ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর


অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা এবং দালালদের প্রতারণার ফাঁদ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, যেসব দালালের ফাঁদে পড়ে সুনামগঞ্জের যুবকেরা অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে জমি বিরোধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, বিচার দাবি

মন্ত্রী বলেন, বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পাশাপাশি কাজ ও ভাষা শিখে দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ভাষা শিক্ষার কোর্স পরিচালনার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।

অবৈধ অভিবাসন রোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের সব মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহতা এবং বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুফল তুলে ধরতে হবে। এই সচেতনতামূলক আন্দোলনের সূচনা সুনামগঞ্জ থেকেই হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বৈধ সুযোগের অভাবে অনেকেই অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে আইএলও’র ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে ইতালিতে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী সভায় একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে তিনি সুনামগঞ্জের যুবকদের অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ সারিতে রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

এছাড়া সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেনসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাপ্তরিক জটিলতায় ঝিনাইদহে দাফন হওয়া আফগান নাগরিকের মরদেহ নিতে ব্যর্থ ভাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


দাপ্তরিক জটিলতায় ঝিনাইদহে দাফন হওয়া আফগান নাগরিকের মরদেহ নিতে ব্যর্থ ভাই

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া সুদূর আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ দাফনের পৌনে পাঁচ মাস পর মরদেহ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বাংলাদেশে ৫০ দিন ধরে অবস্থান করলেও দাপ্তরিক জটিলতায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি আটকে আছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত নিয়ে নিহতের ভাই প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ সুদূর আফগানিস্তান থেকে ঝিনাইদহে এসে পৌঁছালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পিবিআই আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের স্বজনরা নিশ্চিত হন যে নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জাশির এলাকার কুন্ডুস গ্রামের ইয়াসিন মোহাম্মদী ও সকিনা মোহাম্মদী দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদী। হাসমতের মৃত্যুর পর তার লন্ডন প্রবাসী আরেক ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী লন্ডন থেকে ঝিনাইদহে আসলেও আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

এরপর নিহতের দাফন হওয়ার ৪ মাস ২৪ দিন পর তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী ভাইয়ের মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে গত ৬ জুলাই ডিএনএ টেস্টের নথিপত্র, মন্ত্রণালয়ের চিঠি, পরিচয়পত্র ও প্রমাণাদিসহ ঝিনাইদহে আসেন।

মৃত হাসমত মোহাম্মদীর বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এক পত্রে নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠাতে অনাপত্তি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি না থাকায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া থেমে আছে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিতে যেহেতু একটি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক জড়িয়ে আছেন, তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে না।

ঝিনাইদহের একটি হোটেলে অবস্থানরত ইমাল মোহাম্মদী অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা শুধু চান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহটি নিজ দেশে নিয়ে দাফন করতে। এভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরাঘুরি করাটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠির অপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, মানবিক দিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে করে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে জানান, আমরা সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের হাসপাতাল পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


খুলনায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের হাসপাতাল পরিদর্শন

খুলনা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : মহানগরে ভয়াবহ রূপ নেওয়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল হাসপাতালে যান।

প্রতিনিধি দলটি দুপুরে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে খুলনা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে। 

পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও শিশু রোগীদের শয্যার পাশে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, স্যালাইন এবং ল্যাব পরীক্ষার সুবিধাসমূহ যথাযথভাবে প্রদান করা হচ্ছে কি না-সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মহানগর বিএনপির নেতারা। 

কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তার অভাবে কষ্ট না পায়, সেদিকে নজর রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে খুলনা মহানগর বিএনপি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে: বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে: বিশেষজ্ঞ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান আত্মসমর্পণের বদলে আরও সংঘাত ও উত্তেজনার পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করছেন ইতালির তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল। 

তার মতে, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামেল বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা হলো—ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে তার ফল হতে পারে ঠিক উল্টো। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপ ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে দেশটির আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণ হতে পারে।

কামেল বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্ন করার নীতি নতুন কোনও কৌশল নয়। অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর নেওয়া কিছু পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান ও পরবর্তী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার মতে, যেসব শক্তি ইরাককে ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল, তারাই এখন ইরানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলছে। অথচ ইরাকের পতন ও দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব ও মিত্রজোট আরও বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছিল।

কামেলের ভাষায়, ইরানকে চাপের মধ্যে রেখে বিচ্ছিন্ন করার নীতি অতীতে যেমন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, ভবিষ্যতেও তা একইভাবে ব্যর্থ হতে পারে। বরং এ ধরনের চাপ ইরানকে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
চলমান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন কামেল। তার দাবি, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কামেলের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাতেও ইসরায়েলের অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লেবানন ফ্রন্টকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থাৎ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পাশাপাশি লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তা যুদ্ধের পরিধি ও স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষক কামেলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনা হলেও, তেহরান এ ধরনের পদক্ষেপের জবাবে আরও কঠোর অবস্থান নিলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ফলে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন নীতি দেশটিকে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকারে বাধ্য করবে, নাকি আরও সংঘাতমুখী ও আঞ্চলিকভাবে সক্রিয় করে তুলবে—এ প্রশ্নই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নবীর আগমনে ঈদ উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশ’: সৈয়দ বাহাদুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


‘নবীর আগমনে ঈদ উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশ’: সৈয়দ বাহাদুর

 

"তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে", "ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়", "আজ ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল, নবীর আশিক কে আছো ভাই হওরে শামিল, আজ ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল" - এইভাবে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনকে স্বাগত জানাতে নাতে রাসুল, দুরুদ ও সালাম গাইতে গাইতে হাজার হাজার নবী প্রেমিক সুন্নী মুসলমান জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চাঁদপুর শহরে নবী প্রেমিকদের ঢল নামে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে এই জশনে জুলুছ ও সুন্নী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাইক্রো স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় এই সুন্নী সমাবেশ। এখান থেকেই শহরে বিশাল বর্ণাঢ্য জুলুছ বের হয়।

জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ও সুন্নী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের পীর সাহেব আওলাদে রাসুল আল্লামা সাইয়েদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-মাদানী। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "পৃথিবীময় এ কথা স্বীকৃত যে, সৃষ্টি জগতের জন্য মহান স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত, দয়া, অনুগ্রহ হচ্ছেন আল্লাহর প্রিয় হাবীব আমাদের পেয়ারা নাবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।" আল্লাহ পাক নিজেও কোরআনে তাঁর প্রিয় হাবীবকে সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পাক সূরা ইউনুসের মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন- আমরা যেনো আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া এবং রহমত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করি। বাংলায় হলো খুশি, আর আরবিতে হলো ঈদ। তাই আমরা আল্লাহর হুকুম পালনার্থে প্রিয়নবীর শুভাগমন উপলক্ষে ঈদ উদযাপন তথা জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী করে থাকি। এই ঈদ হচ্ছে ঈমানের ঈদ। আর ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা হচ্ছে ইবাদতের ঈদ। ঈদে মিলাদুন্নবী তথা নবীর আগমন যদি না হতো, তাহলে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা কোনো কিছুই হতো না এবং আমরা পেতামও না। কারণ ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা হচ্ছে উম্মতে মোহাম্মদী মুসলমানদের জন্য। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ, শ্রেষ্ঠ ঈদ হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী। অথচ কিছু জাহেল মুর্খ মৌলভী বলে ইসলামে নাকি দুই ঈদ ছাড়া তৃতীয় কোনো ঈদ নাই। অথচ হাদীসে পাকের ঘোষণা অনুযায়ী জুমার দিন ঈদ, আরাফাতের দিন ঈদ। সৈয়দ বাহাদুর শাহ ওই সমস্ত জাহেল মোল্লাদের ফতোয়ার দিকে কান না দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যান্য বক্তারা সরকারিভাবে ঘোষিত ঈদে মিলাদুন্নবীর বিরোধিতাকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। বক্তারা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জানের সম্প্রতি "বিদআতে দেশ আছে গেছে, নামাজে বিদআত, দোয়ায় বিদআত" বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেনাপ্রধান এই বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই আমরা আজকের এই সমাবেশ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামানের অপসারণ দাবি জানাচ্ছি। বক্তারা শহীদে মিল্লাত আল্লামা নূরুল ইসলাম ফারুকী এবং ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান।

ফরিদগঞ্জ ঘনিয়া সাঈদিয়া দরবার শরীফের শাহজাদা মাওলানা নাজমুল আখন্দ নকশবন্দীর সভাপ্রধানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা জাকারিয়া মাদানী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন, বড়কুল দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ আল-কাদেরী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, পীরজাদা মাওলানা খাজা মোহাম্মদ জোবায়ের, মুফতি মাওলানা আবুল হাশেম শাহ মিয়াজী, মুহাদ্দিস মাওলানা মাসুদ হোসাইন, অধ্যক্ষ আল্লামা রফিকুল ইসলাম হেলালী, মদনা দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা শাহ মোহাম্মদ কাউসার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. এমদাদ হোসেন পাটওয়ারী, জমঈয়াতে হিযবুল্লাহ চাঁদপুর শহর শাখার সেক্রেটারি সাংবাদিক মাওলানা আব্দুর রহমান গাজী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল হান্নান নিজামী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মজুমদার, গাউসিয়া বোরহানিয়া দরবার শরীফের পক্ষে মাওলানা রবিউল হাসান, অ্যাড. ফরিদ হোসেন প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম ও নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম নেতা মোতাসিম বিল্লাহ মাসুম। উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা গাউসিয়া কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহজামাল তালুকদার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি কামরুল হাসান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা নূরুল আমিন, সদর উপজেলার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতা আবুল বাশার, ডা. সাদেক উল্লাহ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে জশনে জুলুছ শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে মিলাদ কিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%