ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শাহজালালে জমজমের পানি নিয়ে তুলকালাম, নেপথ্যে গাফিলতি ও উত্তেজনা


শাহজালালে জমজমের পানি নিয়ে তুলকালাম, নেপথ্যে গাফিলতি ও উত্তেজনা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট তুলকালামের পেছনে বিমানের মদিনা স্টেশনের গাফিলতি এবং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠে এসেছে।

মদিনা থেকে আসা বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের ১৮টি কনটেইনারের মধ্যে ১৭টি যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছালেও জমজমের পানি থাকা ১৮ নম্বর কনটেইনারটি মদিনাতেই পড়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে যে, কনটেইনারটির প্রয়োজনীয় তথ্য ঢাকার ব্যাগেজ কন্ট্রোলকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।

এই কারণে ঢাকায় পৌঁছে যাত্রীদের জমজমের পানি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে বিমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কয়েকজন যাত্রী এবং তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন: আলমগীর হোসেনকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ বায়োজেনের

পরে এ ঘটনায় মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

যেভাবে শুরু

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে ১৮টি কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে ১৭টি যথাসময়ে অফলোড করা হলেও জমজমের পানি থাকা ১৮ নম্বর কনটেইনারটি পড়ে থাকে। ঢাকায় থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাগেজ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষকেও কনটেইনারটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়নি।

ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীরা তাদের লাগেজ পেলেও জমজমের পানি পেতে বিলম্ব হয়। যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক সভা শুরু

এ ঘটনায় বিমানের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে মদিনা স্টেশন নিয়ে

জমজমের পানি নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার পর বিমানের মদিনা স্টেশনের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ওই স্টেশনের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই বলে বিমানের একটি সূত্র দাবি করেছে। এর আগে এ ধরনের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তার ছিল না বলে সূত্রটির দাবি।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে বেকারত্বে রেকর্ড চাপের মুখে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

বিমান সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামান্য সমন্বয়হীনতাও বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে। মদিনার ঘটনা তারই উদাহরণ।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, বিদেশি স্টেশনগুলোয় দক্ষতা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে এর প্রভাব যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট পরিচালনায় পড়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট আইন, নিরাপত্তাবিধি ও অপারেশন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরি।

জমজমের পানি থেকে মামলা

জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গেলে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মূল গাফিলতি কোথায়?

ঘটনার শুরু জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব থেকে। আর সেই বিলম্বের পেছনে মদিনা স্টেশনে কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও তথ্য আদান-প্রদানে গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অর্থাৎ, একটি কনটেইনার সময়মতো অফলোড না হওয়া এবং সেটির তথ্য ঢাকায় যথাযথভাবে না পৌঁছানোর কারণেই প্রথমে যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তরায় সতর্ক পুলিশ

এরপর সেই ক্ষোভ থেকেই বিমানবন্দরে উত্তেজনা এবং শেষ পর্যন্ত মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। ফলে জমজমের পানি নিয়ে শাহজালালে যে তুলকালাম হয়েছে, তার নেপথ্যে শুধু যাত্রীদের উত্তেজনা নয়, বিমানের বিদেশি স্টেশন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে এসেছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিদেশি স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। নতুন পদায়নে সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব, যোগ্যতা, টেকনিক্যাল জ্ঞান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এসব পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক আদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বিদেশি স্টেশনগুলোয় যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করে বাস্তব পরিবর্তন আনা হবে? শাহজালালে জমজমের পানি নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে।

আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮–২৯ অক্টোবর ইলিশে নিষেধাজ্ঞা: মা ইলিশ রক্ষায় মঠবাড়িয়ায় নদীপথে প্রচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২০ এম


৮–২৯ অক্টোবর ইলিশে নিষেধাজ্ঞা: মা ইলিশ রক্ষায় মঠবাড়িয়ায় নদীপথে প্রচার

মা ইলিশ রক্ষায় শুরু হচ্ছে ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা। আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণ বন্ধ রাখতে জেলে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নদীপথে নেমেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। ‘মা ইলিশ রক্ষা করি, সোনালি ইলিশে দেশ ভরি’—স্লোগানে বলেশ্বর নদীসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় চলছে পথসভা ও প্রচার-প্রচারণা।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় হ্যান্ডবিল, ব্যানার ও ফেস্টুন বিতরণ করা হয়।

মৎস্য বিভাগ জানায়, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরলে বা অবৈধ জাল ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, তুষখালী, কাটাখাল, মাছুয়া, জলাঘাটা ও সাংরাইলসহ কয়েকটি এলাকায় নিষেধাজ্ঞার সময় অবৈধভাবে মা ইলিশ ধরার প্রবণতা রয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র জেলেদের এ কাজে সহযোগিতা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতকরণে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম এর সভাপতিত্বে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের উপস্থিতিতে ট্রাফিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৪ অক্টোবর ২০২৬) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক অফিস, ফৌজদারহাটে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শকবৃন্দ, বিভিন্ন ট্রাফিক জোনের ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে চট্টগ্রাম জেলার যানজট নিরসন, সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ট্রাফিক আইন ও বিধিবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ পার্কিং ও বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং পথচারীসহ সকল সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক ইউনিট হিসেবে কাজ করে। যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদান এবং সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশকে আরও আন্তরিক, পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক, বাজার ও ব্যস্ততম এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কনফারেন্সে “শৃঙ্খলিত সড়ক, নিরাপদ যাত্রা” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রটোকল ভেঙে জনগণের দুয়ারে এমপি ডা. মিতু: প্রশংসার পাশাপাশি বরাদ্দ ও ত্রাণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রব্বানী (স্টাফ রিপোর্টার)

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ এম


প্রটোকল ভেঙে জনগণের দুয়ারে এমপি ডা. মিতু: প্রশংসার পাশাপাশি বরাদ্দ ও ত্রাণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন

চিরাচরিত রাজনৈতিক প্রটোকল এবং অতিরিক্ত দলীয় বহর এড়িয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী উপায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর- কাঠালিয়া) আসনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তিন দিনের এক বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছেন ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য।

সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের সফরের সময় যে ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা ব্যারিকেড থাকে, তা ভেঙে ডা. মিতু সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ কোনো রাখঢাক বা ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের মনের কথা, দৈনন্দিন সমস্যা ও এলাকার সংকটের কথা সরাসরি এমপি মহোদয়ের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তৃণমূল রাজনীতিতে জনপ্রতিনিধিদের এমন জনবান্ধব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

জনসংযোগের এই ইতিবাচক সাড়ার পাশাপাশি এলাকার কিছু সচেতন মহলে বেশ কিছু প্রশ্ন ও সমালোচনাও দানা বেঁধেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের অভিযোগ—বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাজাপুর ও কাঠালিয়া অঞ্চলের জন্য একটি বড় ধরনের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ আনা হয়েছিল। তবে কাগজে-কলমে সেই বরাদ্দ এলেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান কাজ বা সুফল সাধারণ মানুষ এখনো পায়নি।

এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক ঈদের সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য যে বিশেষ ত্রাণ বা সহায়তার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সরকারি সহায়তা আসলে ঠিক কারা পেলেন এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বণ্টন করা হলো, সে বিষয়ে প্রশাসন বা দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত অভাবীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না, তা নিয়ে সাধারণ মনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, এমপি ডা. মাহমুদা আলম মিতু যেহেতু নিজেই প্রথা ভেঙে সরাসরি জনগণের কাছে আসার সাহস দেখিয়েছেন, তাই তিনি এই প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাবেন না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—নিজের এই ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব সফরের মাধ্যমে এমপি মহোদয় অত্যন্ত বিচক্ষণতা, স্বচ্ছতা ও প্রজ্ঞার সাথে স্থানীয় উন্নয়ন ও ত্রাণ বণ্টনের এই অনিয়মের প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক জবাব দেবেন। সেই সাথে পর্দার আড়ালের সত্য উন্মোচন করে সাধারণ মানুষের মনের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করবেন এবং এলাকায় জবাবদিহিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় সিএনজি পাম্পের ক্যাসকেড রুমে আগুন, ক্ষতি ৫-৬ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ এম


কুমিল্লায় সিএনজি পাম্পের ক্যাসকেড রুমে আগুন, ক্ষতি ৫-৬ লাখ টাকা

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মল্লিকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস ক্যাসকেড রুমে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে মল্লিকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস ক্যাসকেড রুমে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ কবির জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস ক্যাসকেড রুমের গ্যাস রিজার্ভারের সেফটি ডিভাইসে লিকেজের কারণে কন্ট্রোল প্যানেলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং সেখান থেকে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক স্পার্কের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে, আগুনের সঠিক কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ক্যাসকেড রুমে মোট ২৪টি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। এর মধ্যে আনুমানিক ৮ থেকে ১০টি সিলিন্ডার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি সিলিন্ডারের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে ক্যাসকেড রুমে থাকা অন্যান্য সিলিন্ডার এবং পুরো ফিলিং স্টেশনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।

স্টেশন কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ কবির আরও জানান, আগুনের তীব্র তাপে কয়েকটি সিলিন্ডারের কন্ট্রোল হুইল গলে যাওয়ায় আগুন নির্বাপণের পরও রিজার্ভার থেকে গ্যাস লিক হতে থাকে। এতে আশপাশে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং পুনরায় আগুন বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও ভলান্টিয়ারদের সমন্বয়ে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়। আশপাশে থাকা লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%