ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
চকবাজারে আগুন ১২ ঘন্টায় নিয়ন্ত্রণ

চকবাজারে সরুগলি-প্লাস্টিক পণ্য-ঝুঁকিপূণ ভবনে ফায়ার সার্ভিসের বিপত্তি


চকবাজারে সরুগলি-প্লাস্টিক পণ্য-ঝুঁকিপূণ ভবনে ফায়ার সার্ভিসের বিপত্তি

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজার অগ্নিকাণ্ড আবারও সামনে এনেছে পুরোনো ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা। সরু অলি-গলি, গিঞ্জি পরিবেশ, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া, তালাবদ্ধ গুদাম, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও কসমেটিকসের মতো পণ্যের মজুত এবং পানির সংকটে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোপুরি নেভাতে পারেনি সংস্থাটি। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পুড়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মালামাল। অনেকের দীর্ঘদিনের পুঁজি এখন ধ্বংসস্তূপে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে পাঁচটা লাগা আগুন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর পাঁচটা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গুদামে থাকা মালামালের নিচে তাপ ও আগুনের অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাপণ কার্যক্রম চলতে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

আগুনের সূত্রপাত, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে তদন্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত

সরু সড়ক, তালাবদ্ধ গুদাম

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকার মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ভবনটির ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের সৃষ্টি হয়। ষষ্ঠ তলায় থাকা গুদামগুলোর দরজা ও শাটারে একাধিক তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো গুদামে চার-পাঁচটি তালা ছিল। ভেতরের ক্রসফায়ার গেটেও তালা থাকায় আগুনের উৎসে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ চালাতে হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের মালামাল থাকায় সেগুলো সরানো এবং আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলছে। ষষ্ঠ তলার ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদামের মধ্যে সাত থেকে আটটিতে আগুন লেগেছিল। সেখানে ছাতা, ব্যাগ, কসমেটিকস, আতরের বোতল ও আতরসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল।

আরও পড়ুন: রিজভী: গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ

প্লাস্টিকের ব্যাগে আটকে ছিল আগুন

আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় গুদামে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ। পানি দেওয়ার পর ব্যাগগুলো পুড়ে শক্ত হয়ে যাওয়ায় নিচে থাকা আগুন পর্যন্ত পানি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মো. উদয় জানান, ভবনের ভেতরে প্রায় দুই ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে তিনি বাইরে আসেন। তার ভাষ্য, প্লাস্টিকের ব্যাগে পানি দেওয়ার পর সেগুলো শক্ত হয়ে যায়। এতে নিচে পানি পৌঁছায় না। পানি দেওয়া বন্ধ করলেই আগুন আবার জ্বলে ওঠে।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ওসমান গনী বলেন, ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া জমে থাকায় প্রথমে তা বের করার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করাও সম্ভব ছিল না। এসব কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণে বেশি সময় লাগছে।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

পানির সংকটও ছিল বড় বাধা

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নেভাতে পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের পানির রিজার্ভার থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। এক ভবনের পানি শেষ হলে অন্য ভবনের রিজার্ভার ব্যবহার করতে হয়েছে। আশপাশে পুকুর না থাকায় দূর থেকে পানি আনতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় পুরান ঢাকার সরু রাস্তা। বড় ও ভারী অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যানজটের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে গাড়ি চলাচলেও বাধা তৈরি হয়েছে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে কর্মীদের।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুনে ভবনের ষষ্ঠ তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তম তলায় ক্ষতি তুলনামূলক কম। আগুন যাতে পাশের মার্কেট ও দোকানে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কর্মীদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়েছে। আগুন নির্বাপণের সময় চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পল্টন হত্যাকাণ্ড মামলার নথি গায়েবের অভিযোগ জামায়াতের

পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন পুঁজি হারানোর শঙ্কা। কেউ গুদামে রাখা কয়েক লাখ টাকার মালামাল হারিয়েছেন, কেউ আবার দোকান ও গুদাম মিলিয়ে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ব্যবসায়ী খোরশেদ জানান, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় তার এফএম লেদারের দোকান এবং ষষ্ঠ তলায় গুদাম ছিল। গুদামে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে। গুদাম থেকে কোনো মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি তিনি।

একই মার্কেটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, তার নিচতলার দোকানের ব্যাগ আগুন থেকে রক্ষা পেলেও পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। আগের দিনই তিনি মালামাল এনেছিলেন। এখন সেগুলো বিক্রির উপযোগী নেই। অন্যদিকে।ওপরে তার একটি গোডাউনে কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: মোবারক হোসাইন: সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থা বাড়ছে

ব্যবসায়ী ইমতিয়াজের দাবি, মার্কেটটিতে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, আগুন নেভানোর কাজে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সপ্তম তলার একটি গুদামের মালিক রবিন জানান, আগুন লাগার পর পানি দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। পরে কালো ধোঁয়ায় ভবন ভরে যায়। একপর্যায়ে তিনিও ভেতরে আটকা পড়েন। শ্বাস নিতে ও চোখে দেখতে কষ্ট হচ্ছিল। সারা রাত পানি দেওয়ার পরও পরদিন আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি।

আগুনের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে গুদাম থেকে। সেখানে ব্যাগ ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকলেও তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: আমজনতার তারেককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী করলেন কড়া জবাব

ভবন নির্মাণের অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, গুদামের অগ্নিনিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

অপরিকল্পিত ভবন-মার্কেটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগা মনসুর খান প্লাজাসহ এখানে সিংহভাগ ভবন-মার্কেট অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ভবনে প্রবেশ পথে সরু, ভেতরে নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এমনকি কোনো ভবনেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও নেই। এরআগেই চকবাজারসহ পুরান ঢাকার সবগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে। গুদামে দাহ্য পণ্য সংরক্ষণ, জরুরি বহির্গমন পথ, কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও পানির উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরু সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন, যাতে জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে।

এর আগে সোমবার রাতে চকবাজার আগুন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, চকবাজারের মনজুর খান প্লাজার একটি ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ তথ্য পেয়েছেন। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। এ বিষয় তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ এম


মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য

দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল, কিশোর গ্যাং রোধ, ইভটিজিং এবং ‘র্যাগ ডে’র নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ করার জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)৷

শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন কম্পাইল করে আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এই নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শন করতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং র্যাগ ডে’র নামে যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, সভা-সেমিনার ও প্রচারণাপত্র বিতরণের মাধ্যমে রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

আঞ্চলিক অফিসে পাঠানো নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আওতাধীন জেলার মোট প্রতিষ্ঠান সংখ্যা, মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের হার, ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন, অভিভাবক সমাবেশ এবং রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে গৃহীত কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি একটি ছক আকারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শ্রেষ্ঠ বিভাগ ও কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করল ডিএমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শ্রেষ্ঠ বিভাগ ও কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করল ডিএমপি

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) মো. ফারুক হোসেন। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় যারা শ্রেষ্ঠ হয়েছেন তাদের নাম উপস্থাপন করেন।

সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে মিরপুর বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর মডেল থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আদাবর থানা এবং তৃতীয় স্থানে উত্তরা-পশ্চিম থানা।

অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল বাসার মোল্যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

শ্রেষ্ঠ এসআই ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিরপুর থানার এসআই তারেক রহমান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ডেমরা থানার এসআই কাকন মিয়া এবং তৃতীয় স্থানে আছেন কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই মো. ইমদাদুল হক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পল্টন থানার এএসআই দুর্জয় বড়ুয়া এবং তৃতীয় স্থানে আছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মোহাম্মদ মজলিশ মিয়া।

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ী চুরি প্রতিরোধ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মহাখালী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আঞ্জুম আল হাসিব এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এয়ারপোর্ট-ট্রাফিক জোনের মো. মারুফ রহমান ভূইয়া।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর সাস্ট শিক্ষার্থীর বিষপানে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ এম


প্রেমিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর সাস্ট শিক্ষার্থীর বিষপানে মৃত্যু

মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথনের সময় দ্বন্দ্বের কারণে সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন রাতুল (১৯) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের নইমুদ্দিন পল্টুর ছেলে এবং সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।

মঙ্গলবার বাদ আসর সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর তার বন্ধুরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যায় দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে। এই ছাত্রের মৃত্যুতে দর্শনা পৌর শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শাহরিয়ার বাঁধন রাতুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি অংকুর কেজি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি লাভ করেন। বৃত্তি পেয়ে কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে গোল্ডেন এ পাস করেন এবং দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। শিক্ষাবৃত্তিতে সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হন। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের এক ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

গত ৪ তারিখ রোববার আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে শাহরিয়া বাঁধন রাতুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার প্রেমিকার কথোপকথনের এক পর্যায়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রাতুল ঘাস মারা বিষ পান করেন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বন্ধুরা দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার তার পেট থেকে বিষ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শেষে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। দুদিন পর তার কিডনির সমস্যায় ডায়ালাইসিস করা হয়। একপর্যায়ে তাকে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যু তার বন্ধুরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। পরিবার পক্ষ থেকে ওই মেয়ের নামে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন অধীনস্থ জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহরিয়ার বাঁধনের মা মোছা. শাহিনা আক্তার তার ছেলের মৃত্যুতে কোনো অভিযোগ করেননি এবং তার ছেলেকে পোস্টমর্টেম না করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তার মায়ের আবেদন মঞ্জুর করে ময়নাতদন্ত না করে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টা, আটক এক তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ এম


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টা, আটক এক তরুণী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ হামলার চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীকে আটক করেছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনের কাছে স্থানীয় একটি পূজামণ্ডপ উদ্বোধন করতে যাচ্ছিলেন মমতা। এ সময় তন্নিষ্ঠা সাহা নামের এক তরুণী আত্মীয় (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগ্নি) পরিচয়ে মমতার নিরাপত্তাবলয়ের কাছে পৌঁছান।

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, ওই তরুণী মমতার শাড়ি টেনে ধরেন এবং তাকে ঘুসি মারার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়, নিরাপত্তাবলয়ে প্রবেশের চেষ্টায় ব্যর্থ হলে ওই তরুণী গালিগালাজ শুরু করেন এবং রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে ছুরি দেখতে পাওয়া যায়।

এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা ওই তরুণীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুরো ঘটনার কারণ জানতে কালীঘাট থানার পুলিশ ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে ওই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতারা। জেড-প্লাস নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই তরুণী মমতার এত কাছে পৌঁছালেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।

অভিযুক্ত তরুণীর মানসিক অবস্থা নিয়ে এখনও কোনো নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার অভিযোগ, ছুরি উদ্ধারের বিষয় এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্তে নেমেছে কলকাতার পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%