মোঃ সজিব হোসেন স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা
০৪:০৪ পি.এম
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের খোকড়া হাকিমিয়া আফসারিয়া খানকা শরীফের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুশ (র্যালি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কয়েক শত মোটরসাইকেলসহ হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ নবীপ্রেমী মুসল্লি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম (পীর কেবলা সাহেব)-এর নেতৃত্বে র্যালিটি খানকা শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মাধপুর, দাপুনিয়া, জতাদম, সিটগোডাউন, আটমাইল হয়ে দাশুড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় খানকা শরীফে এসে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে নবীপ্রেমীদের কণ্ঠে দরুদ শরীফ ও ধর্মীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।
র্যালি শেষে খানকা শরীফ প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পীর কেবলা সাহেব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে মিলাদ মাহফিল ও দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এই জশনে জুলুশে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের A+ সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে পৌর অডিটোরিয়াম হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। এছাড়াও বক্তব্য দেন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, ডাঃ মোঃ আমিনুর রহমান, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মোশাররফ হোসেন।।
বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম শক্তি। শুধু ভালো ফলাফল নয়, সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ইনসাফভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটিই শেষ লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
এসময় বাংলাদেশ ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার অনান্য নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় রান্না করা বাসি তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও ৩ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মরিজতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে মরিজতলা গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৪০), মেয়ে সাথী খাতুন (২৩) ও জামাই সুমন মিয়াসহ (২৫) পরিবারের সদস্যরা কবুতরের মাংস ও পাঙাশ মাছের রান্না করা তরকারি দিয়ে ভাত খান। খাওয়ার পর অবশিষ্ট তরকারি একটি পাতিলে রেখে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে তারা আবার ওই তরকারি দিয়ে ভাত খান।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পরিবারের চার সদস্যের পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাদের ডায়রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে অসুস্থ চারজনকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শাহিনুর বেগমের মৃত্যু হয়।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির বলেন, খাবারের বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে চারজনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, খাবারের বিষক্রিয়ায় একজনের মৃত্যুর বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ কারণে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
রুহুল কবির রিজভী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত হয় এবং তদন্তে যদি সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে সমতার পরিচয় দিয়েছে এবং অঙ্গীকার রক্ষার পরিচয় দিয়েছে।
রিজভী বলেন, "নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার অত্যন্ত সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকার ব্যাপকভাবে কাজ করছে।"
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়নে বিরোধী দলের আনা ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, "এটি বিরোধী দলের একটি ঢালাও মন্তব্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের কাজের ডাটা প্রসেস করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিচ্ছে। সরকার বিজ্ঞানসম্মতভাবে ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, "কাউন্সিলের বিষয়টি নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে। তবে দিন, তারিখ ও মাস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ লালমনিরহাটের চার উপজেলার সঙ্গে বিভাগীয় নগরী রংপুরের যোগাযোগ সহজ করতে তিস্তা নদীর ওপর ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘দ্বিতীয় তিস্তা সেতু’। সেতুটির সঙ্গে রংপুর নগরীকে যুক্ত করতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কও। কিন্তু সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরও এর সুফল পাচ্ছে না পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলো।
সেতুর ওপর দিয়ে বাস ও ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী যানকে লালমনিরহাট জেলা সদর হয়ে রংপুরে যেতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে পরিবহন খরচ ও সময়, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ ভোক্তার ওপরও।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার সঙ্গে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরকে যুক্ত করা ৮৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সঙ্গে রংপুরের যোগাযোগ সহজ করাই ছিল এই সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, রংপুর নগরীর বুড়িরহাট থেকে গঙ্গাচড়ার শংকরদহের সিরাজুল বাজার পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। কিন্তু ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো এখন প্রত্যাশিত কাজে আসছে না।
লালমনিরহাট এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সেতুটির উদ্বোধন করা হলেও নাজুক সড়কের কারণে প্রথম চার বছর ভারী যান চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। পরে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি সব ধরনের যানবাহনের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।
কিন্তু বছর না ঘুরতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সদস্যরা ভারী যান চলাচল বন্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
আন্দোলনের মুখে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের আদেশে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সেতুর উত্তর প্রান্তে প্রতিবন্ধক খুঁটি বসিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় বলা হয়েছিল, আঞ্চলিক মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণ করে ভারী যান চলাচলের উপযোগী না করা পর্যন্ত প্রতিবন্ধক বহাল থাকবে। তা না হলে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপে সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে ভারী যান চলাচল বন্ধের প্রায় দেড় বছর পার হলেও সড়কটি পুনরায় চালুর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সড়ক নির্মাণের পরও কেন বন্ধ ভারী যান চলাচল
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুর কার্যালয় জানায়, প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বুড়িরহাট থেকে শংকরদহের সিরাজুল বাজার পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হয়।
দরপত্র অনুযায়ী, কার্পেটিং করা পাকা সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট। এর দুই পাশে ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুট ইট বিছানো এবং আরও ৩ ফুট করে দুই পাশে মোট ৬ ফুট মাটি বিছানোসহ সড়কটি প্রশস্ত করা হয়।
নির্মাণের পর ভারত থেকে আমদানি করা পাথরসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ভারী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাস চলাচলও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে সড়কের দুই পাশের ইট ও মাটি ধসে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর আবারও ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির প্রভাব ও সিন্ডিকেটের কারণেও সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, সড়কটি ভারী যান চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় তারা এর বিরোধিতা করছেন।
অতিরিক্ত পথে বাড়ছে পরিবহন খরচ
সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর এলাকায় সংযোগ সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে লোহার পাইপ দিয়ে প্রতিবন্ধক তৈরি করা হয়েছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে বাস বা ট্রাক চলাচল করতে পারছে না।
পিকআপ, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস কোনোরকমে চলাচল করলেও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসগুলোকে কাকিনা বাজার হয়ে লালমনিরহাট জেলা সদর ঘুরে রংপুরের কাউনিয়া তিস্তা সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
আমদানিকারক ব্যবসায়ী ও ট্রাক-ট্যাংক লরি শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, বুড়িমারী থেকে রংপুরের দূরত্ব মহিপুরের দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ব্যবহার করলে প্রায় ৯০ কিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে লালমনিরহাট শহর হয়ে রংপুরে যেতে পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রায় ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট হয়ে রংপুরে আসতে একটি ট্রাকের ভাড়া পড়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা। অথচ দ্বিতীয় তিস্তা সেতু দিয়ে এলে ভাড়া পড়ত ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত পথের কারণে ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় হচ্ছে।
ট্রাকচালক সাকিব বলেন, সড়কটি বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। সবার দিক বিবেচনা করে সড়কটি খুলে দেওয়া উচিত।
রংপুর নগরীর চেকপোস্ট এলাকার ব্যবসায়ী রাজ মাহমুদ বলেন, শতকোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটি ব্যবসায়ীদের কোনো কাজে আসছে না। পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। দ্রুত ভারী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া দরকার।
সেতুটি কি শুধু ভ্যান, অটো আর টেম্পুর জন্য
রংপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, তারা আশা করেছিলেন মহিপুর সেতু হলে শ্রমিকদের কষ্ট কমবে। কিন্তু সেতু হওয়ার পরও তারা এর সুবিধা পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ‘সেতুটি কি শুধু পথচারী, ভ্যান, অটো আর টেম্পুর জন্য করা হয়েছে? ভারী যানবাহন কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই আমাদের স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। জনস্বার্থ ও শ্রমিক-মালিকদের সুবিধার্থে এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিত।’
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, হাতীবান্ধা-রংপুর রুটে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন দরিদ্র মানুষ থ্রি-হুইলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। হাইওয়েতে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা বিকল্প এই রুট ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, মাঝেমধ্যেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা পথটি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাদের সমস্যা তৈরি করেন। এর আগেও সড়কটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন বাস-ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক ভেঙে যায় এবং ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক প্রশস্ত ও মজবুত করা হলে বাস-ট্রাক চলায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
এই পরিবহন শ্রমিক নেতার দাবি, বর্তমান অবস্থায় ভারী যান চলাচল শুরু হলে পাঁচ থানার হাজার হাজার রোগী যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। এসব বিষয় বিবেচনা করেই ভারী যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি লালমনিরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাওছার আলম বলেন, আন্দোলনের পর বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেতু বা সড়কের মূল কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই।
ফলে, একদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়ক পড়ে রয়েছে ভারী যান চলাচলের বাইরে, অন্যদিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী যানকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরে রংপুরে যেতে হচ্ছে। এতে যে উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হচ্ছে—সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
সূত্র: ইউএনবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ