০৪:৫৩ পি.এম
আশুগঞ্জের ধানের মোকামে গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, কৃষক ও বেপারীরা বেশ কষ্টে রয়েছেন।
'সরকার ভারত থেকে চাল আমদানি করছে’—এ এমন গুজবর কারণে বাজারে কৃত্রিম মন্দা সৃষ্টি করেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই গুজব ছড়ানোর ফলস্বরূপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী ধানের মোকাম আশুগঞ্জে রাতারাতি পতন ঘটেছে। এর ফলে কৃষক ও বেপারীদের পকেট কেটে সিন্ডিকেটটি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল আমদানির বিষয়টি গুজব উল্লেখ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই বার্তার আগেই, কৃষক ও বেপারীরা সিন্ডিকেটের সুক্ষ্ম কারসাজির ফলে লোকসান ভোগ করছেন।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সরকার ধানের জন্য ৩৬ টাকা কেজি এবং প্রতি মন ধানের জন্য ১৪৪০ টাকা সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও আগাম বন্যায় হাওরাঞ্চলের কৃষকরা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: বেলাবোতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত: মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত
বিজয়নগরের কৃষক রফিক মিয়া জানান, ৮৫০ থেকে ১০৫০ টাকার বেশি দামে ধান বিক্রি করা সম্ভব নয়। সরকার নিদিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অ্যাপের মাধ্যমে ধান ক্রয় করছে বলে বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বেপারীরা ধান কিনতে এসে দাম কম বলছে। জমির খরচ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা হলেও বিক্রির সময় ধানের দাম মিলছে না। বেপারীরা সিন্ডিকেট করে ধান কিনে গুদামে লোড করার পর দাম বাড়লে তারা বেশি দামে ধান বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।
নাসিরনগরের কৃষক সোহাগ মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ধার দেনা করে জমি করেছেন। শ্রমিকের মূল্য হিসাব করে ধানের দাম পাওয়া যায় না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বাজারে ধানের দাম মিলছে না। মিল মালিকেরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামেই ধান কিনছেন এবং পরে বাজারে দাম বাড়লে তারা বিক্রি করছেন।
এদিকে, সরকার ভারত থেকে দেড়লাখ টন চাল আমদানি করবে—এমন গুজব শহরের ধান-চালের বৃহৎ হাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জকে অস্থির করে তুলেছে। গুজবের কারণে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট হাওর অঞ্চলের কৃষক ও বেপারীদের কাছ থেকে ধান কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মন ধান নিয়ে কৃষকরা মারাত্মক বিপদের মধ্যে পড়েছেন।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে ধান নিয়ে আসা সেলিম মিয়া জানান, নৌকাগুলো দেখেই মিল মালিকের সিন্ডিকেট বাজার দর কমিয়ে দিচ্ছে। গত ৪ দিন ধরে বসে আছেন, কারণ তিনি ১১০০ টাকা মন ধান কিনে এনে এখন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক অসুস্থ, সবার কাছে দোয়া কামনা
মিলন চন্দ্র দাস, যিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে ধান নিয়ে আসছেন, বলেন, ধান কিনে আনছেন ১১৫০ টাকা মনদরে, কিন্তু বাজারে ৭০০ টাকা মন বলা হচ্ছে। তিন দিন ধরে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। মিল মালিকদের পক্ষ থেকে কিসে ইনফ্লেশন রয়েছে, তা দরদালে নিশ্চিত নয়।
মিল মালিকপক্ষের জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, ধান থেকে চাল তৈরি করা হয় এবং তাদের লোকসান হচ্ছে। আগের চাল রাখার জায়গা নেই এবং বর্তমানে সরকার এলসি চাল আমদানি করবে বলে খবর রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত নূর আলী বলেন, সরকার এলসির মাধ্যমে ইন্ডিয়া থেকে চাল আমদানি করছে—এটা নিছক গুজব। আমাদের পক্ষ থেকে বাজারে মনিটরিং চলছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭শ ৯০ মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সরকার ৪৮ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৯শ ৯৩ মেট্রিকটন আতপ চাল এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ৬৯ হাজার ২৭২ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করবে। এছাড়া ৩৬ টাকা দরে ১১০৫৫ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচন বাতিলের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন