মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার খবরের পর ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ক্রয় চুক্তি আগামী অক্টোবরেই চূড়ান্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের আকাশপথের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরকে শক্তিশালী করতেই এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির প্রথম চালানটি ২০৩১ সালে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই বড় চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবার ইউরোপের এয়ারবাস বহরে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কেনা উড়োজাহাজগুলো হস্তান্তরে কয়েক বছর সময় লাগবে, তাই মধ্যবর্তী সংকট কাটাতে লিজের মাধ্যমে আরও ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার।
বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যে আরও ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। সিডনি রুট চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানে একটি ফ্লাইট চালু রয়েছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এয়ারবাস কেনার বিষয়ে কোনো চাপ বা শর্ত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, "আমরা কোনো চাপে কিছু করছি না। আমাদের প্রয়োজনের কারণে করছি। আমাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য করছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, কোন দেশ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের প্রয়োজন ও অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে হাতে তৈরি ও নিজস্ব ডিজাইনের মেয়েদের পোশাক নিয়ে কাজ করছেন জ্যোতিষ্মিতা জ্যোতি। শখকে উদ্যোগে রূপ দিয়ে তিনি তৈরি ও বিক্রি করছেন বিভিন্ন ধরনের চিঠি, মেয়েদের পোশাক ও কুর্টি, যা পাওয়া যাচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে।
জ্যোতিষ্মিতা জ্যোতির এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো—পোশাকের ডিজাইন ও কাজের ক্ষেত্রে রয়েছে তার নিজের সৃজনশীলতার ছোঁয়া। আধুনিক ডিজাইনের পাশাপাশি ক্রেতাদের পছন্দ ও বাজেটের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন পোশাক।
এই পথচলায় জ্যোতির পাশে রয়েছেন তার বন্ধুবান্ধবরা। পণ্য তৈরি, প্রচার ও বিক্রির বিভিন্ন কাজে বন্ধুদের সহযোগিতা তাকে আরও উৎসাহিত করছে। ছোট পরিসর থেকে শুরু করা এই উদ্যোগকে ধীরে ধীরে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জ্যোতিষ্মিতা জ্যোতি।
তিনি বলেন, “নিজের হাতে কিছু তৈরি করে মানুষের পছন্দের জিনিস সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”
যারা সুন্দর ডিজাইন, মানসম্মত কাজ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের মেয়েদের পোশাক ও কুর্টি খুঁজছেন, তারা জ্যোতিষ্মিতা জ্যোতির এই উদ্যোগটি দেখতে পারেন।
নিজের পছন্দের ডিজাইন, নিজের বাজেটের মধ্যে—জ্যোতিষ্মিতা জ্যোতির উদ্যোগে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তিন জন রোগী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পুরুষ ওয়ার্ডের সার্জারি বিভাগের ছাদের একটি অংশ হঠাৎ খসে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহত রোগীদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল ইসলাম (৭০), আকতার হোসেন (৮০) এবং আবুল খায়ের (৪৫)। তাদের মধ্যে আবুল খায়ের গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের দ্রুত আলাদা স্থানে সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ভবনটি পুরনো হওয়ায় এর আগেও শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান ঘটনায় পুরুষ ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ২৫০ শয্যা হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা পুরো অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে নতুন ভবনের নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই আবেদন করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছতার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভাকে হ্রাস করছে। তিনি জানান, এআই ব্যবহার অবশ্যই পরিমিত মাত্রায় হওয়া উচিত, যাতে মানুষের সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। জনকল্যাণে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এআই যাতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে কুয়েটের উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপতি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে তা আরো বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এসব ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জনকল্যাণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেসসচিব এবং কুয়েটের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার নিকটবর্তী একটি দুর্ঘটনায় ১৬ নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ এক ট্রেনচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।
এই চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি দুর্ঘটনা এড়াতে সময়মতো ব্রেক প্রয়োগ করেননি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির একজন কর্মকর্তা।
২৮ এপ্রিল, রাজধানী জাকার্তা থেকে কিছু দূরে বেকাসি তিমুর স্টেশনের কাছে থেমে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনের পেছনে থাকা নারীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে দূরপাল্লার একটি ট্রেন ধাক্কা দেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জাকার্তা থেকে এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
উদ্ধারকর্মীরা রাতভর কয়েক ঘণ্টা ধরে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগিগুলো খুলে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
দূরপাল্লার ট্রেনটির ৩৭ বছর বয়সী চালকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, থেমে থাকা কমিউটার ট্রেনটির খুব কাছাকাছি এসে তিনি ব্রেক প্রয়োগ করেন।
জাকার্তা পুলিশের কর্মকর্তা ই দেউয়া পুতু গেদে আনোম দানুজায়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, আরও দূর থেকে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল।’
দেউয়া আরও জানান, যদি চালক দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
দুর্ঘটনায় নারীদের নির্ধারিত বগিটির ১৬ যাত্রী প্রাণ হারান।
জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির (কেএনকেটি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও ১০৭ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকেত ও যোগাযোগব্যবস্থার ত্রুটিসহ কয়েকটি কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এ ঘটনায় ট্রেনচালককে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।
বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় পরিবহন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দেশটির বাস, ট্রেন ও জাহাজের অনেকগুলোই পুরোনো এবং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ