০২:১৮ পি.এম
ঢাকা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ইসরাইলকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উপনির্বাচনে আসন অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন দেশের বামপন্থী গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি। তবে, তিনি দলের প্রধানের পদে বহাল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইহুদি বংশোদ্ভূত পোলানস্কি গ্রিন পার্টিকে দৃঢ়ভাবে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানে নিয়ে গেছেন। চলতি মাসে, তার দলের সদস্যরা ইহুদিবাদকে (জায়নবাদ) বর্ণবাদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পক্ষে একটি প্রস্তাব সমর্থন করার পর তাকে ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
লন্ডনের হলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাস আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে, এই নির্বাচন লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ-কে পোলানস্কি জানিয়েছেন, নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী সাগাল আবদি-ওয়ালির কাছে পরাজিত হলেও তিনি দলের নেতৃত্বে থাকবেন।
আবদি-ওয়ালি ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, পোলানস্কি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
১৯৯০-এর দশকে সোমালিয়ায় যুদ্ধের কারণে শৈশবে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আসেন আবদি-ওয়ালি। বর্তমানে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শুক্রবার ভোরে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
১৯৮৩ সালে আসনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি একটানা লেবার পার্টির দখলে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা লেবার পার্টি ও গ্রিন পার্টির মধ্যে হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পোলানস্কি দলের নেতা হওয়ার পর থেকে গ্রিন পার্টির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪৩ বছর বয়সী সাবেক অভিনেতা ও হিপনোথেরাপিস্ট পোলানস্কি দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরো বামপন্থী করেছেন এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের ইসরাইল-হামাস যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে জনমনে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তিনি দলের সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা করেছেন।
রোববার, ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রিন পার্টির সদস্যরা ইহুদিবাদকে ‘বর্ণবাদের অন্য যেকোনো রূপের মতোই বিবেচনা করা হবে’— এমন একটি প্রস্তাব সমর্থন করায় পোলানস্কিকে ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ওই প্রস্তাবে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের সমগ্র ভূখণ্ডে একটি ‘একক গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার জন্যও সমর্থন জানানো হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
ব্রিটেনের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো, দেশটির ইহুদি সংগঠন এবং ইসরাইল সরকার প্রস্তাবটির ব্যাপক সমালোচনা করেছে। ইসরাইল সরকার একে ‘স্পষ্টত ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নির্বাচনের ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছে গ্রিন পার্টি। তবে, দলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, লেবার পার্টির সবচেয়ে নিরাপদ আসনগুলোর একটিতে তাদের ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে— এটি উদযাপন করার মতো বিষয়।
মুখপাত্রের ভাষ্য, ভোটাররা একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, লাগামছাড়া বাসা ভাড়া এবং ‘ফিলিস্তিনিদের প্রতি ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে তারা প্রকৃত পরিবর্তন চান।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন