বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল সংকটের কার্যকর বিকল্প সমাধান হিসেবে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার একটি বড় পরিসরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বুধবার দুপুরে খুলনায় বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের প্রাঙ্গণে স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এই তথ্য জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানিয়েছেন, টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে অন্তত দশ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কাটিয়ে প্রাকৃতিক শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত বাসাবাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতর ও কলকারখানার অব্যবহৃত উন্মুক্ত স্থানগুলিতে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় প্রথমবারের মতো নতুন ডাকবাংলো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের মেইনে রোডে অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে এ ডাকবাংলোর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম ওবায়দুল হক নাসির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, জেলা পরিষদের পুরাতন এ ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা এ ডাকবাংলোটি নতুন করে তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর ধারাবাহিকতায় আজ ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন করা হলো। আগামী এক বছরে এ ডাকবাংলোর কাজ শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের আওতাধীন এ ডাকবাংলো নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ কাজে আগত অতিথিদের জন্যও এটি সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা রেড ক্রিসেন্ট এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক শাহীনসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনার তালতলীর বগীরদোন খালের ওপর নির্মিত লোহার সেতুটি আকস্মিকভাবে ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এর ফলে তালুকদারপাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ফলে চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
এদিকে, সেতু ভেঙে পড়ার কারণে তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মহাবিপাকে পড়েছে। তারা এখন ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় পারাপার হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন আমতলী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী গ্রামের সংযোগ স্থাপনের জন্য বগীরদোন খালের ওপর ৬০ ফিট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফিট প্রস্থের একটি লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সংস্কারের অভাবে সেতুটি আকস্মিকভাবে ভেঙে খালে পড়ে যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার ফলে মৌরভী, পাওয়াপাড়া, তালুকদারপাড়া, বড়াইতলীসহ চার গ্রামের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি, জাহিদ, রেহেনা আক্তার রানু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সংস্কার না করায় গত ২ সেপ্টেম্বর সেতুটি ভেঙে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ছোট ডিঙি নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছি।"
মৌরুভী পাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক অভিভাবক জানান, "বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে এখন ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত আমরা এখানে একটা সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।"
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, "সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ছোট ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার যেমন কমেছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।"
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, "ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব মন্তব্য করেছেন, "শিক্ষা মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মূল উপাদান।" এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ কোনো ব্যয় বা অপচয় নয়, বরং এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতের ভিত্তি।
বুধবার রাজধানীর গোড়ান-খিলগাঁও এলাকার শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন রুবেল সভাপতিত্ব করেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, "আজ তোমাদের যে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, তা শুধু একটি পুরস্কার নয়।" তিনি বলেন, এটি তোমাদের পরিশ্রম, মেধা ও প্রজ্ঞার স্বীকৃতি, যা তোমাদের ভবিষ্যতের প্রস্তুতি।
তিনি আরও বলেন, "মেধাবী হলেই চলবে না, শুধু ভালো ফলাফল করাটাই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয় কিন্তু সততা, মানবিকতা, নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। তাই ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "জীবনে সফল হতে হলে প্রথমেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।" এরপর সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না।
বর্তমান সরকারের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাজেটে মোট জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনগোষ্ঠী বিনির্মাণে দেশে ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব বিতরণ এবং ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুলছাত্রীর মধ্যে পিঙ্ক কালারের সাইকেল বিতরণ বিবেচনাধীন রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষকদের বিষয়ে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। জাতির বিবেক আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সমাজকে সম্মানিত এবং তাদের অবদানকে স্মরণীয় করা। তিনি জানান, তাদের স্বীকৃতি দিতে এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে সম্মাননা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে চেঙ্গী স্কয়ার থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহীদ জিয়া ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর পৌর টাউন হল মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি কুহেলী দেওয়ানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা। প্রধান বক্তা হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য প্রদান করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিঙ্কু, জেলা পরিষদ সদস্য ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, মহিলা দলনেত্রী মরিয়ম আক্তার, আকলিমা বেগম এবং জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য তাসলিমা সিরাজ সীমা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, "দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মহিলা দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তারা আগামী দিনের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মহিলা দলের নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ