০৬:২২ এম
ফ্রান্সের পর এবার স্পেন ভয়াবহ দাবানলের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদ ও তার আশপাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া একাধিক আগুন একত্রিত হয়ে একটি বড় ধরনের দাবানলে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পেন সরকার মাদ্রিদ ও পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে দাবানল মোকাবিলার জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। স্পেনের ইতিহাসে দাবানলের কারণে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এটি প্রথমবার।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, হাজারো দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল অবস্থায় চলে যাচ্ছে।
স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিক জানিয়েছেন যে, দাবানলের ক্ষতির কারণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশিদের পরিচালিত অনেক রেস্তোরাঁর ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির হতাহত হওয়ার খবর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
স্পেন সরকারের বরাত দিয়ে জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দাবানলের শুরু হয় স্যান মার্তিন ও ভিয়া দেল প্রাদো এলাকায়। শুক্রবার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বিস্তৃত হয়। পরে, তা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়াতে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
জার্মান সংবাদমাধ্যম টাগেসশাউয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, দাবানলের ফলে মাদ্রিদ-সংলগ্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের সংকটের কারণে অনেক মানুষ স্কুল ও জিমনেশিয়ামের মেঝেতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থা অনুযায়ী চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা প্রতিবেদন দিয়েছেন যে, শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল। তবুও, সব ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, স্পেনের সামরিক বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা ইউনিটের সহায়তায় উদ্ধার এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হবে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন