মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক যাত্রা নিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মুশফিকুল ফজল আনসারী আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের মঞ্চে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। অধিবেশনের সাইডলাইনে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপিসহ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিরা নিউইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এবার তারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, ব্যক্তিগত আশা-প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজার হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন ওই গ্রামের মো. মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও অব্যাহত কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা এবং আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওআইসির রোহিঙ্গাবিষয়ক কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে সীমিত সম্পদের মধ্যে থেকেও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। ফলে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট এখন শুধুমাত্র মানবিক সমস্যা নয়, বরং এর প্রভাব আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ছে।
বাংলাদেশের বক্তব্যে সতর্ক করে বলা হয়, অনিয়মিত সমুদ্রপথে যাতায়াত, মানব পাচার, মাদক পাচারসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে। সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, এসব ঝুঁকিও তত বাড়বে। আজকের নিষ্ক্রিয়তা আগামী দিনের হুমকিকে আরও তীব্র করতে পারে।
বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ জন্য মিয়ানমারে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
ওআইসির ২০২৬-২০৩৫ সালের ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। তবে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বোঝা ও দায়িত্ব ভাগাভাগি আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগণের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ২০২৫ সালের তুলনায় এবারের আবেদন ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এর অর্থ প্রয়োজন কমে যাওয়া নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার বাস্তবে কতটা অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব—তার প্রতিফলন।
এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকটে জরুরি, পূর্বানুমেয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা দিতে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রায় এক দশক ধরে এই সংকটের ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তার আওতায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ একা এই বোঝা বহন করতে পারবে না: বক্তব্যে এ বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মামলায় ওআইসি সদস্য দেশগুলোর কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার প্রশংসা করে বাংলাদেশ।
বক্তব্যে জানানো হয়, বাংলাদেশ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসি তহবিলে প্রায় ১৩ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তায় ব্যবহারের কথা। একই সঙ্গে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রত্যাশা জানানো হয়।
বাংলাদেশের বক্তব্যে বলা হয়, জবাবদিহি শুধু অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয় নয়; ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, তা প্রতিরোধের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির ব্যবস্থাগুলোতে ওআইসির সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তিনটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—জাতিসংঘ ও আসিয়ানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা, ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের জন্য জরুরি ও পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহির প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা।
শেষে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের পরীক্ষা নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই সংকটকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা যাবে না। মানবিক ক্লান্তি যেন রাজনৈতিক উদাসীনতায় পরিণত না হয়।
রোহিঙ্গাদের শুধু সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ নয়, তাদের নিজ ভূমিতে একটি ভবিষ্যৎ প্রয়োজন। বক্তব্যে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ওআইসিকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেরওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার, নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যায়, তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট তাকে বহন করে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীরা। ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক আসার পথে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তিনি দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি করেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে, মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৮টায়, হোটেলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত একেএম ওয়াহিদুজ্জামান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক সফরকালে গ্র্যান্ড হায়াত’ হোটেলে অবস্থান করবেন।
মঙ্গলবার শুরু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি: নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর, ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।
সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে স্বাগত প্রাতরাশে তিনি যোগ দেবেন। এরপর, অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন।
দিনটিতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমের সঙ্গে তার বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
এছাড়া, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। সন্ধ্যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংবর্ধনায় অংশ নেবেন তিনি।
বুধবার রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যু: ২৩ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন, রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে, রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। একই দিন ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ মঞ্চে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।
সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক সময় বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ বিতর্কের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাঁর জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে।
ভাষণে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার কথা রয়েছে।
একই দিনে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারিবিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তার।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, সফরকালে পাকিস্তান, কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড ও হাইতিসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে, ওয়াল স্ট্রিট এবং মেটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
বর্তমান সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ