ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব নেতা মনসুর আব্বাসের নতুন কৌশল


ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব নেতা মনসুর আব্বাসের নতুন কৌশল

ইসরাইলের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন আরব রাজনৈতিক দল ‘রাম’-এর শীর্ষ নেতা মনসুর আব্বাস। তিনি ইসরাইলি সমাজের পিছিয়ে পড়া আরব নাগরিকদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের অধিকার আদায় করতে এমন এক রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন, যা দেশের ভেতরের ইহুদি ও আরব- দুই সম্প্রদায়ের কাছে ধারণার বাইরে ছিল।

পুরোনো নিয়ম ভেঙে মূলধারার রাজনীতিতে

ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইলের জাতীয় রাজনীতিতে আরব দলগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সরকার গঠন বা জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সবসময় এক ধরনের দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যেত। তবে মনসুর আব্বাস সেই পুরোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ট্যাবু ভেঙে সোজা জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে ইসরাইলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আরবদের সরাসরি উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন: রাশিয়া ও চীনের প্রধানমন্ত্রী সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকে মিলিত

মনসুর আব্বাসের মূল লক্ষ্য হলো আরব ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার রাজনৈতিক দেয়াল ভেঙে একটি কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। তিনি ইসরাইলের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হয়ে আরব অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ক্ষমতার সমীকরণে থেকে আরব জনগণের জন্য সরাসরি আর্থিক বাজেট ও নাগরিক সুবিধা আদায় করা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও রাজনীতির নতুন মেরুকরণ

মনসুর আব্বাসের এই সাহসী ও ভিন্নধর্মী পদক্ষেপের কারণে ইসরাইলের রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। একদিকে কট্টরপন্থী ডানপন্থীরা তার এই প্রভাব মেনে নিতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়ছে, অন্যদিকে মূলধারার অনেক দলই এখন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আব্বাসের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

তার এই বাস্তববাদী রাজনীতি কেবল ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনগুলোতেই বড় প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও এক আরব নেতার ইসরাইলি ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসার নতুন নজির তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১, নিখোঁজ ১

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধান বিচারপতিকে এসআরএফের চিঠি, আপিল বিভাগে সংবাদ সংগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত করতে আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


প্রধান বিচারপতিকে এসআরএফের চিঠি, আপিল বিভাগে সংবাদ সংগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত করতে আহ্বান

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি প্রদানের জন্য প্রধান বিচারপতিকে আবারও চিঠি প্রদান করেছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে এই অনুমতি কার্যকর হবে।

চিঠিটি সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এসআরএফ সভাপতি মো. দিদারুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ আদেশ, রায় এবং বিচারাঙ্গের বিভিন্ন বিষয়ে জনসাধারণকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানাতে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনে এসআরএফের সদস্যরা সবসময় সচেতন ও দায়িত্বশীল।

দীর্ঘ সময় ধরে আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ নেই। এর ফলে আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি প্রত্যক্ষ করে সংবাদ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পরিবেশনে নানা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর আগে এসআরএফ প্রধান বিচারপতির সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সাংবাদিকরা আদালতের কার্যক্রমে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চান না। বরং আদালতের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রেখে সংবাদ সংগ্রহ করাই তাদের প্রত্যাশা। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তির স্বার্থে আদালতের উন্মুক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরো সুদৃঢ় হবে।

এসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। এ সময় এসআরএফের কোষাধ্যক্ষ ইমন মাহমুন, দপ্তর সম্পাদক রাব্বি হোসেন, কার্য নির্বাহী সদস্য সৈয়দা সাবরিনা মজুমদার, এবং এসআরএফের সদস্য তুলনা আফরিন, নাজমুল হুদা, জুনাইদ আল হাবিব ও ইমদাদুল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের ওপর হামলা, দেশি অস্ত্রসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের ওপর হামলা, দেশি অস্ত্রসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর কল ও লিখিত অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন থানা পুলিশের সদস্যরা।

সরকারি কাজে বাধা প্রদান, নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করার ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ স্বামী-স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের মসজিদঘোনা এলাকার খালেকুজ্জামানের ছেলে জাফর আলম (৫৭) এবং তার স্ত্রী দিল নূর বেগম (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মসজিদঘোনা এলাকার রফিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক জানান যে, জমি ও পারিবারিক বিরোধের কারণে জাফর আলম, তার স্ত্রী দিলনূর বেগম, ছেলে আরিয়ানসহ কয়েকজন তাকে ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে আটকে রেখেছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হলে তার নির্দেশে পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভুক্তভোগী যুবক থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।

বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিবাদী জাফর আলম, দিলনূর বেগম ও আরিয়ান পুলিশকে দেখেই চরম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে তারা বাগ্বিতণ্ডা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে দলবদ্ধভাবে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা ও টানা-হেঁচড়া করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামিরা বাদীর লিখিত অভিযোগপত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং পুলিশের অফিশিয়াল ক্লিপবোর্ড ভেঙে ফেলেন। একপর্যায়ে দিলনূর বেগম ও তার ছেলে আরিয়ান রামদা উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে তেড়ে আসেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রাণহানি এড়াতে পুলিশ সদস্যরা কৌশলগতভাবে কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা থেকে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে হামলাকারীদের হেফাজতে থাকা ধারালো রামদা ও বঁটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে জাফর আলম ও তার স্ত্রী দিলনূর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সুযোগে অপর অভিযুক্ত আরিয়ান পালিয়ে যান।

হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশ সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা, জখম এবং অফিশিয়াল নথিপত্র বিনষ্টের অভিযোগে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ১ নভেম্বর থেকে ৬ রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট এক কম্পানি’ বাস পরিষেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


ঢাকায় ১ নভেম্বর থেকে ৬ রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট এক কম্পানি’ বাস পরিষেবা

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে সরকার ‘এক রুট, এক কম্পানি’ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজধানীর ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি নন-এসি রুট এবং একটি এসি রুটে এই কার্যক্রম চালু হবে।

রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত এক সভায় রুট, বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, দুই মাস পর আরও তিনটি সার্কুলার রুট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ের ছয়টি রুটের মধ্যে রয়েছে গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।

এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে যৌথভাবে বাস পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট এবং ডিভাইস পরিবহন; গাবতলী-ডেমরা রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন এবং রইছ পরিবহন দায়িত্ব পালন করবে।

দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক এবং ট্রান্সসিলভা সমন্বিতভাবে বাস চালাবে। ঘাটারচর-ডেমরা ও ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন এবং রজনীগন্ধা পরিবহন যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মিরপুর-১২-মাওয়া রুটে থাকবে স্বাধীন, বিহঙ্গ, বিকল্প এবং শিকড় পরিবহন।

ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, "শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।"

এদিকে বাসস্টপ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে নিতে ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

ইলিশের দাম বৃদ্ধি ও বাজারে চাহিদার সুযোগ নিয়ে আসল ইলিশের পরিবর্তে চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় অনেক ক্রেতা এসব মাছকে ইলিশ ভেবে কিনছেন। বিশেষ করে হোটেলে রান্না করা মাছ পরিবেশনের সময় আসল ইলিশ এবং অন্যান্য মাছের মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দনা ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ হলেও এটি আসল ইলিশ নয়। অন্যদিকে, সুরমা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মাছ। ক্রেতারা মাছের গঠন, রং ও গায়ের দাগ দেখে এদের মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করতে পারেন।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। এই মাছটি মূলত সাগরে বসবাস করে, তবে প্রজননের জন্য নদীতে আসে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশের বিচরণ রয়েছে। ২০১৭ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

চন্দনার বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa toli, যা উপকূলীয় এলাকা, মোহনা ও জোয়ার-ভাটার নদীতে পাওয়া যায়। সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে এটি ‘চন্দনা ইলিশ’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে মাছটিকে ‘ফুইট্টা ইলিশ’ বলা হয়। ইংরেজিতে এর নাম টোলি শ্যাড।

চন্দনার গায়ের রং রুপালি, যা হলদে আভা ধারণ করতে পারে। ফুলকার পেছনে অস্পষ্ট কালচে ছাপ দেখা যায়। ওপরের চোয়ালের মাঝখানে ছোট খাঁজ রয়েছে। সাধারণত এটি ইলিশের তুলনায় ছোট হয়। তবে শুধুমাত্র আকার দেখে চন্দনা ও ইলিশের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

চন্দনা নামটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। Sardinella melanura নামের আরেকটি সামুদ্রিক মাছকেও কোথাও কোথাও চন্দনা ইলিশ বলা হয়। মাছটি ‘ব্ল্যাকটিপ সার্ডিনেলা’ নামে পরিচিত। বাংলায় একে ‘কালটিপ তাকিয়া’ও বলা হয়। এর লেজের ডগায় কালো রং থাকে, ফলে স্থানীয় নামের ওপর নির্ভর করে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, সুরমা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Scomberomorus commerson। এটি ম্যাকেরেল পরিবারের মাছ, যার ইংরেজি নাম কিং ম্যাকেরেল। অঞ্চলভেদে মাছটি ‘ডোরা মাইট্টা’ বা ‘চম্পা’ নামেও পরিচিত।

সুরমার দেহ লম্বাটে এবং দুই পাশে চাপা। পিঠ নীলচে রুপালি এবং পেট সাদাটে। শরীরে সারি সারি কালচে খাড়া দাগ থাকে। এর চোয়ালে শক্ত দাঁত রয়েছে, যেগুলোর কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। এসব বৈশিষ্ট্য আসল ইলিশ থেকে সুরমাকে আলাদা করতে সহায়তা করে।

ইলিশের উচ্চমূল্যও এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চাঁদপুরের মাছঘাটে এ বছর প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগে অসাধু বিক্রেতারা অন্য মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সার্ডিন, চৌক্কা, চন্দনা, চকোরি ও টাকিয়াসহ বিভিন্ন মাছকে ইলিশ নামে বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে। আস্ত মাছ দেখে অভিজ্ঞ ক্রেতারা কিছুটা পার্থক্য বুঝতে পারলেও কাটা বা রান্না করা মাছের ক্ষেত্রে তা কঠিন।

এ ক্ষেত্রে জাটকা নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। জাটকা হলো ইলিশের কিশোর পর্যায়ের মাছ, আলাদা কোনো প্রজাতি নয়। অন্যদিকে, চন্দনা স্বতন্ত্র প্রজাতির মাছ। তাই ছোট মাছ দেখেই সেটিকে চন্দনা বা জাটকা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ব্যবহারের অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় নামের বিভ্রান্তি দূর করা। একই মাছ অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। আবার একই স্থানীয় নামে একাধিক প্রজাতির মাছও পরিচিত হতে পারে।

আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে

মাছ কেনার সময় সম্ভব হলে আস্ত মাছ বেছে নেওয়া ভালো। মাছের দেহের গঠন, রং ও গায়ের দাগ খেয়াল করতে হবে। চন্দনা সাধারণত ইলিশের চেয়ে ছোট হয় এবং সুরমার শরীরে স্পষ্ট খাড়া কালচে দাগ থাকে। তবে একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

হোটেলে ইলিশের অর্ডার দেওয়ার আগে মাছটির পরিচয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যেতে পারে। দাম অস্বাভাবিক কম হলে কিংবা বিক্রেতা মাছের পরিচয় স্পষ্ট করতে না চাইলে সতর্ক থাকা দরকার।

ইলিশ বাংলাদেশের নদী, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চন্দনা ও সুরমার নিজস্ব পরিচয় থাকলেও সেগুলোকে ইলিশ বলে বিক্রি করা ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই মাছের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%