সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ পি.এম
ঢাকার ধামরাইয়ে সেপ্টেম্বর মাসে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত জিনলিয়ান ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় কারখানার একজন চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন, তবে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা ৩০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণরূপে নেভানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, তবে বিপরীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে।
কারখানাটি লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম) প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনের কথা জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এনবিআরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানের সময় কারখানায় তৈরি ব্যাটারির পাশাপাশি ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম এবং আমদানি করা মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হেডফোন ও ব্লুটুথ হেডফোন পাওয়া যায়। ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহ হওয়ায় অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দলিলপত্র জব্দ করা হয়।
জব্দ করা দলিলপত্র পর্যালোচনা করে এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টাকার বিক্রির তথ্য গোপন করেছে। এতে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ টাকার পণ্য ও কাঁচামাল কেনার তথ্য গোপন করায় আরও ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের কথা জানায় এনবিআর।
তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সার্বিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানের প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এক দশকেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
মাস্টারপ্ল্যানের এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে কুয়াকাটায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন ও হোটেল-মোটেল। অন্যদিকে, সৈকত ও দর্শনীয় স্থানগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে বিশ্বমানের পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত নগরায়ণ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে ব্যবস্থাপনাগত সংকট ক্রমাগত বাড়ছে। বিচের পাড়সহ দর্শনীয় বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ দখলদারদের কার্যক্রম ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সাইমুন ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। সড়ক, পর্যটন স্পট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা দরকার।’
মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক শায়লা আক্তার তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে বেড়াতে এলে যাতায়াত, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত আবাসনের সংকট চোখে পড়ে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হলেও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারতেন।’
এদিকে, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয় ও বহিরাগত বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, জমি কেনাবেচা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রশাসনিক অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অনুমতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, যা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুয়াকাটা প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মালিক মো. কাজী ফারুক এ বিষয়ে বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের এই অনিশ্চয়তা কুয়াকাটার পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জমি কেনাবেচা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করে ভূমির ব্যবহার, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত নির্দেশিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এটি করা গেলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়ে উঠবে।’
পর্যটন খাতের বর্তমান চিত্র নিয়ে সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম বলেন, “কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অফুরন্ত। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নে ‘কুয়াকাটা টুরিজম সেন্টার’ (কেটিসি) গড়ে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি কেবল কাগজে-কলমেই থেকে গেছে। ফলে বাস্তবমুখী উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
কুয়াকাটায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক স্থবিরতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার আসল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করতে হবে এবং সমন্বিত উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে নামতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে কোথায় কী ধরনের স্থাপনা হবে, পরিবেশের সুরক্ষা কীভাবে হবে এবং পর্যটকদের অবকাঠামোগত সুবিধা কী থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।’
সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। পর্যটন কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর স্পার বাঁধ ঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গোসলে নেমে তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে যান।
নিহত শাহরিয়ার নুর হোসেন জিসান (২৩) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের ট্যুরিস্ট হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী রফিক সড়কের বাসিন্দা আলী আকবরের ছেলে।
এনায়েতপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের বন্ধু জাহিদ হাসান আঁচলের সঙ্গে আরো চার বন্ধু রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এনায়েতপুর স্পার বাঁধে বেড়াতে আসেন। এরপর আঁচল ব্যতীত চার বন্ধু যমুনা নদীতে গোসল করতে নামেন। ওই সময় হঠাৎ জিসান নদীর পানিতে তলিয়ে গেলে অন্য বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবরি দল এসে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তাকে পায়নি।
তিনি আরো জানান, সোমবার সকালে পুনরায় নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশেই জিসানের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ জর্দানের কারাক প্রদেশের হামুদ গির্জায় গুলির ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তিন সশস্ত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়েছে, বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি জানাজা অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ করে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ফলে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়।
জর্দানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামলাকারীরা কারাকের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালালে তারা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি।
জর্ডান কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ‘চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের’ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীল এই দেশে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দেশটির বাদশাহ আবদুল্লাহ নিরাপত্তা বাহিনীকে এই ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জর্দানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজ কিভাবে চরমপন্থার পথে পা বাড়াচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনায় সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এসে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের আদালত অবমাননার বিষয়টি কতটুকু গুরুতর ছিল তা জানাবেন।
এদিকে, আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনাল-২-এর সব মামলার শুনানি বাতিল করা হয়েছে এবং আইনজীবীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একজন বিচারক অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিন অভিযুক্ত দুই আইনজীবী— হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের সঙ্গে আসা অন্য আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করার পরদিন (১৬ সেপ্টেম্বর) আওয়ামীপন্থী এই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী ওই দুই আইনজীবী হওয়ায় তাদের মন্তব্যের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ