মোঃ নাজির খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৯:২১ পি.এম
নারায়ণগঞ্জ, ১০ জুলাই ২০২৬: আজ শুক্রবার বিকাল ৪টায় ফতুল্লার কাশীপুরের ভোলাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে খেলাফত মজলিস কাশীপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বিশাল 'কর্মী সম্মেলন-২০২৬' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনের স্লোগান ছিল "মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত নিরাপদ কাশীপুর গড়ার প্রত্যয়।" খেলাফত মজলিস কাশীপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আসিফ ইকবালের সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক ও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ।
এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, ফতুল্লা থানা সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের ফতুল্লা থানা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ মাহমুদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুল আলম, ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজ, প্রমুখ।
বক্তাগণ কাশীপুরকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ এবং একটি আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান এবং সৎ ও আদর্শবান নেতা নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। সম্মেলনে সিরাজুল মামুন মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদকে আসন্ন কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এই সময় কাশীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি নিজামুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার কাওসার আজম।
শুক্রবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএআরএফের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা, যা মাদারীপুরের হর্টিকালচার সেন্টারে আয়োজন করা হয়। নতুন কমিটি নির্বাচন পরিচালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হাসান সোহেল। এই নির্বাচনী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন, ভোরের কাগজের হরলাল রায় সাগর ও কালবেলার ইউসুফ আরেফিন।
নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, সহ-সভাপতি হিসেবে আমাদের সময়ের চপল মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে এটিএন নিউজের ফেরদৌস রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জাগো নিউজের মো. নাজমুল হুসাইন, অর্থ সম্পাদক হিসেবে যায়যায়দিনের নুরে আলম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে প্রতিদিনের বাংলাদেশের ফারুক আহমাদ আরিফ, প্রশিক্ষণ ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে আজকের পত্রিকার সাইফুল মাসুম। কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সময়ের আলোর রফিকুল ইসলাম সবুজ, ইত্তেফাকের মুন্না রায়হান, স্টার নিউজের ফয়জুল সিদ্দিকী, সমকালের জাহিদুর রহমান এবং ডেসটিনির শাফিউল আল ইমরান।
এর আগে দুপুরে বিএআরএফের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সবুজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজমের সঞ্চালনায় ও অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আইনাল হোসেন ২০২৪-২৬ সেশনের কমিটি তাদের দ্বি-বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন পেশ করেন। সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রতিবেদনটি অনুমোদিত হয়।
সবশেষে কেক কেটে সংগঠনের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপজুড়ে দাবানলে গত এক দশকে শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী বছরের মধ্যে মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। সম্প্রতি স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের ফলে অন্তত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউরোপ হচ্ছে বিশ্বের দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া দশক থেকে এখানে বৈশ্বিক গড় হার তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী রেকর্ড করা তথ্যানুসারে, ২০২৫ সাল ছিল তৃতীয় উষ্ণতম বছর, যেখানে ইউরোপজুড়ে ঘটে বেশ কয়েকটি তীব্র তাপপ্রবাহ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, পেট্রোল, তেল ও কয়লার মতো জ্বালানি পোড়ানোর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপ এবং শুষ্কতার মাত্রা বাড়ছে, যা কিছু অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিকে আরও বৃদ্ধি করছে। গত এক দশকে ইউরোপজুড়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। ২০১৮ সালে গ্রিসে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যু বরন করেন। গ্রিসের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল ঘটেছিল ২০১৮ সালে, যখন এথেন্সের পূর্বের ‘মাটি’ শহরে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড বেড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ তাদের বাড়িঘর আও একদল আটকা পড়ে। ফলে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান; যারা আগুনের হাত থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, তারা মারাত্মক দুর্ঘটনা ভোগ করেন। ২০২৩ সালে গ্রিসে দাবানলের ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছেন; এর মধ্যে ১৮ জন অভিবাসী ছিলেন, যারা উত্তর-পূর্ব গ্রিসের বনাঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় আগুনে আটকা পড়েছিলেন। এটি ছিল ইউরোপের ইতিহাসে একক ঘটনায় ঘটা সবচেয়ে বড় দাবানল। গত সপ্তাহে, উত্তর গ্রিসে একটি দাবানলে ১২ বছর বয়সী একটি শিশু ও তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। গত বছর তুরস্কে দাবানলে ১০ জন মারা যান। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল এসকিশেহিরে ঘটে এমন দাবানল নেভানোর সময়ে ১০ জন দমকলকর্মী ও উদ্ধারকর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বন বিভাগের কর্মী এবং ‘আকুট’ নামক উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ছিলেন। দেশটিতে বনমন্ত্রী ইব্রাহিম ইউমাকলি জানিয়েছিলেন যে, বাতাসের দিক হঠাৎ পরিবর্তিত হওয়ায় আগুনের শিখা বনকর্মীদের চারপাশ ঘিরে নেয়। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মাত্র দুই দিন আগে মধুচন্দ্রিমা শেষ করে কাজে ফিরেছিলেন। এছাড়া ‘আকুট’-এর এক স্বেচ্ছাসেবক ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কাজে দুই মাস সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ২০১৭ সালে পর্তুগালে দাবানলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে লিসবন থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে পেদ্রোগাও গ্রান্দে এলাকায় পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই গাড়ির মাধ্যমে নিশ্চিত সড়ক ধরে পালানোর সময় ঘটেছিল। বছরের শেষে আরও কয়েকটি দাবানলে মোট মৃতের সংখ্যা ১২০ জনেরও বেশি পৌঁছে, যা এইরকম ঘটনার জন্য সর্বাধিক প্রাণহানির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়। মৃত্যুর মধ্যে এক মাস বয়সী একটি শিশু ও তার বাবাও ছিলেন। এরপর পর্তুগিজ সরকার দাবানল মোকাবেলা এবং নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সাইপ্রাসে জলবায়ু পরিবর্তনকে দাবানলের জন্য দায়ী করা হয়েছে। দেশটিতে গত পাঁচ বছরে অন্তত ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২১ সালের জুলাই মাসে এক পাহাড়ি গ্রামের পাশের আগুন থেকে চারজন দীর্ঘ শ্রমিকের দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দলে সেই দাবানলকে ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক’ ঘোষণা করা হয়। গত জুলাই মাসে উদ্ধারকারীরা পাহাড়ি রাস্তার পাশে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া একটি গাড়িতে এক বয়স্ক দম্পতির মরদেহ নির্ণয় করেন। বনভূমি ও পাহাড়ঘেরা প্রায় ৫০ বর্গমাইল এলাকা দাবানলে দ্রুত পুড়ে যায়। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডস মন্তব্য করেন, সাইপ্রাসে এরকম ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। প্রবল বাতাস, অত্যধিক তাপমাত্রা এবং টানা তিন বছর শীতকালে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। গত বছরের আগস্টে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর গবেষণাটিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তীব্র দাবদাহ ও বৃষ্টিপাতের অভাব তুরস্ক, গ্রিস এবং সাইপ্রাসের মারাত্মক দাবানলগুলোকে আরও স্থায়ী ও বিধ্বংসী করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনিদের দুঃখের যেন শেষ নেই। কান্নাই তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই দুঃখের মধ্যেও তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছিলেন একজন মানুষ। যখন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পুরো বিশ্ব মাতোয়ারা, তখন গাজার উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের জন্যও বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। হাজারো ফিলিস্তিনির মন জয় করা সেই ব্যক্তিকেও হত্যা করেছে ইসরাইল।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপের চিত্র। খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসার অভাব রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে কোনোরকমে বেঁচে থাকার লড়াই করছে ২০ লক্ষাধিক মানুষ। এসব অসহায় মানুষের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন মিশরীয় ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি।
গাজায় মিশরের প্রধান ত্রাণ সংস্থার এই সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে অনেকের কাছে তিনি পরিচিত মানবিক সহায়তাকর্মীদের একজন। গত মাসে ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হলে তিনি গাজাবাসীর জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।
ইসরাইলি হামলার মধ্যেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার সুযোগ হাজারো ফুটবলপ্রেমীকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু গাজা অন্তপ্রাণ সেই মানুষটাকেই হত্যা করল ইসরাইল।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার প্রাক্কালে গাজার সাবরা এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে ৫৭ বছর বয়সি মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১০ ও ৮ বছর বয়সি দুই ভাইবোনও ছিল, যারা ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র (পিসিএইচআর) জানিয়েছে, হামলায় নিহত চতুর্থ ব্যক্তি ছিলেন ৩০ বছর বয়সি আহমেদ জেহাদ রজব দোগমুশ। তিনি ট্যাক্সির ভেতরে ছিলেন। তবে তিনি চালক ছিলেন নাকি যাত্রী, তা স্পষ্ট নয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা একজন হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং নিরীহ ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত।
ইসরাইলি বিমান হামলায় ওয়াহিদির মৃত্যুতে গাজা উপত্যকাজুড়ে মুহূর্তে গভীর শোকের ঢেউ বয়ে যায়। তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তার কাজের ছবি ও ভিডিওতে ভরে ওঠে। সেই সঙ্গে আসতে থাকে শত শত শোকবার্তা। বিশেষ করে যারা ত্রাণ বিতরণের সময় বা বাস্তুচ্যুত মানুষদের শিবিরে থাকার সময় তার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের কাছ থেকে।
গাজাবাসীর অনেকেই বলেন, তিনি গোটা উপত্যকার আশ্রয়শিবিরগুলোতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি অফিসে বসে কাজ পরিচালনার বদলে মাঠপর্যায়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন।
তার সাথে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থাকতেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন এবং তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করতেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পরিবারগুলোকে, বিশেষত শিশুদের, যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে কিছুটা সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া।
মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি মূলত গাজায় মিসরীয় রিলিফ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক ছিলেন। যুদ্ধের সময় ধ্বংসস্তূপ সরানো, সড়ক চালু করা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়শিবির নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মিসরীয় রিলিফ কমিটি জানিয়েছে, আল-ওয়াহিদি সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মানুষের বিরোধ মীমাংসা করতেন, অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করতেন এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় দেখানোর আয়োজন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মুখে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।
গত বুধবার (৮ জুলাই) গাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গাজার হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন। দাফনের আগে আল-ওয়াহিদির মরদেহ ফিলিস্তিন ও মিসরের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হয়। দিনভর প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনরা তার বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
আল-ওয়াহিদির ছেলে ফাওয়াজ রয়টার্সকে ফোনে বলেন, ‘আমার বাবা বাস্তুচ্যুত মানুষ, যুদ্ধের শিকার পরিবার এবং গাজার কষ্টে থাকা মানুষের জন্য অন্তত কিছুটা আনন্দ এনে দিতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি তাদের তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের পাশে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন।’
ফাওয়াজ আরও বলেন, ত্রাণ সংস্থায় কাজ করা খুবই কঠিন ছিল। তবু তার বাবা সবসময় বলতেন, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।
মিশরের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আল-ওয়াহিদি ত্রাণ সংস্থাটির লজিস্টিক কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। এই সংস্থাটি গাজায় মিশর সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সূত্রগুলো আরও জানায়, মিশরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর বিষয়টি ইসরাইলের কাছে উত্থাপন করেছেন। তিনি গাজায় চলমান বিমান হামলা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মিসরের ম্যাচগুলো বিপুল দর্শক টেনেছে, যা এই দলটির প্রতি গাজার বহু ফিলিস্তিনির দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রতিফলন—যারা দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবেশী দেশ মিসরের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, আবেগগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছেন।
ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর মাঝে বড় পর্দার সামনে জড়ো হওয়া শিশু ও পরিবারগুলোর ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই সংঘাতের মধ্যেও আনন্দের বিরল দৃশ্য তুলে ধরে। মিশর বনাম আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচ প্রদর্শনীর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আল-ওয়াহিদি নিহত হন, যা অনেক ফিলিস্তিনির মনে ক্ষতির বেদনা আরও গভীর করে তোলে।
আল-ওয়াহিদির কাজের নথিপত্র রাখতেন ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ হুমাইদ। সহকর্মীর মৃত্যুতে তিনি লিখেছেন: ‘তিনি শুধু একটি মানবিক কমিটির ত্রাণকর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাস্তুচ্যুত ও সর্বস্বহারা মানুষদের জন্য প্রতিদিন খুলে যাওয়া আশার এক দুয়ার।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যারা তাকে চিনতেন, তারা সবাই তার দয়া, সততা ও উদারতার কথা বলেন।’ ‘গাজায় যারা নিজেদের জীবন অন্যকে সাহায্য করার জন্য উৎসর্গ করেছেন, তারাও রেহাই পান না। কিন্তু ভালো কাজ কখনো মরে না। তা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।’
আল-ওয়াহিদির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় মানবিক সহায়তাকর্মীরা এখনো ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে চলেছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫৯৩ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন—যার মধ্যে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ১০ মাস আগে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও আটজন নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফুটবল শুধুমাত্র মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব অনেক ভক্তের ব্যক্তিগত আচরণেও প্রতিফলিত হয়। এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা স্কাইলার মে।
তিনি জানিয়েছেন, চার মিলিয়নের বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা স্কাইলার জানান, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে পুরুষ ফুটবল সমর্থকদের কাছে তার কাছে ব্যক্তিগত কনটেন্টের অনুরোধ ও বার্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে, তার মাসিক আয়েও প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্কাইলারের ভাষ্য অনুযায়ী, সমর্থকদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের জার্সি পরে ভিডিও তৈরি করা, প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে মজার কনটেন্ট এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের ঘিরে বিশেষ ভিডিও বানানোর অনুরোধ করেন। কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন, ম্যাচের আগে তার তৈরি ব্যক্তিগত ভিডিও দেখলে তাদের প্রিয় দলের সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও জানান, অনেক সমর্থক তাকে নির্দিষ্ট দলের জার্সি, মোজা বা শর্টস পরে দলের স্লোগান বলতে কিংবা ম্যাচের প্রস্তুতির অভিনয় করতে অনুরোধ করেন। এমনকি অনেকে বলেন, কোন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করতে হবে বা কাকে এড়িয়ে যেতে হবে—এসব বিষয়েও তারা বিস্তারিত নির্দেশনা দেন।
স্কাইলারের মতে, ফুটবল অনেক মানুষের পরিচয় এবং আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকাপের সময় সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং ব্যক্তিগত আচরণেও তার প্রভাব প্রকাশ পায়।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের কাছ থেকেও নিয়মিত অনুরোধ পান। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইংলিশ সমর্থকদের মধ্যে কুসংস্কারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। কেউ একই মোজা বা অন্তর্বাস পরে ম্যাচ দেখাকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন, আবার কেউ বিশেষ খাবার খাওয়া অথবা দাড়ি না কাটার মতো বিশ্বাসও লালন করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের তিনি তুলনামূলক ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, তারা প্রতিপক্ষকে নিয়ে কম মন্তব্য করে নিজেদের দলকে উৎসাহিত করতে বেশি আগ্রহী।
স্কাইলারের ধারণা, এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপের আবহে থাকার কারণে অনেক সমর্থকের আবেগ, উদযাপন এবং ব্যক্তিগত অনুভূতিতে এর প্রভাব পড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ