শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৯ পি.এম
শিক্ষায় সমন্বিত আইন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান করার দাবি
প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সব ধরনের শিক্ষাকে সমন্বিত করে একটি শিক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা খাতের বিশিষ্টজনরা।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সূচনা বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
আলোচনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য রাশেদা কে. চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, "সবার জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।" শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তিনি আগামী শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, "শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।" একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, "মিড ডে মিল কার্যক্রমকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা ভালো উদ্যোগ।" বিশেষ করে এতে মায়েদের সম্পৃক্ত করা দরকার। শিক্ষার জন্য একটি স্থায়ী ও নির্দলীয় শিক্ষা সংস্কার কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষায় কর ও ভ্যাটের বোঝা পরিহার করা উচিত।" সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রয়োজন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই।" প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি জুলাইয়ের আহতদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার কোনো উদ্যোগ আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে।" শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র আইডি চালু করা, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বলেন, "শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে হবে।" কারিকুলামে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা শাখার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লাও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ বলেন, "শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সহজ নয়।" তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।
তিনি বলেন, "পার্বত্য জেলাগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি মিড ডে মিল চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।" বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভালো উদ্যোগগুলোও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষকদের পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান না করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, "দেশের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।" এ ক্ষেত্রে ইবতেদায়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব দখলের প্রবণতা রয়েছে।" সরকার নির্দলীয়ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে কাজ করতে চান তারা এবং জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শ্রেণিকক্ষে অনিয়ম না করলেই হয়।" শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বা তথ্য নেওয়া অপরাধ নয়; তবে তা যেন স্কুলের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, সরকার সারাদেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় মাছ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আজ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এবং এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের জনগণও এসব কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছেন। এ সময় তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখা সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাষিদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আসবেন। খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।
মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয়ও কমছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে খামারিরা মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সেই লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনামাছের মধ্যে রয়েছে- ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস। এসব পোনামাছের আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। মোট প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।
ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা: মো: শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো: আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো: হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রোকনুজ্জামান-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নী (২২) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ছামেলী আক্তার (২৫) কে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। গত ২১ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে যেকোনো সময়, মুড়িরগুল গ্রামে স্বামীর বাড়িতে মরিয়ম আক্তার মুন্নী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এই ঘটনার পর মুন্নীর মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেন। ৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪/১০৯ ধারাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার নম্বর-৫।
মামলা দায়েরের পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বড়লেখা থানা পুলিশের একটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার পর এসআই শেখ কামরুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবদুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে।
এর ধারাবাহিকতায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহায়তায় মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা এলাকা থেকে মামলার ১ নম্বর ও প্রধান আসামি ছামেলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিকে মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বিদ্যমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এই আইনটি মার্কিন সরকারের নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপরও নতুন বিধিনিষেধ, শুল্ক এবং নিষেধাজ্ঞার পরিধি বৃদ্ধি করেছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ‘লিন্ডসে ও. গ্যারেহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া বিল অনুমোদন করেন।
‘এইচ.আর. ৫৩৩৪’ নম্বরের এই বিশেষ বিলটি ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়েছে। আগে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
নতুন আইনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটনের এই কঠোর পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতিমালা পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আচরণকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আইনটির নামকরণে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্যারেহামের নাম রাখা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। ইসরাইলের প্রতি আনুগত্যের জন্য পরিচিত এই সিনেটর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযানের এবং গাজায় ইসরাইলের সহিংস যুদ্ধনীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ দীর্ঘদিন পর সন্তান জন্মের পর প্রকাশ্যে এসেছেন। তার চেহারা ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও কটাক্ষ শুরু হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি ক্যাটরিনার জন্য নতুন নয়। সন্তান জন্মের পর বলিউডের অন্যান্য অভিনেত্রীদের চেহারা ও শরীরের পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতা বহুদিনের। এবার সেই তালিকায় ক্যাটরিনার নামও যুক্ত হয়েছে।
এদিকে, ‘কেমন দেখতে লাগছে’—এই ধারণা নিয়ে ক্যাটরিনার একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’র সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের তুলনায় এখন তার কাছে সুন্দর দেখানোর সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে।
ক্যাটরিনা বলেছিলেন, ‘এটা অনেক বদলে গেছে। মডেলিং ও অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে সৌন্দর্যের মানদণ্ড নিয়ে অনেক ধরনের বাঁধাধরা ধারণা ছিল। এখন আমার কাছে নিজের সেরা দেখানোর অর্থ হলো নিজের সবচেয়ে ভালো অনুভব করা। আর সেটা আসে নিজেকে সামগ্রিকভাবে যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে।’
নিজেকে ভালো রাখার জন্য তিনি স্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত সক্রিয় থাকা, ধ্যান, সকালে এক ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকা এবং ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাকৃতিক আলো নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন বলেও জানান।
ক্যাটরিনার ভাষায়, ‘স্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা, সক্রিয় থাকা, ধ্যান, সকালে এক ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকা এবং দিনের শুরুতেই প্রাকৃতিক আলো নেওয়া—এসব আমার অনুভূতিতে বড় পরিবর্তন আনে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব আমার ত্বকের ওপরও পড়ে। আমার মনে হয়, আপনি যখন ভেতর থেকে সুস্থ অনুভব করেন, সেই আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বাইরেও ফুটে ওঠে।’
এদিকে, ক্যাটরিনার সাম্প্রতিক ছবি ও ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার চেহারার পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ তার পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন।
এক এক্স ব্যবহারকারী ক্যাটরিনার আগের ও বর্তমান সময়ের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, বিয়ের আগে এবং বিয়ের পর আমরা যে ক্যাটরিনাকে দেখতাম, তার কী হলো।’
গণেশ চতুর্থীর একটি অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনার ভিডিও প্রকাশ করে আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর মুখে বোটক্স ব্যবহার করে এবং প্রাকৃতিক ত্বকের বদলে প্লাস্টিক ব্যবহার করলে এভাবেই বয়স বাড়ে।’
অন্যদিকে, ক্যাটরিনার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন অনেক অনুরাগী। এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে নতুন মা হয়েছে, তার শরীরের আপনাদের বিচার নয়, ভালোবাসা প্রয়োজন। নারীদের শরীর নিয়ে কটাক্ষ না করে তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার সময় দিন, মাতৃত্বকে গ্রহণ করার সুযোগ দিন।’
ওই অনুরাগী আরও বলেন, ক্যাটরিনা তার বর্তমান চেহারা নিয়ে স্বচ্ছন্দ থাকার মাধ্যমে অনেক নারীকে নিজেদের শরীর নিয়ে ইতিবাচক হতে সাহায্য করছেন। তার দাবি, ক্যাটরিনার চাইলে ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক ও পুষ্টিবিদ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু তিনি শরীরের পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে নিজের জীবন উপভোগ করছেন।
ক্যাটরিনা কাইফ ও তার স্বামী ভিকি কৌশল ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর পুত্রসন্তানের বাবা-মা হন। তাদের সন্তানের নাম ভিহান। সন্তান জন্মের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই ক্যাটরিনার চেহারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনা শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান এই সমালোচনা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি ক্যাটরিনা কাইফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ