বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:২৭ পি.এম
মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি ধারের টাকার মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন মো: বাবুল বয়াতি নামের এক ব্যক্তি। একই সাথে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালকিনি থানার এসআই হানিফ সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি করিমগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মো: বাবুল বয়াতি।
লিখিত বক্তব্যে বাবুল বয়াতি জানান, গত ০৩/০৩/২০২৬ ইং তারিখে মো: আলাউদ্দিন বেপারী পিতা: মৃত আবুল কাশেম বেপারী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবুল বয়াতির বাবা মো: ছরোয়ার বয়াতির বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ধার নেওয়ার অভিযোগ আনা হয় এবং বাবুল বয়াতিকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
বাবুল বয়াতি দাবি করেন, এই টাকা লেনদেনের সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি বাদী আলাউদ্দিন বেপারী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, বাবুলের বাবাকে খুঁজে না পাওয়ায় কৌশলে বাবুল বয়াতির নাম মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ভিডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত আছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হানিফ সরকারকে সেই ভিডিও দেখানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলার তদন্ত চলাকালীন এসআই হানিফ সরকার বাবুল বয়াতিকে তার দোকানে কথা না বলে, বারবার একান্তে বা পার্সোনালি দেখা করার জন্য চাপ দেন। তদন্ত কর্মকর্তার কথামতো একান্তে দেখা না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পাঁচজন সাক্ষীর ভুয়া জবানবন্দি লিখে আদালতে মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
বাবুল বয়াতি বলেন, তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখিত পাঁচজন সাক্ষীর মধ্যে দুইজন সাক্ষী মো: কামাল বেপারী ও আব্দুর রহিম সরদার আমার কাছে সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, তারা আদালতে আমার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য দেননি। তারা জানেন যে আমি এই লেনদেনের সাথে জড়িত নই। সাক্ষীদের এই স্বীকারোক্তির অডিও রেকর্ডও আমার কাছে আছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এই মিথ্যা মামলা ও পক্ষপাতিত্ব তদন্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সাথে মামলাটি পুনরায় সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে এই মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী বাবুল বয়াতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রায়গড় জেলায় ভারি বৃষ্টির ফলস্বরূপ একটি এলপিজি বোতলজাতকরণ কেন্দ্রে থেকে প্রায় ৩ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, টানা বৃষ্টির ফলে এইচপিসিএলের পাতালগঙ্গা এলপিজি বোতলিং প্লান্টে সুরক্ষাপ্রাচীর ধসে পড়েছে। এর ফলে বন্যার পানি সরাসরি প্লান্টে প্রবাহিত হয় এবং প্রবল স্রোতে হাজার হাজার গ্যাস সিলিন্ডার ভেসে যায়। ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলোকে পাতালগঙ্গা নদী এবং খারপাড়া খাঁড়িতে ভাসতে দেখা গেছে।
ঘটনার সময়, এক সেতু থেকে অনেক মানুষ ভাসমান সিলিন্ডারের ভিডিও ধারণ করেছেন। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা বিস্ফোরণের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডারগুলোতে কিছুতে এখনও গ্যাস থাকতে পারে বলে প্রশাসন সতর্ক করেছে। রায়গড়ের জেলা প্রশাসক কিশান জাভলে বলেছেন, পাতালগঙ্গা নদী বা আশপাশের এলাকায় কেউ যদি এসব ভাসমান সিলিন্ডার খুঁজে পান, তাহলে সেগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা কম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন জনগণকে এসব সিলিন্ডার বাড়িতে না রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসন বা কোম্পানির কাছে সেগুলো জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নদীতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলোতে গ্যাস আছে কি না বা সেগুলো নিরাপদ অবস্থায় আছে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কৌতূহলবশত সেগুলো তুলে নেওয়া, খোলা বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।’
গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রায়গড় একটি। সেখানে অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা এবং কর্মসংস্থান-উপযোগী সক্ষমতা উন্নত করার জন্য স্বল্পমেয়াদি ‘সফট স্কিল’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারারদের প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আগামী মাস থেকে ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ আরম্ভ হতে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়নের বিষয়ে প্রকল্প অফিসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ প্রশিক্ষণে সফট স্কিল, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা সহ জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার পূর্বে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি (স্কিল গ্যাপ) এবং প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণের উদ্দেশ্যে একটি মূল্যায়ন বা সার্ভে পরিচালনা করা হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘এই কর্মসূচির রূপরেখা আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দক্ষতা এবং সুশাসন উন্নয়ন করতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য দুই দিনব্যাপী ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ আগামী মাসে শুরু হতে পারে। এই প্রোগ্রামে কৌশলগত নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, এই কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশের অভিজ্ঞ সাবেক উপাচার্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন আধুনিক দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া সভায় জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি সাত দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে, যা চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং পরিবেশ মেলা, পাশাপাশি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই আমরা সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলতে পারব।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিবেশ মেলা বা বৃক্ষমেলার আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। এই আয়োজন কেবল একটি বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি একটি কথাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই- দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।’
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর এই অনুষ্ঠান হয়। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদানের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বনায়ন অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন তিনি।
সবাইকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ বা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যতটা গ্রিন (সবুজ) দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না। এ জন্য আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে। পরিবারে নতুন সন্তান জন্ম নিলে, সেটা আমাদের নিজেদের হোক বা আত্মীয়স্বজনের, আমরা যদি সেই সন্তানকে স্মরণ করে একটি গাছ রোপণ করি, তাহলে ভালো হবে।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি ও স্মরণ রাখি, তাহলে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠবে। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন সফল হবে।’
সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার গঠনের পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে, স্কুলগুলোতে একটি কর্মসূচির আওতায় একসঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে অবশ্যই আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে (ইশতেহারে) অনুযায়ী, আমরা পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছি। তবে ইচ্ছেমতো গাছ লাগালে এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কেমন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো উচিত- এ বিষয়ে আমাদের কমবেশি ধারণা থাকতে হবে এবং এটিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছ লাগাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। একই সাথে নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ- যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো খুবই দরকার।’
তিনি গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ু- পরিবেশের সবকিছু যেন স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে, বলে মন্তব্য করে, ‘বনায়নের মাধ্যমে এমন একটি ইকোসিস্টেম বজায় রাখার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমান সরকারের কাজের লক্ষ্য এই পুরো পরিবেশটাকে ঠিকঠাক রাখা।’
তিনি বলেন, ‘শুধু গাছ লাগানো বা প্লাস্টিক সরানোই যথেষ্ট নয়। আরও অনেক ইন্টিগ্রেটেড (সমন্বিত) বিষয় আছে, যেগুলোর দিকে আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপণ করা গাছটি নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাও খুব বেশি জরুরি।’
ইকোসিস্টেম রক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে স্থানীয় ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকা গাছ, যেগুলোকে আমরা ‘মাদার ট্রি’ বলি, সেগুলো যেন রক্ষা পায়, কেটে ফেলা না হয়, এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এখানে বন বিভাগের বড় কর্মকর্তারা আছেন, আমি আশা করব তারা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।’
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও যতটা সম্ভব কঠোর অবস্থান নিতে আমরা চেষ্টা করছি। বহুদিনের অভ্যাসের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ, এটি মানুষকে বুঝিয়ে করাতে হবে। তাই আমি বলেছিলাম, এই বিষয়টি সমাধান করতে প্রত্যেক মানুষকে যার যতটুকু সম্ভব, যত পরিবেশে সম্ভব, সেভাবেই পশুপাখি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
দেশের নদী বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি নদীগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা- কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক- এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএস-ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর ও খালের দু’পাশে সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততা আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সর্বোপরি জনজীবনকে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা কোনো খাত নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের লক্ষ্য একটা সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখননের যে কর্মসূচি শুরু করেছে, তা কৃষকদের বছরজুড়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশ উন্নয়ন কেবল বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না- এসব সহায়ক পদক্ষেপ (সাপ্লিমেন্ট) মাত্র।’
তিনি বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশের সব নগর, বন্দর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের অসম্ভব সহযোগিতা আমার প্রয়োজন, সরকারের প্রয়োজন।’
যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সরকার কাজ শুরু করেছে বা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ বা ‘থ্রি আর’ নীতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হলে তা কেবল নগর প্রশাসন বা পুলিশের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সচেতনতার মাধ্যমেই এটি করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। আমি সবার কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাই, অনুগ্রহ করে যেখানে-সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। আসুন আমরা চেষ্টা করি পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মধ্যে সুযোগ পেলেই যেন বিষয়টি তুলে ধরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি আমাদের একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী ও জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়সহ নানা কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এসব কারণে বন্যপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। ওদের যেকোনো উপায়ে বাঁচাতে হবে।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম প্রমুখ。
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামী নিরাপত্তা’ এ প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।
র্যালির শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ.এস.এম কাসেম।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য দায়ী উন্নত বিশ্ব। এর ফলে আমরা ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনায় ভুগছি, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে দাবানলের সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রের লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। আজকের পরিবেশ দিবসের এই বার্তা যেন সকলে কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেন, প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনের কারণে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হবে। সরকার পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি বৃক্ষ রোপণের এবং খাল খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমীন হাওলাদার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর শাকুর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান ও পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমান।
সভা পরিচালনা করেন জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা হেমায়েত মাহমুদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আজিজ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ