ভান্ডারিয়া ( পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৯:০৬ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে ফুটপাত, ড্রেন ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখলকারী ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।
অভিযানে শহরের জুতাপট্টি এলাকায় ড্রেনের ওপর ব্যাগ ও জুতার অ্যাঙ্গেল ঝুলিয়ে রাখা, প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে কাঁচামাল বিক্রি, মাছবাজারের প্রবেশমুখে রাস্তার পাশে টেবিল বসিয়ে শাকসবজি ও কাঁচামাল বিক্রি এবং কাঠপট্টি রোডে সড়কের ওপর কাঠ রেখে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চিত্র দেখা যায়।
এসব অবৈধ দখলের কারণে সাধারণ পথচারী ও ক্রেতাদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছিল। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের এসব দখল ও প্রতিবন্ধকতা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযানে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ জোমাদ্দার এবং স্থানীয় বাজার কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ভবিষ্যতে কেউ আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘটিত দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা পৌরসভার ইন্টার সেকশন মোড়ের খুলনামুখী সড়কে।
নিহত যুবকদের মধ্যে একজন হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি মহল্লার দুলাল কাজীর ছেলে ইজাজুল কাজী (২০) এবং অপরজন পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাত সরদারের ছেলে স্বাধীন সরদার (২০)।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জিনিয়া আক্তার জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ফলে গুরুতর আহত চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে ইজাজুল কাজী ও স্বাধীন সরদারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত রাজন (২১) এবং ইয়ামিন (২৮) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গা ইন্টার সেকশন মোড়ের খুলনামুখী সড়কে সংঘর্ষের ফলে দুজন নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করণের নাটকীয়তা যেনো কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে, কারণ উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও তাঁদের চাকরি স্থায়ী হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মাস্টাররোলে কাজ করলেও এখনো তাঁরা স্থায়ী নিয়োগের মুখ দেখেননি।
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ভুক্তভোগীরা ৭ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সিসিকের প্রশাসক বরাবর দেওয়া এক স্মারক লিপিতে তাঁরা এ দাবি জানান। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-৯১৪৩/২০১৫) করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে সিসিকের দায়ের করা লিভ টু আপিল (নং-১৩০৪/২০১৯) খারিজ করে ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক ও মানবিক সংকটে পড়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বা কার্যকর অগ্রগতি না হলে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা। তবে আদালতের রায়ে চাকুরী স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকটি সোমবার (০২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, এর আগে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ দফার অধীন ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকেই তা উত্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কারণে, জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার জন্য ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয় এবং তা অনুমোদন পায়।
নাসিমুল গনি জানান, লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং বা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে এটি এখন বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মী মো. সোলায়মান (ছিয়াম) শরীফের (২২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছিয়াম শরীফ ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের মো. কালাম শরীফের ছেলে। তিনি চাঁদপুরের মতলব ফায়ার স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে একই কর্মস্থলে কর্মরত এক সহকর্মীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে রওনা হন ছিয়াম। পথে পাশের রাজাপুর উপজেলার রাজাপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের নলকাটা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশার সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই বরিশালে পাঠানো হয়। আহত সহকর্মীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ছিয়াম নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
একই দিন রাতে ছিয়াম রক্তবমি করতে শুরু করলে শনিবার সকালে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ছিয়ামের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ