সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৬ পি.এম
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরানথানা এলাকায় নির্মাণকাজ চলাকালীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানথানা ইসলামি মার্কেটের সামনে সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাইল গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৪) এবং অপরজন হোসেনপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সাব্বির (২৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের মতে, সোমবার দুপুরে শহরের সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের উপরের অংশে নির্মাণকাজের জন্য রড টানার কাজ চলছিল। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা রডটি টেনে ওপরে নেওয়ার সময় সেটি ভবনের বাইরের অংশে থাকা একটি খোলা এসির সঙ্গে সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তের মধ্যে দুই শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় শত শত মানুষ ভিড় করেন। এতে পুরানথানা ইসলামি মার্কেট ও সামাদ প্লাজার আশপাশে ব্যাপক জনসমাগম সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
জেলা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, "এভাবে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এসি খোলা অবস্থায় রেখে নির্মাণকাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসতর্কতার কারণে একই সঙ্গে দুইজন শ্রমিকের প্রাণ চলে গেল। নির্মাণকাজের আগে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদ করা উচিত ছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।"
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সময় শ্রমিকদের ব্যবহৃত লোহার রড ভবনের বাইরে থাকা এসির সংস্পর্শে চলে যাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। নির্মাণকাজের সময় রড, বাঁশ, মই বা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা বৈদ্যুতিক লাইন, এসির সংযোগসহ বিদ্যুতের উৎসগুলো সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "যেকোনো ভবনে নির্মাণকাজ শুরুর আগে আশপাশের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিরাপদ করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বেষ্টনী, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজের সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে তদারকি না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাথমিকভাবে অসতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর দিল্লির জনকপুরীর ‘হায়াত সেন্ট্রিক’ হোটেলে খ্রিষ্টানদের একটি রবিবারের প্রার্থনা সভায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি দলের হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, সেখানে বিপুল সংখ্যক হিন্দুকে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল।
‘দ্য সিয়াসাত ডেইলি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত দলের সদস্যরা হঠাৎ করে প্রার্থনা সভায় প্রবেশ করে উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দলের সদস্যরা হোটেল চত্বরে এই ধরনের অভিযোগ করছেন।
ভিডিওতে একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায়, "এখানে ধর্মান্তরকরণ চলছে। জনকপুরীর হায়াত সেন্ট্রিক হোটেলে খ্রিষ্টানরা ধর্ম পরিবর্তন করাচ্ছে।"
মারধরের পাল্টা অভিযোগ আক্রমণকারীদের
ঘটনার ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি আরও দাবি করেন, প্রার্থনা সভায় আসা শিশুরা সবাই হিন্দু এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে যেহেতু তারা সভার বিরোধিতা করেছিল। তিনি বলেন, "এখানে থাকা শিশুদের ১০০ শতাংশই হিন্দু এবং তাদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আমরা যখন এর প্রতিবাদ করি, তখন তারা আমাদের সাথে এমন দুর্ব্যবহার করছে।"
হট্টগোলের বিরোধিতা করার কারণে কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য একটি ভিডিওতে ওই দলের একজন সদস্য কিছু ফর্ম দেখিয়ে দাবি করেন, সভায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হচ্ছিল। তার অভিযোগ, প্রায় ৫০০ হিন্দুকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, "তাদের দিয়ে এসব ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে। টাকার লোভ দেখিয়ে এখানে ধর্মান্তরকরণ করানো হচ্ছে। এখানে সব কিছুর মূল উদ্দেশ্যই ধর্মান্তর।"
ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) বিচিত্র বীর সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এটি স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি নিয়মিত রবিবারিক প্রার্থনা সভা ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিসিপি জানান, "স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের নিয়মিত রবিবারের প্রার্থনার জন্য সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন। অনুসন্ধানের পর ধর্মান্তর সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।"
এছাড়াও, ৫০০ জন মানুষকে ধর্মান্তরিত করার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও উড়িয়ে দিয়েছেন এই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা। বিবৃতিতে বলা হয়, "প্রায় ৫০০ জনের ধর্মান্তরিত হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা; অনুগ্রহ করে এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না।"
বিতরণ করা ফর্মগুলো আসলে প্রার্থনার আবেদনপত্র। ‘দ্য সিয়াসাত ডেইলি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিডিওতে প্রদর্শিত ফর্মগুলো মূলত ‘গ্লোবাল রয়্যাল প্রিস্টহুড চার্চ’-এর প্রার্থনার আবেদন এবং চার্চের সদস্যপদ সম্পর্কিত ফর্ম ছিল।
‘প্রেয়ার রিকোয়েস্ট ফর্ম’ বা প্রার্থনার আবেদনপত্রে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিবরণ এবং যাজকের (প্রিস্ট) কাছে তারা কী প্রার্থনা করাতে চান তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ‘ওয়েলকাম টু প্রিস্টহুড জেনারেশন’ শিরোনামের অন্য ফর্মটিতে চার্চের মধ্যে তারা কোন ধরনের পদে কাজ করতে আগ্রহী, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ‘গ্লোবাল রয়্যাল প্রিস্টহুড চার্চ’ নিয়মিত হায়াত সেন্ট্রিক হোটেলে রবিবারের প্রার্থনা সভার আয়োজন করে থাকে। চার্চের একজন প্রবীণ যাজক ২০ সেপ্টেম্বরের এই সমাবেশের জন্য ইনস্টাগ্রামে একটি আমন্ত্রণপত্রও শেয়ার করেছিলেন, যেখানে এটিকে "অ্যাটোনমেন্ট সানডে সার্ভিস" (প্রায়শ্চিত্তমূলক রবিবারের সেবা) হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে পুনরায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অনুসন্ধানে ওই সভায় ধর্ম পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ বা আলামত পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের সাউথ শোর এলাকায় নতুন একটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। এই নতুন কেন্দ্রটি মুসলিমদের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হুগেনটন অ্যাভিনিউয়ের নতুন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আয়োজন করে মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)। অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। এটি স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির দ্বিতীয় কেন্দ্র। সাবেক নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির একটি ভবন সংস্কার করে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারটি নির্মিত হয়েছে। ভবনটি হুগেনটন স্টেশন থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।
মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির রাজনৈতিক ও জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আকল জানান, সাউথ শোর এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এতদিন স্থানীয় অনেক মুসল্লিকে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে ডংগান হিলস এলাকার মসজিদে যেতে হতো। হুগেনটন এলাকার অনেক বাসিন্দাকে সেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালাতে হতো।
এমএএস একটি জাতীয় সংগঠন, যার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০টির বেশি শাখা রয়েছে। বর্তমানে নিউইয়র্ক শাখার অধীনে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রটি বার্গার অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী মাসে কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আকল।
নতুন হুগেনটন কেন্দ্রটি শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, বরং স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্রটিতে কারাতে ও ফুটবল প্রশিক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
আকল বলেন, নতুন কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য শুধু মসজিদ পরিচালনা করা নয়। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন।
নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির হুগেনটন শাখার সঙ্গেও নতুন কেন্দ্রটির সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিশুদের পড়াশোনা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সাক্ষরতা ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
ভবনটি আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নতুন জায়গায় লাইব্রেরি স্থানান্তরের সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এমএএস কর্তৃপক্ষ তাদের আগের ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে লাইব্রেরিটি নতুন স্থানে চলে যাওয়ার পর ভবনটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়।
আকল জানান, লাইব্রেরির নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তাদের পুরোনো ভবনে লাইব্রেরির সেবা চালু রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল এমএএস।
নতুন কেন্দ্রটির সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। শুরুতে সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি ও অংশগ্রহণকারীকে সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাসের সংস্কারকাজে লাইব্রেরির তাক সরানো, ভবন পরিষ্কার করা এবং নামাজের জন্য কার্পেট বসানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শৌচাগার ও ভবনের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। শুক্রবার দুপুরের জুমার নামাজ হবে সাপ্তাহিক প্রধান ধর্মীয় আয়োজন। এছাড়া মুসলিমদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।
আকলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেটেন আইল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরোনো কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি মানুষের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। এমনকি সংগঠনটির পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও প্রতি সপ্তাহে খাবার শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
এমএএস স্টেটেন আইল্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিম ও বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
নতুন কেন্দ্র চালুর উদ্যোগটি স্টেটেন আইল্যান্ডে এমএএসের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। সংগঠনটির আগের কেন্দ্রটি জায়গার সংকটে একাধিক জুমার জামাত, বিভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক স্কুল এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় তারেক রহমান নিউইয়র্কে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), যুবদল ও শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় অবস্থান নেন। সেখানে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা—‘তারেক রহমান আসছে, রাজপথ কাঁপছে’ এবং ‘নিউইয়র্কে তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’—ইত্যাদি স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
স্বাগত জানাতে আসা যুবদলের এক নেতা বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে আমরা সোমবার জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে সমবেত হবো। নেতা বহর নিয়ে বের হওয়ার সময় রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানানো হবে। পাশাপাশি দেশে যেকোনো ধরনের স্বৈরাচারী শাসন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য প্রবাস থেকেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এর আগে, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ও সামরিক অস্ত্রের ব্যবহার করে ড্রোন যুদ্ধের সমীকরণ পরিবর্তন করছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতকে ফাঁকি দিতে রুশ বাহিনী তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করেছে শক্তিশালী ও উচ্চগতির কামিকাজে ড্রোন ‘গেরান-৫’।
এটি আগের প্রোপেলারচালিত ড্রোনের তুলনায় ক্রুজ মিসাইলের আদলে নির্মিত, ফলে সাধারণ এয়ার ডিফেন্সের জন্য শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার এই ড্রোনটি পূর্ববর্তী শাহেদ বা ‘গেরান’ সিরিজের নতুন রূপান্তর হলেও এতে যুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী টার্বোজেট ইঞ্জিন। যেখানে আগের সংস্করণগুলোর সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার, সেখানে ‘গেরান-৫’ ড্রোনের গতি ঘণ্টায় ৪৫০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ড্রোনটির সর্বোচ্চ উড্ডয়ন দূরত্ব প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এবং এটি ৮৫০ কেজি টেক-অফ ওজন নিয়ে ২০০ মিটার থেকে ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার উচ্চতায় উড্ডয়ন চালাতে সক্ষম। এটি প্রায় ৯০ কেজির ভারী বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা দিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মারাত্মক আঘাত হানা সম্ভব।
ড্রোনটিতে ১২-চ্যানেলের কমেটা স্যাটেলাইট নেভিগেশন ও এআই চালিত প্রযুক্তির ব্যবহার থাকায় এটি শত্রুপক্ষের সিগন্যাল জামিং বা ইলেকট্রনিক আক্রমণ সহজে রুখে দিতে পারে।
সমর বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সুখোই-২৫ যুদ্ধবিমান থেকেও এই ড্রোন আকাশে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে তৈরি এই ড্রোন ক্রুজ মিসাইলের মতো কার্যকারিতা দেওয়ায় তা প্রতিপক্ষের অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা, আন্তর্জাতিক সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল মিলিটারি নেটওয়ার্ক’ এবং গ্লোবাল ডিফেন্স সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের নতুন তৈরি ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের সাহায্যে একাধিক ‘গেরান-৫’ ভূপাতিত করার দাবি করলেও, উচ্চগতির এই ড্রোন বর্তমানে আকাশ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ