালিক টিলম্যান।
ম্যাচের তৃতীয় গোলটি আসে ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হলের পা থেকে। সেবাস্তিয়ান বেরহল্টারের দুর্দান্ত ক্রস থেকে বল পেয়ে পেরুর জালে পাঠান হল।
এরপর ম্যাচের অন্যতম সেরা গোলটি করেন বেরহল্টার নিজেই। দূরপাল্লার বাঁকানো শটে পেরুর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে, তবে ম্যাচটি তাদের জন্য পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না। প্রথমার্ধে রক্ষণভাগের ভুলে একটি গোল হজম করতে হয়েছে। পাশাপাশি পেরু আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। ফলে কোচ মরিসিও পচেত্তিনির জন্য রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলো ভাবনার কারণ হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ